বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা পরেশ রাওয়ালের হঠাৎ করে *হেরা ফেরি ৩* ছবি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া যেন এক বড়সড় ঝড় তুলে দিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে। তাঁর এই সিদ্ধান্তের জেরে এখন তাঁকে মুখোমুখি হতে হয়েছে ২৫ কোটি টাকার আইনি নোটিসের! তবে, ইনি একা নন — বলিউডে এর আগেও বহু তারকা বড় প্রোজেক্ট ছেড়ে আইনি ঝামেলায় পড়েছেন। দেখে নেওয়া যাক, ঠিক কী হয়েছিল পরেশ রাওয়ালের সঙ্গে এবং বলিউডে আর কারা পড়েছেন এমন ফাঁপরে।

এ কী গ্যাঁড়াকল
শেষ আপডেট: 21 May 2025 18:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড অভিনেতা পরেশ রাওয়ালের হঠাৎ করে ‘হেরা ফেরি ৩’ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া যেন এক বড়সড় ঝড় তুলে দিল ইন্ডাস্ট্রিতে। তাঁর এই সিদ্ধান্তের জেরে এখন তাঁকে মুখোমুখি হতে হয়েছে ২৫ কোটি টাকার আইনি নোটিসের!
তবে, ইনি একা নন — বলিউডে এর আগেও বহু তারকা বড় প্রোজেক্ট ছেড়ে আইনি ঝামেলায় পড়েছেন। দেখে নেওয়া যাক, ঠিক কী হয়েছিল পরেশ রাওয়ালের সঙ্গে এবং বলিউডে আর কারা পড়েছেন এমন ফাঁপরে।
কী ঘটেছিল পরেশ রাওয়ালের সঙ্গে?
‘বাবুরাও’ চরিত্রে যিনি দর্শকদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন, সেই পরেশ রাওয়াল ‘হেরা ফেরি ৩’-এর শুটিং চলাকালীনই নাকি হঠাৎ করেই প্রোজেক্ট ছেড়ে দেন। এই ছবির পরিচালনায় আছেন প্রিয়দর্শন, আর প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন অক্ষয় কুমার, তাঁর নিজস্ব প্রোডাকশন হাউজ ‘কেপ অফ গুড হোপ’-এর মাধ্যমে। ২০ মে, বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে আসে যে অক্ষয় কুমারের টিম পরেশ রাওয়ালকে ২৫ কোটি টাকার আইনি নোটিস পাঠিয়েছে, কারণ তিনি নাকি চুক্তি ভেঙে মাঝপথে প্রোজেক্ট ছেড়েছেন, যার ফলে প্রোডাকশন হাউজের আর্থিক এবং শিডিউল সংক্রান্ত ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কেন ছাড়লেন হেরা ফেরি ৩? পরেশের স্পষ্ট জবাব
এক সাক্ষাৎকারে পরেশ রাওয়াল জানিয়েছেন, তাঁর এই সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও আর্থিক বা সৃজনশীল মতভেদ ছিল না। বরং এটি ছিল একেবারে ব্যক্তিগত ও ‘ইনস্টিঙ্কটিভ’ সিদ্ধান্ত। ‘আমরা তিনজন (অক্ষয়, সুনীল, আমি) মিলে দুর্দান্ত কম্বিনেশন। কিন্তু এই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছে না এই প্রোজেক্টে থাকার দরকার আছে,’ — বলেন পরেশ। তিনি যোগ করেন, ‘আমি আগেও বলেছি, কখনওই ‘নেভার সে নেভার’ বলবেন না। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে না এই চরিত্রটা করা উচিত।’ X (সাবেক টুইটার)-এ এক বিবৃতিতে তিনি লেখেন — ‘এই সিদ্ধান্ত কোনও মতানৈক্যের কারণে নয়। প্রিয়দর্শনজির প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।’
হেরা ফেরি টিমের প্রতিক্রিয়া
সুনীল শেট্টি (শ্যামের চরিত্রে) বলেন, ‘এটা একটা বড়সড় ধাক্কা। আমি আমার ছেলে-মেয়ের (আথিয়া ও আহান) কাছ থেকে প্রথম শুনি। আমরা কিছুই জানতাম না।’ পরিচালক প্রিয়দর্শন জানান, ‘আমরা পরেশজিকে নিয়ে একটা প্রোমোও শুট করেছি। হঠাৎ করেই তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপারটা জানতে পারি।’ অন্যদিকে, অক্ষয় কুমার যিনি এই ফ্র্যাঞ্চাইজির অধিকার কিনেছেন, তিনি নাকি বিষয়টিকে খুবই ব্যক্তিগতভাবে নিচ্ছেন এবং ‘সাবোটাজ’ হিসেবে দেখছেন — তাই আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
বলিউডে আরও কারা পড়েছেন এই ধরণের ফাঁপরে?
সুশান্ত সিং রাজপুত
প্রযোজক বিকি রাজানি তাঁকে ‘রোমিও আকবর ওয়াল্টার’ ছবির চুক্তি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে আইনি নোটিস পাঠান। সুশান্ত নাকি ইনাসাই ভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেড.-এর সঙ্গে চুক্তি থাকা সত্ত্বেও শিডিউল আটকে দেন।

ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন
২০০৩ সালে চলতে চলতে ছবি থেকে তিনি সরে দাঁড়ান। শোনা যায়, সালমান খানের সেটে অশান্তির জেরেই এই সিদ্ধান্ত। পরে শাহরুখ খান, রানি মুখার্জিকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি
‘বোলে চুড়িয়াঁ’ ছবির সময় চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। সৃজনশীল মতানৈক্যের কথা বলে নওয়াজ ছবিটি থেকে সরে আসেন।

কঙ্গনা রানাওয়াত
‘সিমরন’ এবং ‘মণিকর্ণিকা’ — দুই ছবিতেই ছিল চরম বিতর্ক। পরিচালক ও লেখকদের সঙ্গে মতানৈক্য ও স্ক্রিপ্ট পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে দু'দিক থেকেই।

বলিউডে বড় প্রোজেক্ট মানেই বড় চুক্তি, বড় দায়। অনেক সময় ব্যক্তিগত বা সৃজনশীল কারণে অভিনেতারা সিদ্ধান্ত নেন সরে দাঁড়ানোর, কিন্তু তার পরিণতি হতে পারে বেশ কড়া—কখনও আইনি লড়াই, কখনও জনসমক্ষে সমালোচনা। পরেশ রাওয়ালের মতো একজন অভিজ্ঞ অভিনেতা কি শেষ পর্যন্ত ‘হেরা ফেরি ৩’-এ ফিরবেন? নাকি বলিউডে এই জটিলতা আরও বাড়বে? সেটা সময়ই বলবে।