শুধু চলচ্চিত্রপ্রেমীরাই নয়, সাধারণ মানুষও আজীবন উত্তমকুমারের স্মৃতিতে নস্টালজিক। জন্মশতবর্ষে তাঁকে স্মরণ করে মনোমুগ্ধকর একটি উৎসবের আয়োজন করে দিল্লি প্রবাসী বাঙালিরা।

উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর
শেষ আপডেট: 7 September 2025 23:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তমকুমার মানেই বাঙালির হৃদয়ে এক অমলিন নস্টালজিয়া। তাঁর অভিনয়শৈলী, ব্যক্তিত্ব ও ভঙ্গিমায় অনন্য এক আকর্ষণ জড়িয়ে আছে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে। শুধু চলচ্চিত্রপ্রেমীরাই নয়, সাধারণ মানুষও আজীবন উত্তমকুমারের স্মৃতিতে নস্টালজিক। তাঁকে নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই আমজনতার। জন্মশতবর্ষে তাঁকে স্মরণ করে মনোমুগ্ধকর একটি উৎসবের আয়োজন করে দিল্লি প্রবাসী বাঙালিরা।
দিল্লি বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ‘উত্তম একাই একশো’ শীর্ষক দু' দিনের উৎসবের সমাপ্ত হল রবিবার।
উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর, যিনি বাঙালি জীবনে উত্তমকুমারের উপস্থিতি ও ব্যক্তিত্বের কথা তুলে ধরেন। অভিনেত্রী বলেন, 'খুব ভাল লাগছে। দিল্লির বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশন, মুক্তধারা অডিটোরিয়াম আজ পুরোটাই উত্তমময়। ফ্লেক্স, কাট-আউট দিয়ে সাজানো।' শর্মিলা ঠাকুর আরও বলেন, 'স্বামী, প্রেমিক, সন্তান যে চরিত্রেই অভিনয় করুন না কেন—সব চরিত্রেই, সাবলীল অভিনয়। নিজস্ব স্টাইল, তারকাসুলভ গুণ ছিল উত্তমকুমারের অভিনয়ে। যাকে বলে উত্তম ক্যারিশমা।'
উত্তমকুমারের সঙ্গে অভিনয় জীবনের টুকরো টুকরো গল্প শোনান শর্মিলা। উঠে আসে বিভিন্ন ছবিতে অভিনয়ের কথা।
জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোহিনী ঘোষ মঞ্চেই শর্মিলার প্রায় এক ঘন্টার সাক্ষাৎকার নেন। পাশাপাশি কৌতূহল মেটাতে উপস্থিত দর্শকদেরও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন শর্মিলা।

অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠান ‘আমার উত্তম’ পর্বে স্মরণ করা হয় অভিনেতার অমর অভিনয় ও জনপ্রিয়তা। অনুষ্ঠানে অংশ নেন তপতী মুখার্জি, অধ্যাপক সুখেন বিশ্বাস, কবিতা ব্যানার্জি ও রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। সঞ্চালনায় ছিলেন গোপা বসু। পাশাপাশি শিলাদিত্য ভট্টাচার্য ও পিয়ালি হালদারের মনোমুগ্ধকর গান উত্তমস্মৃতিকে আরও নস্টালজিক করে দিল উপস্থিত দর্শকদের।
অ্যাসোসিয়েশনের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক রাহুল মুখার্জি জানালেন, “উত্তমকুমার অভিনীত বিভিন্ন ছবির ছোট ছোট অংশ অভিনয় করেছেন আমাদেরই সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা। অফিশিয়াল পেজে তার প্রতিক্রিয়া দেখেই বোঝা যায়, আজও বাঙালিরা কতটা উত্তম-নস্টালজিক।'
তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠান উপলক্ষে ‘ডোনার কার্ড’ ও উত্তমকুমার অভিনীত ছবির উপর ভিত্তি করে তৈরি বিশেষ ফ্রিজ ম্যাগনেট বিক্রির মাধ্যমে যে অর্থ সংগৃহীত হয়েছে, তা ব্যয় করা হবে ‘অঙ্কুর’-এর ছাত্রছাত্রীদের জন্য।
উল্লেখ্য, উৎসবে দেখানো হয়েছে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’, ‘নায়ক’, ‘জতুগৃহ’, ‘ঝিন্দের বন্দী’, ‘সপ্তপদী’ ও ‘শেষ অঙ্ক’— মোট ছয়টি ছবি। অনুষ্ঠানটি শুধু অতীতের স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করাই নয়, নতুন প্রজন্মের মাঝে উত্তমকুমারের শিল্প ও গুণের পরিচয় করানোর চেষ্টাও।
জানা গেছে, দিল্লিতে প্রায় ১৬ লাখ বাঙালির বাস। তাদের মধ্যে উত্তমকুমারের প্রতি অবিচল ভালোবাসা ও উন্মাদনা আজও স্পষ্ট। 'আমরা চাইছি আটের দশকের বাঙালিদের বড় পর্দায় ফিরিয়ে আনা। পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মকে উত্তমকুমারের ছবিব সঙ্গে পরিচিত করানো। দুর্গোৎসবের আগে মহানায়ককে নিয়ে এটি একটি বড় উৎসব।'
দিল্লির বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৌরাংশু সিংহ আরও জানালেন, 'মহানায়ক আগেও এক নম্বরে ছিলেন,
আগামী দিনেও থাকবেন। জন্মশতবর্ষের শুরুতে 'উত্তমকুমার একাই একশো' অনুষ্ঠানটিকে বলতে পারেন উত্তম ফ্যান ফেস্টিভ্যাল।'