মারাঠি ও হিন্দি সিনেমায় তাঁর অনবদ্য অভিনয় তাঁকে স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি করে দিয়েছিল।

সন্ধ্যা শান্তারাম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
শেষ আপডেট: 4 October 2025 18:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি পুরুষ ভি শান্তারামের স্ত্রী সন্ধ্যা শান্তারাম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। প্রবীণ অভিনেত্রী সন্ধ্যার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। শিবাজি পার্কের বৈকুণ্ঠধামে শনিবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তিনি বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রের শিশু বয়সে সন্ধ্যা পর্দার জীবনে প্রবেশ করেন। তাঁকে প্রথম সাদাকালো পর্দায় নিয়ে আসেন তৎকালের প্রখ্যাত অভিনেতা-পরিচালক-প্রযোজক ভি শান্তারাম।
মারাঠি ও হিন্দি সিনেমায় তাঁর অনবদ্য অভিনয় তাঁকে স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি করে দিয়েছিল। অভিনয় ছাড়াও নাচে ও গানেও তিনি ছিলেন বিদূষী। অভিনয়ের পাশাপাশি সন্ধ্যা ছিলেন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একজন তালিমপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী। মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতি মন্ত্রী আশিস শেলার প্রবীণ অভিনেত্রীর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।
১৯৩৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জন্ম সন্ধ্যার। তখন নাম ছিল বিজয়া দেশমুখ। মারাঠি ছবির জন্য সন্ধ্যাকে আবিষ্কার করেন ভি শান্তারাম নিজে। অমর ভুপালি (১৯৫১) ছবিতে তাঁকে কাজ দেন। কোকিলকণ্ঠী বিজয়ার গানেই মুগ্ধ হয়ে যান সেকালের প্রযোজক-পরিচালক শান্তারাম। তাঁকে শাস্ত্রীয় গায়িকা হিসেবে চরিত্রে নায়িকা করেন। সেই থেকে বয়সে ৩৭ বছরের বড় শান্তারামের সঙ্গে প্রেম শুরু হয় সন্ধ্যার। শান্তারামের প্রথম স্ত্রী জয়শ্রী তাঁকে ছেড়ে চলে গেলে দুজনে বিয়েও করেন।
সন্ধ্যার খ্যাতি বৃদ্ধি পায় ১৯৫৫ সালে ঝনক ঝনক পায়েল বাজে সিনেমায়। এটি একটি সঙ্গীত ও নাচভিত্তিক ছায়াছবি। এই ছবিতে কথক নাচিয়ে হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। তখন কোনও তালিম ছাড়াই সহশিল্পী গোপী কৃষ্ণর কাছ থেকে নাচের শিক্ষা নেন। এই ছবিটি চারটি ফিল্মফেয়ার ও সেরা হিন্দি ছবি হিসেবে জাতীয় পুরস্কার জিতে নেয়।
এরপর তিনি শান্তারামের পরিচালনা-প্রযোজনায় বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন। যেমন- দো আঁখে বারা হাত (১৯৫৭), নবরঙ্গ (১৯৫৯)। এছাড়াও সেহরা (১৯৬৩), স্ত্রী (১৯৬১) এবং সেরা অভিনয় পিঞ্জরা (১৯৭২) নামে একটি মারাঠি ছবিতে। এই ছবিতে অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা শ্রীরাম লাগু। স্ত্রী ছবিতে সন্ধ্যা শকুন্তলার ভূমিকায় অভিনয় করেন। যেখানে তিনি ওই আমলে একটি জীবন্ত সিংহের সঙ্গে একটি দৃশ্য শ্যুট করেছিলেন। কোনও ভয়ডর ছিল না তাঁর। এছাড়া তিন বাত্তি চার রাস্তা (১৯৫৩) বেশ খ্যাতি অর্জন করেছিল।