ভালবাসা মানেই কি নিখুঁত বিশ্বস্ততা? নাকি কখনও কখনও, ক্ষমার ভিতরেই লুকিয়ে থাকে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা? সম্প্রতি করণ জোহর, জাহ্নবী কাপুর, কাজল, টুইঙ্কল খান্নারা এই প্রশ্নটাই তুললেন আলোচনায়।

শেষ আপডেট: 24 October 2025 15:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভালবাসা মানেই কি নিখুঁত বিশ্বস্ততা? নাকি কখনও কখনও, ক্ষমার ভিতরেই লুকিয়ে থাকে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা? সম্প্রতি করণ জোহর, জাহ্নবী কাপুর, কাজল, টুইঙ্কল খান্নারা এই প্রশ্নটাই তুললেন আলোচনায়। মঞ্চ ছিল তাঁদের জনপ্রিয় শো ‘টু মাচ’— আর আলোচনার বিষয়, বিশ্বাসঘাতকতা। মানসিক প্রতারণা নাকি শারীরিক অবিশ্বাস, কোনটা বেশি অসহনীয়?
জাহ্নবী কাপুর স্পষ্ট জানালেন— তিনি দু’ধরনের প্রতারণাকেই ঘৃণা করেন। কিন্তু প্রবীণ তারকারা যেন অন্য পথে হাঁটলেন।
টুইঙ্কল খান্না তখন মৃদু হাসিতে বললেন, “জাহ্নবী এখনও ছোট, বুঝতে পারছে না— ‘রাত গই, বাত গই’।” তাঁর মতে, বয়স বাড়লে, অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গিও পালটে যায়। কাজলও সহকর্মীর সঙ্গে একমত— শারীরিক ভুল অনেক সময় ক্ষমাযোগ্য, কিন্তু মানসিক বিচ্ছেদ নয়।
করণ জোহরও একই সুরে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, শারীরিক অবিশ্বাস সম্পর্ক শেষ করে না।” একটু মজার ছলে তিনি আরও যোগ করেন, “ঠান্ডা লেগে যায় কখনও কখনও।” উপস্থিত সবাই হেসে ওঠে, কিন্তু কথার ভিতরকার সত্যিটা নিঃশব্দে থেকে যায়— ভালোবাসা অনেক সময় যুক্তির থেকেও জটিল, এবং ক্ষমার মধ্যেই খোঁজে বেঁচে থাকার উপায়।
এই ভাবনা নতুন নয়। বছর কয়েক আগে নীতু কপূর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমি ওকে বহুবার ফ্লার্ট করতে ধরেছি। বাইরে শুটিংয়ে ওর ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডের সম্পর্কর খবর আমিই সবার আগে পাই। কিন্তু জানি, ওগুলো এক রাতের বেশি টেকে না। আমরা একে অপরের উপর এতটাই নির্ভর যে, এসব আমাদের আলাদা করতে পারে না। পুরুষদের কিছুটা স্বাধীনতা দেওয়া উচিত।”
একইসঙ্গে মাহীপ কাপুরের কথাও ওঠে। নেটফ্লিক্সের এক অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছিলেন, স্বামী সঞ্জয় কাপুর তাঁকে ঠকালে তিনি একবার সত্যিই চলে গিয়েছিলেন। “আমি শানায়াকে নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলাম। নিজের সম্মানের জন্য দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু তখন আমার এক নবজাতক সন্তান ছিল। মা হিসেবে আমার অগ্রাধিকার ওর বাবা। আমি জানতাম, সঞ্জয় একজন দারুণ বাবা। যদি সম্পর্কটা ভেঙে দিতাম, সারাজীবন আফসোস থাকত,” বলেছিলেন মাহীপ।
অভিনেতা আদিত্য পঞ্চোলির স্ত্রী জরিনা ওয়াহাবের কণ্ঠেও শোনা গিয়েছিল অন্য রকম ধৈর্যের সুর। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমি আজ পর্যন্ত কখনও ওকে জিজ্ঞেস করিনি কিছু। আমার কাছে শুধু এটুকুই জরুরি— ও যখন বাড়ি ফেরে, তখন আমার প্রতি কেমন আচরণ করে। যদি জানতেও পারতাম কিছু, তবুও প্রশ্ন করতাম না। প্রশ্ন করলে ভয় কেটে যায়, আমি চাই না সেই ভয়টা হারিয়ে যাক।”
এমনকি কিংবদন্তি দিলীপ কুমারও তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, তিনি একবার সায়রা বানুকে ঠকিয়েছিলেন। কিন্তু পরে দু’জনে মিলে সেই অধ্যায়কে “চিরকালের বিস্মৃতির অন্ধকারে” রেখে দিয়েছিলেন। ভালবাসা জয়ী হয়েছিল ভুল সরিয়ে রেখে।