বলিউড এই রোমান্টিক দৃশ্য উপহারই পেত না, যদি না সেদিন এসে মধ্যস্থতা করতেন স্বয়ং শাহরুখ খান।

সেই আইকনিক দৃশ্য এখনও প্রাসঙ্গিক
শেষ আপডেট: 2 November 2025 18:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সনম…' (Tuje dekha toh yeh trivia) শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সর্ষে ক্ষেতের মাঝে দৌড়ে আসা সিমরন আর তার দিকে দু’হাত মেলে দাঁড়িয়ে থাকা রাজ! বলিউডের ইতিহাস যতদিন ঘাঁটাঘাঁটি হবে, এই আইকনিক দৃশ্য (DDLJ iconic scene) ভুলবেন না মানুষ। কিন্তু খুব কম লোকেই জানেন, এই রোমান্টিক দৃশ্যের শুটিং নিয়েই তৈরি হয়েছিল জটিলতা (DDLJ trivia), কারণ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন স্থানীয় কৃষকরা। বলিউড এই রোমান্টিক দৃশ্য উপহারই পেত না, যদি না সেদিন এসে মধ্যস্থতা করতেন স্বয়ং শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan)।
‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ (Dilwale Dulhania Le Jayenge) ছবির শুটিং চলছিল নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে, তখনকার গুরগাঁও (এখনকার গুরুগ্রাম) ছিল সম্পূর্ণ কৃষিভিত্তিক এলাকা। চারপাশে শুধু চোখজুড়ানো সর্ষে খেত (musturd field), যেন হলুদ ফুলের সমুদ্র। অনেকেই হয়তো জানেন না, ঠিক এমনই এক খেতের মাঝে শুট (DDLJ shoot in musturd field) হওয়ার কথা হিল ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সনম’ (Tujhe dekha toh yeh jana sanam) গানের দৃশ্য।
কিন্তু শুটিং শুরু হতেই বাধা দিলেন স্থানীয় কৃষকরা। তাঁদের অভিযোগ, ক্রু মেম্বাররা ভুলবশত অন্যের খেতে ঢুকে পড়েছেন এবং ফসল নষ্ট করছেন।

শাহরুখ খান নিজেই পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “হরিয়ানার স্থানীয় মানুষ খুব রেগে গিয়েছিলেন। আমার মনে হয়, আমরা সবাই ভুল খেতে চলে গেছিলাম, আর ভুল করে ফসলের ক্ষতি করে ফেলেছি।”
পরিচালক আদিত্য চোপড়াও ওই একই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তাঁরা গ্রামের পঞ্চায়েতের অনুমতি নিয়েছিলেন, কিন্তু মাঠের মালিকই নাকি বিষয়টা মেনে নিচ্ছিলেন না।
ঠিক তখন আক্ষরিক অর্থেই মাঠে নামেন শাহরুখ। দিল্লির ছেলে বলে হরিয়ানভি ভাষায় দারুণ দখল তাঁর। তিনি হাসিমুখে গ্রামের মানুষদের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলেছিলেন, “থোড়া নে করনে দো ভাই, কর কে নিকল লেঙ্গে।” অর্থাৎ, “অল্প সময় লাগবে ভাই, শুট করেই চলে যাব।”
শাহরুখ আরও মজা করে বলেন, “ম্যায় ভি কিসান হুঁ। ম্যায় কেয়া হিরো লাগ রহা হুঁ তুঝে?” (আমিও তো কৃষকই, আমি কি হিরো নাকি?)

এই সোজাসাপটা, মিশুকে আচরণেই গলে যায় স্থানীয় কৃষকদের মন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরা শুটিং করতে দিতে রাজি হয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে ক্যামেরা সেট করে গানের শুট শুরু হয়। আর... বাকিটা তো ইতিহাস।
আজ শাহরুখ খান যখন আলিবাগে নিজের ৬০তম জন্মদিন উদযাপন করছেন, এই ছোট্ট ট্রিভিয়াটা মনে করিয়ে দেয়, তিনি শুধু পর্দার ‘রাজ’ নন, পর্দার বাইরেও একজন নিখাদ মানুষ, যিনি কাজের প্রতিটি মানুষকে নিজের পরিবারের মতো করে দেখেন।