ভ্যালেন্টাইনস ডে মানেই প্রেমের উদযাপন। এই দিনে চারপাশে যখন ভালোবাসার গল্প তৈরি হয়, ঠিক তখনই এক অপ্রত্যাশিত স্বীকারোক্তি সামনে আনলেন বলিউডের পরিচিত খলনায়ক দিলীপ তাহিল।

শেষ আপডেট: 14 February 2026 18:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভ্যালেন্টাইনস ডে মানেই প্রেমের উদযাপন। এই দিনে চারপাশে যখন ভালোবাসার গল্প তৈরি হয়, ঠিক তখনই এক অপ্রত্যাশিত স্বীকারোক্তি সামনে আনলেন বলিউডের পরিচিত খলনায়ক দিলীপ তাহিল। যিনি বছরের পর বছর সিনেমায় প্রেমের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে উঠেছেন, সেই তিনিই এবার ভালোবাসার কাছেই ক্ষমা চাইলেন। Valentines week, valentine's day, dalip tahil, confession
তিনি জানালেন, এতদিন যেন ভালোবাসার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শত্রু হয়েই থেকেছেন। যখনই কোনও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তখনই তিনি হাজির হয়েছেন কঠোর অভিভাবকের ভূমিকায়। তাঁর মুখে বারবার শোনা গেছে সেই পরিচিত সংলাপ—“এই সম্পর্ক আমি মেনে নেব না।” এই সংলাপ শুধু শব্দ ছিল না, বরং অসংখ্য প্রেমের গল্পের ইতি টানার ঘোষণা ছিল।
তিনি স্বীকার করেছেন, বহুবার তিনি বিয়ের আয়োজন থামিয়েছেন। কখনও সময়ের আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্পর্ক ভেঙেছেন। কখনও প্রেমিকের আর্থিক অবস্থা যাচাই করেছেন, কখনও ক্ষমতার জোরে শূন্য চেকে সই করেছেন। পরিবারের তথাকথিত সম্মান রক্ষার নামে তিনি এমনভাবে আচরণ করেছেন, যেন ভালোবাসার কোনও মূল্যই নেই।
এই স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে তাঁর নিজের ভুলের কথাও। তিনি বলেছেন, তাঁর দীর্ঘ বক্তৃতা, মানসিক চাপ তৈরি করা, ব্ল্যাকমেইল করা এবং নানা ষড়যন্ত্র—এসবের মাধ্যমে তিনি বহু প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ক নষ্ট করেছেন। এমনকি কখনও ভয় দেখিয়েছেন, কখনও অপহরণ করেছেন, আবার কখনও আবেগের দিক থেকে তাদের ভেঙে দিয়েছেন। আজ তিনি সেই সব কাজের জন্য অনুতপ্ত এবং সরলভাবে স্বীকার করেছেন—এটা তাঁর ভুল ছিল।
তবে এই বিশেষ দিনে তিনি একটি ব্যতিক্রমী ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, আজকের রাতে ভালোবাসা নিরাপদ। কোনও গুন্ডা থাকবে না, কোনও ষড়যন্ত্র হবে না। প্রেমিক-প্রেমিকারা আজ নিশ্চিন্তে নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে পারবেন।
কিন্তু এই ক্ষমাপ্রার্থনা চিরস্থায়ী নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই ক্ষমার মেয়াদ শুধু মধ্যরাত পর্যন্ত। তারপর সবকিছু আবার আগের মতো হয়ে যাবে। তাই এই সময়ের মধ্যেই ভালোবাসাকে উপভোগ করে নিতে বলেছেন তিনি।
দিলীপ তাহিলের এই স্বীকারোক্তি আসলে তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের প্রতীক। তিনি পর্দায় অসংখ্যবার প্রেমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু এই একদিনের জন্য, সেই খলনায়কই যেন ভালোবাসার সামনে মাথা নত করলেন। হয়তো এটাই ভালোবাসার শক্তি—যা শেষ পর্যন্ত তার সবচেয়ে বড় শত্রুকেও নিজের ভুল স্বীকার করতে বাধ্য করে।