দু'পক্ষের মৌখিক বোঝাপড়ার পর বিজয় কথা দিয়েছিলেন এই সম্পর্ক শেষ করে দেবেন কিন্তু সঙ্গীতার অভিযোগ, এরপরও ওই অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছিলেন।

বিজয়-সঙ্গীতা
শেষ আপডেট: 28 February 2026 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'থালাপতি' বিজয় (Thalapathy Vijay) এবং তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতার সংসারে যে চির ধরেছে, সেই জল্পনা ছিল অনেকদিন ধরেই। সেই আশঙ্কাই কি এবার সত্যি হচ্ছে। ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবন কাটিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করেছেন সঙ্গীতা সুরলিঙ্গম (Sangeeta Sornalingam), খবর শোনা যাচ্ছে এমনটাই। স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনে চেঙ্গালপাট্টু ফ্যামিলি কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন বলেই সূত্রের খবর। আর ঠিক এই সময়েই বিজয়ের একটি পুরনো ভিডিও ইন্টারনেটে ঘুরছে (Vijay's Old Remark Goes Viral), কী এমন বলেছিলেন অভিনেতা?
২০২২ সালে পরিচালক নেলসন দিলীপ কুমারের সঙ্গে সেই পুরনো সাক্ষাৎকারে বিজয় তাঁর সঙ্গীতাকে 'কড়া সমালোচক' বলে উল্লেখ করেছিলেন (Vijay-Sangeetha)। তাঁর অভিনয়ে যেন খামতি না আসে এবং প্রতিদিনের রুটিন যাতে ঠিক থাকে তার জন্য সঙ্গীতা তাঁকে সবসময় নজরে নজরে রাখেন বলেও জানিয়েছিলেন অভিনেতা। বিজয়ের বাবা, প্রবীণ পরিচালক এসএ চন্দ্রশেখরও (SA Chandrashekhar) এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বিজয় সকলের কথা শোনে না, তবে সঙ্গীতার মতামতকে ও খুবই গুরুত্ব দেয়।
সঙ্গীতা ইতিমধ্যেই আদালতে জমা দেওয়া পিটিশনে জানিয়েছেন, ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে তিনি জানতে পারেন, বিজয়ের অন্য এক অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। এরপরই মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলেন সঙ্গীতা। প্রতারণা ও মানসিক চাপে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল।
দু'পক্ষের মৌখিক বোঝাপড়ার পর বিজয় কথা দিয়েছিলেন এই সম্পর্ক শেষ করে দেবেন কিন্তু সঙ্গীতার অভিযোগ, এরপরও ওই অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছিলেন।
২০২১-এর সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২-এর ফেব্রুয়ারি এবং ২০২৪-এর অগস্ট থেকে ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারি- দু'দফায় আইনি এবং ব্যক্তিগত পরিসরে দম্পতির আলোচনা হয়েছিল (Vijay-Sangeetha)। তবে চূড়ান্ত কোনও সমঝোতায় আসা যায়নি। সঙ্গীতার দাবি, বিজয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখন কেবল 'খাতায়-কলমে' রয়ে গেছে।
ডিভোর্স মামলায় আদালতের কাছে সঙ্গীতা চেয়েছেন-
৩০ বছরের সম্পর্কের সমাপ্তির পথে?
বিজয়-সঙ্গীতার পরিচয় হয় ১৯৯৬ সালে। সঙ্গীতা (Sangeetha Sornalingam) ছিলেন প্রবাসী ভারতীয়, দীর্ঘ সময় লন্ডনে কাটালেও তামিল পরিবারের নিয়ম-রীতি মেনেই বড় হয়েছেন। বিজয়ের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি চেন্নাইয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন- সেখান থেকেই দু'জনের সম্পর্কের শুরু।
১৯৯৮ সালে লন্ডনে এই জুটির আইনি মতে বিয়ে হয়ে। ১৯৯৯ সালে সামাজিক মতে ধুমধাম করে বিয়ে সারেন তাঁরা। তারকা দম্পতির দুই সন্তান আছে- জেসন সঞ্জয় এবং দিব্যা।
তবে এখনও পর্যন্ত বিজয় বা সঙ্গীতার তরফ থেকে কোনও বিবৃতি রাখা হয়নি। তবে আদালতে এই প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেটাই এখন দেখার। অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন পরিস্থিতি যে তাঁর অনুরাগীদের মনে ঝড় তুলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
বিজয় এখন তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তাঁর দল 'তামিলাগা ভেট্রি কাজগম' রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সভা করছে, সেখানে প্রধান বক্তা টিভিকে প্রধান বিজয়।
নতুন দল হলেও ইতিমধ্যেই টিভিকে-কে (Tamilaga Vettri Kazhagam) নিয়ে বিতর্ক হয়েছে অনেক। গত বছর সেপ্টেম্বরে কারুরে বিজয়ের জনসভায় পদপিষ্ট হয়ে ৪০ জনের মৃত্যু হয়। টিভিকে-র বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এই ঘটনাকে ঘিরে। তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। বিজয় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিল্লিতে সিবিআইয়ের সদর দফতরে হাজিরাও দিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিজয়ের সিনেমা 'জন নয়গণ'-এর (Jana Nayagana) মুক্তি নিয়েও জটিলতা রয়েছে। গত ৯ জানুয়ারি, পোঙ্গল উৎসবকে উপলক্ষ করে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল বিজয়ের এই ছবি। কিন্তু তার ঠিক আগেই সেন্সর বোর্ড জানায়, একটি অভিযোগ পাওয়ার পর সিনেমাটিকে রিভাইজিং কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। ফলে মুক্তির আগে প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ে।
এরপর জল গড়িয়েছে অনেকদূর। শেষ শুনানিতে মাদ্রাজ হাইকোর্টের (Madras High Court) ডিভিশন বেঞ্চ বিজয়ের 'শেষ' ছবির সেন্সর ছাড়পত্র সংক্রান্ত সিঙ্গেল বেঞ্চের রায় বাতিল করে দেয়। ফলে ছবি-মুক্তি অনির্দিষ্টদিনের জন্য আরও পিছিয়ে গেছে।