ছত্তীসগড় হাইকোর্টের ২০০৪ সালের যৌন নির্যাতন মামলার রায় ঘিরে বিতর্ক। সাজা কমানোয় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সঙ্গীত পরিচালক বিশাল দাদলানি।

বিশাল দাদলানি
শেষ আপডেট: 19 February 2026 17:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছত্তীসগড় হাইকোর্টের একটি ধর্ষণ মামলার রায় ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন সঙ্গীত পরিচালক বিশাল দাদলানি (Vishal Dadlani)। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি সরাসরি বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
কী বলেছে আদালত?
২০০৪ সালের একটি মামলায় অভিযুক্ত বাসুদেও গন্ডকে প্রথমে ধর্ষণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছিল ট্রায়াল কোর্ট। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারায় তাঁকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, ধামতরির এক তরুণীকে ভুল বুঝিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাঁকে একটি ঘরে আটকে হাত-পা বেঁধে যৌন নির্যাতন করা হয়।
তবে পরে মামলাটি পুনর্বিবেচনা করে ছত্তীসগড় হাইকোর্ট। আদালত জানায়, অভিযুক্ত যৌনাঙ্গ ভুক্তভোগীর যৌনাঙ্গের উপরে রেখেছিল এবং বীর্যপাত হয়েছিল, কিন্তু প্রবেশ (penetration) বা সম্পূর্ণ সহবাস প্রমাণিত হয়নি। মেডিক্যাল রিপোর্টেও হাইমেন অক্ষত ছিল এবং ধর্ষণের বিষয়ে চূড়ান্ত মত দেওয়া যায়নি।
এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ পরিবর্তন করে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ হিসেবে গণ্য করে। সেই অনুযায়ী সাজা কমিয়ে তিন বছর ছয় মাস করা হয় এবং ২০০ টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়।
এই রায়ের খবর প্রকাশ করে আইনি সংবাদমাধ্যম Live Law, সেই পোস্টের স্ক্রিনশট নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিশাল দাদলানি।
তিনি লেখেন, “সিরিয়াসলি! কী বলছেন! এই ধরনের রায় দেওয়া বিচারকদের নাম ও ছবি প্রকাশ করা উচিত। তাঁদের পরিবারের মানুষদেরও জানা উচিত, তাঁদের বাড়ির মানুষ কী ভাবছেন। মনে হচ্ছে কেউ যেন ‘ধর্ষকদের বাঁচাও অভিযান’ চালাচ্ছে।”
বিশালের এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই তাঁর সঙ্গে একমত হয়ে আদালতের রায়ের সমালোচনা করেন।
এই রায় নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, অভিযুক্তের কাজ ধর্ষণের সমান গুরুতর। আবার অনেকে অভিযোগ তুলেছেন, এই রায় ধর্ষণের সংজ্ঞাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচারব্যবস্থা, আইনের ব্যাখ্যা এবং নারী সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে দেশজুড়ে।