তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল, প্রার্থী লিস্টে সেলিব্রিটির সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই কম। অর্থাৎ বলা চলে এক্ষেত্রে সংযত পথেই হেঁটেছে শাসক দল। নতুন মুখের দেখা মেলেনি। বরং পুরনো প্রার্থীদের উপরেই বেশি আস্থা রাখা হয়েছে।

শেষ আপডেট: 17 March 2026 18:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচণের নির্ঘন্ট সামনে আসার বহু আগে থেকেই সাধারণের মধ্যে একটা প্রশ্ন ছিল কমন, এবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় কোন কোন টলিউড সেলিব্রিটি জায়গা করে নিতে চলেছেন? পুরোনো কারা থাকছেন, নতুন কারা যোগ দিতে চলেছেন, সেই নিয়ে নানা নাম বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছিল। অবশেষে সেই জল্পনার ইতি ঘটল মঙ্গলবার বিকেলে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামনে আনলেন তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা।
তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল, প্রার্থী লিস্টে সেলিব্রিটির সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই কম। অর্থাৎ বলা চলে এক্ষেত্রে সংযত পথেই হেঁটেছে শাসক দল। নতুন মুখের দেখা মেলেনি। বরং পুরনো প্রার্থীদের উপরেই বেশি আস্থা রাখা হয়েছে। যাঁদের নিয়ে জল্পনা ছিল— যেমন, শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় (Srabanti Chatterjee), পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chatterjee) বা ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty), পার্নো মিত্র, অঙ্কুশ হাজরা—তাঁদের কাউকেই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী করা হয়নি। ফলে তারকা চমকের যে আশা ছিল, তা বেশ খানিকটা ফিকে হয়ে গিয়েছে।
টালিগঞ্জ কেন্দ্রেও নতুন কোনও পরীক্ষা না করে, দল ভরসা রেখেছে অভিজ্ঞ নেতা অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas)-এর উপর। ব্যারাকপুর কেন্দ্রেও একই ছবি—সেখানে আবারও প্রার্থী হয়েছেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty)। তাঁর বিরুদ্ধে দলের অন্দরে তেমন কোনও অসন্তোষের খবর কখনই মেলেনি। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি সাধারণের পাশে থাকার চেষ্টা করেন বলেই দাবি করেছেন একাধিকবার। তাই এই কেন্দ্রে তাঁকেই আবারও রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
তবে এবারের তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী (Soham Chakraborty)-র ক্ষেত্রে। এতদিন তিনি যে কেন্দ্র থেকে লড়তেন, সেখান থেকে সরিয়ে তাঁকে নতুন কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে। এই বদলকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা। এবার করিমপুর থেকে প্রার্থী হলেন তিনি।
অন্যদিকে সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র নিয়ে শেষ পর্যন্ত ছিল ধোঁয়াশা। তবে সকল জটিলতা কাটিয়ে সেখান থেকে আবারও টিকিট পেয়েছেন লাভলি মৈত্র (Lovely Maitra)। যদিও তাঁর নাম বাদ পড়তে পারে বলেই একটা সময় গুঞ্জন ছিল তুঙ্গে, অবশেষে থেকে গেলেন তিনি। এই সিদ্ধান্তে বোঝা যাচ্ছে, তাঁর ওপর আস্থা হারায়নি দল। ফলে আরও একবার প্রার্থী তালিকায় নাম উঠল লাভলির।
পাশাপাশি চেনা ছবি দেখা গেল রাজারহাট গোপালপুর ও বরাহনগরে। সেখানে যথাক্রমে অদিতি মুন্সী ও সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী হিসেবে পাওয়া গেল।
অন্যদিকে, তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক (Kanchan Mullick)। সব মিলিয়ে, এবারের প্রার্থী তালিকায় শাসক দল নতুনত্বের চেয়ে স্থিতিশীলতা ও অভিজ্ঞতার উপর বেশি জোর দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অনিশ্চয়তার সময়ে পরীক্ষিত মুখদের সামনে রেখেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার কৌশল নিয়েছে দল। এখন দেখার, এই পরিকল্পনা ভোটের ময়দানে কতটা সফল হয় এবং জনসমর্থন কোন দিকে যায়।