দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগছিলেন, তাই শেষ মুহূর্তের শান্তিটুকু উপভোগ করতে চান। সেই ইচ্ছেকে সম্মান জানিয়েছিল পরিবার।

বলিউড অভিনেতা আসরানি
শেষ আপডেট: 20 October 2025 23:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিঃশব্দেই চলে যেতে চেয়েছিলেন। মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে কোনওরকম আতিশয্য না-ই বা হল, এমনটাই শেষ ইচ্ছে ছিল। মৃত্যুর খবর যখন সামনে এল, ততক্ষণে নশ্বর দেহ মিলিয়ে গিয়েছে পঞ্চভূতে।
দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগছিলেন, তাই শেষ মুহূর্তের শান্তিটুকু উপভোগ করতে চান। সেই ইচ্ছেকে সম্মান জানিয়েছিল পরিবার। দীর্ঘ রোগভোগের পর যাওয়ার বেলায় মুখে লেগে থাকা প্রশান্তি নয়, হাসিতে থাকার, মাতিয়ে রাখার রেশটুকু রেখে গেলেন আসরানি (Asrani)।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ প্রয়াত হয়েছেন বলিউডের প্রবীণ হাস্যকৌতুক অভিনেতা (Bollywood actor) গোবর্ধন আসরানি, যিনি আসরানি নামেই পরিচিত ছিলেন। পাঁচ দশক ধরে সিনেমার পর্দায় হাসি, চমক এবং কমেডির জাদু ছড়িয়ে দেওয়া এই অভিনেতা ভারতের সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে অমলিন ছাপ রেখে গেলেন।
জয়পুরের মধ্যবিত্ত এক সিন্ধি পরিবারের ছেলে আসরানি ছোটবেলা থেকে ছাত্রবেলা কেটেছে রাজস্থানেই। সেন্ট জেভিয়ার স্কুল থেকে রাজস্থান কলেজ হয়ে সোজা পুনে - ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (FTII)-তে আসা। ১৯৬০–৬২ সাল নাগাদ সাহিত্য কল্পভাই ঠাক্করের তত্ত্বাবধানে অভিনয়ের প্রাথমিক পাঠ। পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিও-তে ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। কিছু খরচ উঠে আসত নিজের।
১৯৬৭ সালে ‘হারে কাঁচ কি চুড়িয়ান’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে আসরানির। এখানে তিনি অভিনয় করেছিলেন অভিনেতা বিশ্বজিতের বন্ধুর চরিত্রে। একই সময় তিনি কিছু গুজরাটি চলচ্চিত্রে লিড রোলেও দেখা যায়।
আসরানির অভিনয় জীবন পাঁচ দশকের, অভিনয় করেছেন ৩৫০-এর বেশি ছবিতে। তবে, ১৯৭০-এর দশকে তিনি চরিত্র অভিনেতা হিসেবে চূড়ান্ত জনপ্রিয়তা পান।
আসরানি ‘শোলে’-এর তাঁর জেলারের চরিত্র দিয়ে নিজের অসাধারণ অভিনয় দক্ষতার নিদর্শন রাখা শুরু করেন। তিনি হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়, গুলজার এবং বিআর. চোপড়া-সহ বহু বিখ্যাত নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেছেন। রাজেশ খান্নার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল আসরানির। প্রায় ২৫টি ছবিতে তাঁর সঙ্গে কাজ করেন, যার মধ্যে ১৯৭২ সালের ‘বাওয়ার্চি’ তো ক্লাসিকের সম্মান পেয়েছে সিনেপ্রেমীদের কাছে।
২০০০-এর পর তিনি প্রিয়দর্শনের কমেডির ধারায় নিজেকে আবারও নতুন করে তুলে ধরেন। হেরা ফেরি, আমদানি আঠানি খরচা রুপাইয়া, বাগবান, চুপ চুপকে, ধামাল, গরম মসালা, ভুল ভুলাইয়া, বোল বচ্চন-সহ অসংখ্য ছবিতে ডায়লগ ডেলিভারির দক্ষতা এবং কমিক টাইমিং-এর জাদুতে হাসিয়ে পেটে খিল ধরিয়ে ছেড়েছেন। সম্প্রতি ২০২৩ সালে ড্রিম গার্ল ২-তেও দেখা গেছিল তাঁকে।
‘আজ কি তাজা খবর’ ও ‘নামক হারাম’ সিনেমার শুটিংয়ে দেখা হয়েছিল অভিনেত্রী মানজু বন্দসালের সঙ্গে। পরে তাঁকেই বিয়ে করেন আসরানি। এক ছেলে রয়েছে তাঁদের, নবীন আসরানি।
অভিনয়ের পাশাপাশি আসরানি লেখালেখি ও পরিচালনাতেও চেষ্টা করেছেন। ১৯৭৭ সালে ‘চালা মুরারি হিরো ব্যানে’ ছবিতে লিড চরিত্রে অভিনয়, লেখা এবং পরিচালনার দায়িত্ব নেন। পরে ‘সালাম মেমসাব’ (১৯৭৯) ও অন্যান্য ছবিতে পরিচালনার কাজ করেন।
গুজরাটি সিনেমাতেও তিনি সফল লিড চরিত্রে অভিনয় করেছেন, ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে। তাঁর বহুমুখিতা ও প্রতিভা প্রমাণ করে, আসরানি কেবল অভিনেতা নয়, সমগ্র চলচ্চিত্র শিল্পে অবদানের জন্য নিবেদিত।