গ্ল্যামার দুনিয়ায় বয়সের হিসেব যেন কিছুই না। নতুন প্রজন্মের অনেকেই আজ নিজেদের আলোয় আলোকিত। সেই তালিকায় রয়েছেন সারা সেনগুপ্ত—যিশু সেনগুপ্ত ও নীলাঞ্জনা শর্মার বড় মেয়ে।

সারা সেনগুপ্ত।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্ল্যামার দুনিয়ায় বয়সের হিসেব যেন কিছুই না। নতুন প্রজন্মের অনেকেই আজ নিজেদের আলোয় আলোকিত। সেই তালিকায় রয়েছেন সারা সেনগুপ্ত—যিশু সেনগুপ্ত ও নীলাঞ্জনা শর্মার বড় মেয়ে। ছোটবেলাতেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো, পর্দায় সহজ স্বাচ্ছন্দ্য, আর এখন ফ্যাশনের র্যাম্পে আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে, সারা ইতিমধ্যেই গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে নিজের ছাপ রেখেছেন।
কিন্তু ক্যামেরার পেছনের জীবনে ততটা উজ্জ্বলতা নেই। ব্যক্তিগত জীবনের উত্থান-পতন, মানসিক ক্লান্তি, ভাঙা সম্পর্কের তীব্রতা—সবকিছুর সাক্ষী থেকেছেন তিনি। যার কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর মা-বাবার বিচ্ছেদ।
২০২৪ সালের দিকে খবর রটে—যিশু ও নীলাঞ্জনা আলাদা থাকছেন। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, একসঙ্গে লড়ে ওঠা দিনগুলি—সবকিছুর পরও পথ দুটি আলাদা হয়ে যায়। তবে এখনও আইনিভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি তাঁদের। তবু জীবন যেন দুই দিকের ট্রেনে ছুটে চলেছে।
নীলাঞ্জনা এ সময় নিজের পরিচয়ের মধ্যেও বদল এনেছেন। নাম থেকে ‘সেনগুপ্ত’ পদবি মুছে দিয়েছেন। ফিরেছেন নিজের পিতৃপরিচয়ে—‘শর্মা’। নিজের মতো করে, নিজের পথে হাঁটছেন তিনি। দুই মেয়েকে নিয়েই এখন তাঁর ছোট সংসার। উৎসবের দিন হোক, মেয়েদের জন্মদিন—সব জায়গায় আজকাল অনুপস্থিত যিশু। সময় যেন বদলে দিয়েছে ছবির প্রতিটি ফ্রেম।
এরই মাঝে সারা’র একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি আলোড়ন তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে তিনি শেয়ার করেছেন একটি কোটেশন—‘আমি জানি তুমি ম্যানিপুলেশনের মাস্টার, আর স্বভাবসিদ্ধ মিথ্যেবাদী। কিন্তু আমার নামে ভুলেও মিথ্যে বল না, আর আমিও তোমার নামে সত্যি বলব না।’
পাশে একটি কফির মগ, সঙ্গে এক চোখ ঢাকা ইমোজি। কথাগুলো সরাসরি কার উদ্দেশে তা জানা যায়নি, কিন্তু বার্তাটি যেন কাঁপিয়ে দেয় মনকে। যেন একরাশ অব্যক্ত বেদনা মিশে আছে তাতে।
সারা’র সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ঘুরে দেখা যায়, তিনি ইতিমধ্যেই নামী দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন। কিন্তু তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল সিনেমার জগৎ থেকে—শিশুশিল্পী হিসেবে। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় ছবি ‘উমা’-তে দেখা গিয়েছিল তাঁকে, পাশে ছিলেন তাঁর বাবা যিশুও। সেই ছোট্ট মেয়েটিই আজ বড় হয়ে উঠেছে এক আত্মনির্ভর তরুণী হয়ে। মায়ের মতোই সৌন্দর্য, শালীনতা আর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। পড়াশোনা শেষে এখন সারা পা রেখেছেন মডেলিংয়ের পথে, নিজের জগৎ নিজেই গড়ে তুলছেন।
যদিও সম্পর্কের ভাঙনে কখনওই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি মা-মেয়ে কেউই। টলিপাড়ায় গুঞ্জন, যিশুর নিকট সহকারীর সঙ্গেই নাকি ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় অভিনেতার। সেই থেকেই নাকি দূরত্ব বাড়তে থাকে স্ত্রী ও দুই কন্যার সঙ্গে।
তবে নীলাঞ্জনা কখনও তিক্ত হননি। বরং, নিজের মতো করে শেখেন একা বাঁচার কৌশল। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘২০২৪ সাল আমাকে বন্ধু চিনতে শিখিয়েছে।’ কথাগুলির মধ্যে লুকিয়ে আছে এক ক্লান্ত অথচ দৃঢ় নারীর অভিজ্ঞতা। তিনি জানান, যাঁরা একসময় কথায় কথায় খোঁজ নিতেন, যাঁরা নিয়মিত বাড়ির অনুষ্ঠানে থাকতেন—এখন অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু এতে তাঁর কোনো ক্ষোভ নেই। বরং, তিনি শিখেছেন নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে, নিজের মধ্যেই শান্তি খুঁজে নিতে।
অন্যদিকে, যিশু সবসময়ই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নীরব। পরিবার বা সম্পর্ক—এসব বিষয়ে তিনি প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চান না। জীবনের এই বাঁকে, তিনটি মানুষ তিনভাবে বেঁচে রয়েছেন—একজন একা মা, যিনি সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন; একজন তরুণী, যে নিজের নামের পাশে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে চাইছে; আর একজন বাবা, যিনি আলো থেকে দূরে, নীরবতার আড়ালে হারিয়ে গেছেন হয়তো।
তবু গল্পটা কষ্টের মধ্যে শেষ হয় না। কারণ নীলাঞ্জনা ও সারা—দু’জনেই আজ দৃঢ়, আত্মমর্যাদায় উজ্জ্বল। তাদের হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে জীবন জয়ের গল্প।