‘যুদ্ধ কোনও রোমাঞ্চকর সিনেমা নয়, বলিউডের মতো গল্প নয় — যুদ্ধ মানে রক্ত, প্রাণহানি আর দীর্ঘস্থায়ী ট্রমা,’ বললেন ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ নারাভানে।

প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ নারাভানে
শেষ আপডেট: 12 May 2025 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘যুদ্ধ কোনও রোমাঞ্চকর সিনেমা নয়, বলিউডের মতো গল্প নয় — যুদ্ধ মানে রক্ত, প্রাণহানি আর দীর্ঘস্থায়ী ট্রমা,’ বললেন ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ নারাভানে। পুনেতে এক অনুষ্ঠানে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘যদি আদেশ আসে, আমি যুদ্ধ করব, কিন্তু আমার প্রথম পছন্দ হবে কূটনীতি।’
গত সপ্তাহের ঘটনাবলী তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ দিয়ে শুরু, তারপর টানা চার দিনের ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘর্ষ — আকাশপথ ও স্থলপথে — অবশেষে মিলিটারি অপারেশন বন্ধের ঘোষণার মধ্যে দিয়ে এই অধ্যায় আপাতত শেষ হয়েছে। তবে এটিকে ‘সিজফায়ার’ না ভেবে শুধুই ‘সাময়িক বিরতি’ হিসেবে দেখতে বললেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, কেন আমরা যুদ্ধ থামালাম? এর জবাব খুব সহজ — যুদ্ধের খরচ, প্রাণহানি, আর মানসিক যন্ত্রণা বিবেচনা করলে বোঝা যায়, সঠিক সিদ্ধান্ত সময়মতো নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।’
নারাভানে আরও বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানকে বুঝিয়ে দিয়েছি যে, যদি তারা সন্ত্রাসের পথেই চলে, তবে তার মূল্য দিতে হবে। আমাদের হামলা তাদের ঘাঁটি ও বিমানঘাঁটিতেও পৌঁছেছে, যার ফলে তাদের জেনারেল আমাদের ডিজিএমও-র সঙ্গে যোগাযোগ করে শান্তি আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।’
তিনি সামাজিক দিকটিকেও তুলে ধরেন। ‘শুধু সেনারা নয়, সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ, শিশু, পরিবার — যারা যুদ্ধের বলি হয় — তাদের কথা কে ভাবে? যারা স্বজন হারায়, তাদের যন্ত্রণা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলে। যুদ্ধোত্তর মানসিক ব্যাধি, PTSD — এগুলো খুবই বাস্তব সমস্যা,’ বললেন নারাভানে।
‘যুদ্ধ কোনও গৌরবের ব্যাপার নয়। এটা জীবনের বাস্তবতা, যেখানে মানুষের মৃত্যু হয়, স্বপ্ন ভেঙে যায়,’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেমন বলেছিলেন — ‘এটা যুদ্ধের যুগ নয়’ — ঠিক সেই কথাই আমি বলছি।’
তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী হিসেবে যুদ্ধের আদেশ পেলে লড়ব, কিন্তু শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে নেওয়াই হবে আমার প্রথম পছন্দ। শুধু আন্তর্জাতিক স্তরে নয়, আমাদের সমাজেও — পরিবার, রাজ্য, অঞ্চল বা সম্প্রদায় — শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সংলাপ জরুরি। হিংসা কোনও সমাধান নয়।’
সেনাবাহিনীর বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, ‘রুটি না বন্দুক — এই বিতর্ক চিরকালীন। তবে প্রতিরক্ষা খাতে ১৫ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ আমাদের ‘ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম’। যদি প্রস্তুতি থাকে, কেউ হামলা করার আগে দশবার ভাববে।’ শেষে নারাভানে বলেন, ‘ইনস্যুরেন্স দুর্ঘটনার পরে কাজে লাগে, কিন্তু সুসজ্জিত সেনাবাহিনী সেই দুর্ঘটনা ঘটতেই দেয় না — এটিই পার্থক্য।’ চমকে দিলেও, বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করালেন জেনারেল নারাভানের এই বক্তব্য — যুদ্ধ নয়, শান্তিই হোক ভবিষ্যতের পথ।