মুম্বইয়ের এক চেনা দুপুর—২৬ জুলাই ২০২৫, অভিনেতা ও লেখক যুগল হংসরাজ তাঁর ৫৩তম জন্মদিন পালন করলেন। ছোট্ট বয়সেই ‘মাসুম’ (১৯৮৩)-এ সিলভার স্ক্রিনে তাঁর অভিষেক ঘটে, মাত্র ১০ বছর বয়সে। সেই শিশুই পরিণত হন ‘প্রেমিক’, ‘নীল চোখের নায়কের’ প্রতীক।

যুগল হংসরাজ
শেষ আপডেট: 26 July 2025 12:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ের এক চেনা দুপুর—২৬ জুলাই ২০২৫, অভিনেতা ও লেখক যুগল হংসরাজ তাঁর ৫৩তম জন্মদিন পালন করলেন। ছোট্ট বয়সেই ‘মাসুম’ (১৯৮৩)-এ সিলভার স্ক্রিনে তাঁর অভিষেক ঘটে, মাত্র ১০ বছর বয়সে। সেই শিশুই পরিণত হন ‘প্রেমিক’, ‘নীল চোখের নায়কের’ প্রতীক।
যুগলের প্রথম চাকা ঘোড়ার নীলচে আলো ছড়ানো ‘মাসুম’-এর রাহুল হয়ে প্রথম পরিচিতি। শেখর কাপুরের ছবিতে তিনি একেবারে হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিলেন, যার পরেই ‘কর্মা’, ‘সলতনৎ’–এর মতো ছবিতে চাইল্ড আর্টিস্টের ভূমিকায়। তখন থেকেই জমে গিয়েছিল তাঁর প্রতিভা।
বড় পর্দায় প্রথম নায়ক হয়ে আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৯৪ সালে ‘আ গলে লগ যা’-এ, যেখানে ছিল উর্মিলা মাতোন্ডকরের সঙ্গে রসায়ন ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও তা হিট হয়নি, কিন্তু জুগলের উপস্থিতি নজর কাড়ে। ঠিক পরের বছরে ‘পাপা কেহতে হ্যায়’-র গান ‘ঘর সে নিকলতে হি’ র জন্য দর্শক মনে রাখে তাঁকে, আজও। কিন্তু প্রকৃত আলো পেয়েছিলেন ‘মহব্বতে’ (২০০০)-এ সমীরের চরিত্রে; নীল চোখে সরল হাসি তাঁকে ভক্তদের হৃদয়ে জেঁকে বসিয়ে দেয়।
বাঁধভাঙা কাজের মধ্যে ‘কভি খুশি কভি গম’, ‘সালাম নমস্তে’, ‘আজা নাচলে’–র মতো ছবিতে ছোট-বড় ভুমিকায় সাড়া মেলেনি তাঁর। এক সময়ে প্রায় ৩৫–৪০টি ছবিতে স্বাক্ষর দিলেও অনেকটাই স্থগিত, মাঝপথেই বন্ধ কিংবা শুরুই হয়নি—এতে হতাশ হয়ে তিনি অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যান। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে অ্যানিমেটেড ‘রোডসাইড রোমিও’ ও ২০১০ সালে ‘পেয়ার ইম্পসিবল’-এ লেখক ও পরিচালক হিসেবে কাজ করেন, তবে বাণিজ্যিকভাবে তেমন সফলতা আসেনি।
এরপর এক নতুন জীবনের পথ খুলে যায়—যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পাশাপাশি ব্যবসায়ী হিসেবেও জড়িয়ে পড়লেন। করণ জোহরের ধর্মা প্রোডাকশন-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে স্ক্রিপ্ট নির্বাচনে ভূমিকা পালন করছেন। ২০১৭ সালে শিশুদের উপন্যাস ‘ক্রস কানেকশন’ প্রকাশ পায়। ২০২৫ সালে দেখা গেছে তাঁকে ‘নাদানিয়া’ ছবিতে, যেখানে তিনি অভিনয় করেছেন।
জীবনের এই পথচলায় তিনি বিরতি নিয়েছেন অবশ্যই, কিন্তু স্বপ্নের রঙ, শিল্পীর শৈলী, নতুন সম্ভাবনার প্রেম—সবই গাঁথা রয়েছে তাঁর জীবনে। অভিনয় থেকে লেখালেখি, পরিচালনা থেকে ব্যবসা, এক জীবনের রঙিন পরিসর তাঁকে আজ দাঁড় করিয়েছে এক অর্থপূর্ণ অবস্থানে। যুগল হংসরাজ—এক চেনা চেহারা যার আড়ালে লুকিয়ে ছিল বহুমাত্রিক প্রতিভা। তিনি দিনে দিনে গড়েছেন নিজস্ব গল্প, নিজস্ব স্বীকৃতি।