বিজয়ের কথায় যে দিকটি স্পষ্ট, তা হল তাঁর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তিনি জানালেন, সাধারণত তাঁর এক লাইনের উত্তর দেওয়ার একটা সুনাম আছে, কিন্তু এই সাক্ষাৎকারে তিনি খোলামেলাভাবে কথা বলেছেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 31 January 2026 10:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনৈতিক দল গঠনের পর প্রথমবার তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে (Tamilnadu Assembly Election) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয় (Actor turned Politician Vijay)। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারে জানালেন রাজনীতিতে আসার কারণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। সাম্প্রতিককালে তাঁকে ঘিরে যে সমস্ত বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়েও নিজের মত জানালেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ। টিভিকে (Tamilaga Vettri Kazhagam) প্রধান হিসেবে এটিই ছিল তাঁর প্রথম রাজনৈতিক সাক্ষাৎকার।
দল তৈরি হওয়ার কয়েকমাসের মধ্যেই কারুর বিপর্যয় (Karur stampede) এক 'কালো অধ্যায়' হয়ে রয়ে গিয়েছে। এনিয়েও কথা বলেন বিজয়। তিনি জানান, 'কারুরের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তাঁর কাছে এখনও এক ভয়াবহ স্মৃতি। সেই ঘটনার ধাক্কা থেকে এখনও পুরোপুরি বেরোতে পারেননি। এত বড় বিপর্যয় হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি।"
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে কারুরে টিভিকের মেগা সভায় (TVK Mega Rally at Karur) চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার জেরে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় কমপক্ষে ৪০ জনের। সিবিআই এই ঘটনার তদন্ত করছে। বিজয়ের সভায় ৭ ঘণ্টা দেরিতে আসা, পর্যাপ্ত খাবার, এমনকি জলের ব্যবস্থা না থাকা, মাত্রাতিরিক্ত ভিড়- এমন নানা কারণকে দায়ী করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই ঘটনায় বিজয় ইতিমধ্যেই দু'বার সিবিআই দফতরে হাজিরা দিয়েছেন।
নিজের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজয় (Vijay) জানান, তিনি কোনও দ্বিধায় নেই। কী করতে চান, তা নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা স্পষ্ট। রাজনীতিকেই এখন ভবিষ্যৎ হিসাবে দেখছেন তিনি। তবে ‘জন নয়গন’-এর মুক্তি আটকে যাওয়ায় প্রযোজকরা সমস্যায় পড়া তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে জানান, রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে তাঁর সিনেমাকে টার্গেট করা হতে পারে, এটা তিনি আগেই অনুমান করেছিলেন এবং মানসিকভাবে প্রস্তুতও ছিলেন।
বিজয়ের কথায় যে দিকটি স্পষ্ট, তা হল তাঁর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তিনি জানালেন, সাধারণত তাঁর এক লাইনের উত্তর দেওয়ার একটা সুনাম আছে, কিন্তু এই সাক্ষাৎকারে তিনি খোলামেলাভাবে কথা বলেছেন। তিনি নিজের রোল মডেল হিসেবে তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী-অভিনেতা এম জে রামচন্দ্রন এবং জয়ললিতার নাম নেন। এছাড়াও তিনি নিজেকে শাহরুখ খানেরও (Shah Rukh Khan) বড় ভক্ত বলে উল্লেখ করেন।
বিজয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনওভাবেই ‘কিংমেকার’ (Kingmaker) হতে চান না। তাঁর কথায়, “আমি জিততে এসেছি। ভিড়ই বলে দিচ্ছে কেন আমি কিংমেকার হব না।” অভিনেতা-রাজনীতিবিদের বার্তা, এবারের নির্বাচনে তিনি শুধুই নিজের উপস্থিতি জানাতে নন, বরং জয় ছিনিয়ে আনতেই নামছেন। নিজের ভক্তদের তিনি এখন সক্রিয় পার্টি কর্মীতে বদলে নিতে চান।
বিজয় বলেন, রাজনীতিতে আসা তাঁর জন্য বড় পরিবর্তন। বহু বছর তারকা থাকার পর একদম নতুন লড়াইয়ে নামা সহজ নয়। তবে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পথচলার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। অন্যদিকে, TVK-র জন্য নির্বাচন কমিশন যে ‘হুইসেল’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে, তাকে তিনি 'প্রথম জয়' এবং 'দৈব ইঙ্গিত' হিসেবে দেখছেন।