আশির দশকে অমিতাভ বচ্চনের সমতুল্য হয়ে উঠেছিলেন এই অভিনেতা। প্রতিদিন এক লক্ষ টাকা পারিশ্রমিকে ছবি করতেন, তাঁর ছবি মানেই হাউসফুল শো।

কে সেই অভিনেতা?
শেষ আপডেট: 31 July 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অমিতাভ বচ্চনের সুপারস্টার হয়ে ওঠার গল্প অনেকেই জানেন। ‘জঞ্জির’ ছবির পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। একটা সময় পর্যন্ত একমাত্র বিনোদ খান্নাকেই পর্দায় ‘বিগ বি’র পাল্লায় টেক্কা দেওয়ার মতো অভিনেতা মনে করা হত। কিন্তু সেই সময়ই হঠাৎ বলিউড ছেড়ে আধ্যাত্মিকতার পথে পাড়ি দেন বিনোদ।
আর ঠিক তখনই হিন্দি সিনেমার আকাশে উল্কাপাতের মতো উঠে এলেন এক নাম—মিঠুন চক্রবর্তী। ‘ডিস্কো ড্যান্সার’-এর পর তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়ে যায় যে, ৮০-র দশকে বহু সিনেমা হলে পোস্টার সাঁটানো হত, “মিঠুন মানেই হাউসফুল।”
সম্প্রতি বিহারের পুরনিয়া জেলার সবচেয়ে পুরনো সিনেমা হল রূপবাণী-র মালিক বিশেখ চৌহান একটি ডিজিটাল পডকাস্টে জানালেন মিঠুনের সুপারস্টার হওয়ার অজানা কাহিনি। তাঁর কথায়, "যা-ই বলা হোক, মিঠুন চক্রবর্তী এক জীবন্ত কিংবদন্তি। একসময় উনি মাসে দুটো করে ছবি দিতেন। তাঁর ছবি মানেই ১০০ শতাংশ দর্শক।"
চৌহান মনে করিয়ে দেন, একসময় বলিউড যখন তথাকথিত ‘এলিট সিনেমা’-র দিকে ঝুঁকছিল, মিঠুন তখনও গণমানুষের সিনেমাকেই প্রাধান্য দিচ্ছিলেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০—এই সময়কালেই এত হিট ছবিতে অভিনয় করেছিলেন যে অনেকেই বলতেন, "মিঠুন অমিতাভকেও ছাপিয়ে গেছেন।"
বিশেখ চৌহান আরও এক বিস্ময়কর তথ্য জানান—মিঠুনের নিজস্ব ব্যবসায়িক কৌশলের কথা। বেশিরভাগ ছবির শুটিং হত ওটিতে, আর পুরো ইউনিট থাকত তাঁর নিজের হোটেল Monarch Hotel-এ। পরিচালক রাজীব বাব্বরের মতো প্রযোজকদের সঙ্গে মিলিয়ে, স্বল্প বাজেট, সীমিত ইউনিট এবং দ্রুত শিডিউলে শুটিং শেষ করে ফেলতেন তিনি। জানা যায়, প্রতিদিন শ্যুটিংয়ের জন্য মিঠুন পারিশ্রমিক নিতেন এক লক্ষ টাকা—সে সময় যা ছিল আকাশছোঁয়া। চুক্তি চূড়ান্ত করতেও সিনেমা হল মালিকদের ওটিতে যেতে হত।
এখনও তিনি অভিনয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেতে চলেছে বিবেক অগ্নিহোত্রীর ছবি The Bengal Files: Right to Life, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে মিঠুনকে। মে মাসে মুক্তি পেয়েছে তাঁর আরেক ছবি—Shriman vs Shrimati, একটি রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার কোর্টরুম ড্রামা।