ঘটনার সূত্র পাত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে। সেই দিনেই হয় শুভ সূচনা।

পাভেল
শেষ আপডেট: 12 May 2025 15:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হেডলাইন পড়েই মনে হয়েছে নিশ্চয়ই। কেন কী কারণে শুধু মাত্র মেয়েদের সঙ্গে ছবি তুলে বেড়াচ্ছেন পরিচালক! ঘটনার সূত্র পাত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে। সেই দিনেই হয় শুভ সূচনা। ‘সেলফি উইদ ডটার ’ (Selfie with Daughter) এটা এক আন্দোলনের নাম। সমাজকর্মী সুনীল জাগলানের এক সচেতনমূলক ক্যাম্পেন। সেই ক্যাম্পেনের সঙ্গে যুক্ত হলেন পরিচালক পাভেল। বাংলায় এই উদ্যোগের নেতৃত্বে ছিলেন পরিচালক। আজ পাভেলের শুধু সিনেমা নয়, তাঁর ইউটিউব চ্যানেল Pavel O Pedia-ও তাঁকে আজ ভিন্নভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। সুনীল জাগলানের এক বড়সড় সাক্ষাৎকারও নিয়েছেন পাভেল।
কী এই সেলফি উইথ ডটার?
‘সেলফি উইথ ডটার’ একটি সচেতনতামূলক এক উদ্যোগ, যা কন্যাসন্তানের গুরুত্ব তুলে ধরতে ও লিঙ্গসমতা প্রচারে শুরু করেন সমাজকর্মী সুনীল জাগলান। এই ক্যাম্পেইনে বাবা-মায়েদের উৎসাহিত করা হয় তাঁদের মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতে, যাতে কন্যাসন্তানকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ পায় এবং সমাজে ইতিবাচক বার্তা যায়।
প্রতি বছর ৯ জুন ‘আন্তর্জাতিক সেলফি উইথ ডটার ডে’ পালিত হয়। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ বহু নেতার সমর্থন পেয়েছে এই উদ্যোগ। পরে এর লক্ষ্য ছড়িয়ে পড়ে মেয়েদের শিক্ষা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে। বর্তমানে এটি ৭০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

২০১৫ সালে হরিয়ানার বিবিপুর গ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন আজ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ৮০টিরও বেশি দেশে প্রায় ২০ লক্ষ সেলফি শেয়ার হয়েছে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকেই এসেছে ১০,০০০-এর বেশি সেলফি।
২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চেও এর সাফল্য তুলে ধরেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সেলফি এবং প্রণব মুখার্জির মোবাইল অ্যাপ উদ্বোধন এই উদ্যোগকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।
সুনীল জাগলান ও পাভেল
SF আন্দোলনের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পাভেল বলেন, ‘সুনীল জাগলানের কাজ আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। এটি শুধু একটি ক্যাম্পেইন নয়, বরং বাংলায় এক নতুন সামাজিক জাগরণের সূচনা। রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে এর সূচনা হওয়া নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।”

এই উদ্যোগের প্রবর্তক সুনীল জাগলান নিজে উপস্থিত ছিলেন শহরে। আন্দোলনের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও নেন। ইতিমধ্যেই তাঁর ৭৫টিরও বেশি সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মেয়ের জীবন বদলে দিয়েছেন। তাঁর কিছু বিখ্যাত ক্যাম্পেইনের মধ্যে রয়েছে ‘গালিবন্ধ ঘর’, ‘পিরিয়ড চার্ট ক্যাম্পেইন’ ও ‘সেলফি এগেইনস্ট ডাউরি’, যা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। শুধু পাভেলই নন, এই উদ্যোগে পাভেল পাশে পেয়েছে তাঁর স্ত্রী স্মৃতি মুখোপাধ্যাকেও যিনি ব্রতচারী বিদ্যাস্রম গার্লস হাই স্কুলের (জোকা) শিক্ষিকাও। স্মৃতি বলেন, ‘এই আন্দোলন বাংলার কন্যাদের সামনে নতুন দিশা দেখাবে। শিক্ষা ও সম্মান প্রতিষ্ঠায় এটি একটি বড় পদক্ষেপ।’যে ভাবে রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নারীশিক্ষা ও নারী-অধিকারে পথপ্রদর্শক ছিলেন, তেমনই এই আন্দোলনও তাঁদের পথ অনুসরণ করে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।