একটি জীবন, যা আলো ছড়াতো পর্দার বাইরে-ভিতরে, শেষমেশ হার মানল এক কঠিন লড়াইয়ের। ৩৩ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন অভিনেত্রী কেলি ম্যাক। ‘দ্য ওয়াকিং ডেড’-এ তাঁর চরিত্র অ্যাডির কথা মনে আছে? সেই সাহসী, সজীব মুখ এখন শুধুই স্মৃতি।

অভিনেত্রী কেলি ম্যাক
শেষ আপডেট: 6 August 2025 15:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি জীবন, যা আলো ছড়াতো পর্দার বাইরে-ভিতরে, শেষমেশ হার মানল এক কঠিন লড়াইয়ের। ৩৩ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন অভিনেত্রী কেলি ম্যাক। ‘দ্য ওয়াকিং ডেড’-এ তাঁর চরিত্র অ্যাডির কথা মনে আছে? সেই সাহসী, সজীব মুখ এখন শুধুই স্মৃতি।
মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে হওয়া বিরল টিউমার—গ্লিওমা-র সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে, সিনসিনাটির নিজ শহরেই শনিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কেলি। কেলি ক্লেবেনো। পরিবার এবং ঘনিষ্ঠদের সূত্রে জানা গেছে, শান্ত, কোমল ঘুমের মধ্যে দিয়েই চলে গেলেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি পোস্ট করা হয়: ‘অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি, আমাদের প্রিয় কেলি আর নেই। একটি উজ্জ্বল, তপ্ত আলো এবার মিলিয়ে গেল, সেই অনন্তের পথে, যেখানে একদিন আমাদের সকলেরই যেতে হবে।’
‘দ্য ওয়াকিং ডেড’-এর সহঅভিনেত্রী আলানা মাস্টারসনের কথায়, ‘কী অসাধারণ একজন মানুষ! শেষ এপিসোডে ওর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমি সারাজীবন মনে রাখব।’
শুধু অভিনয় নয়, কেলির জীবনে ছিল সৃজনশীলতার ছোঁয়া। ছোটবেলায় জন্মদিনে উপহার পাওয়া একটি ভিডিও ক্যামেরা থেকেই শুরু তাঁর গল্পের প্রেমে পড়া। শিশু অবস্থায় বিজ্ঞাপন দিয়ে অভিনয়ে প্রবেশ। পরবর্তীতে ‘দ্য ওয়াকিং ডেড’ ছাড়াও ‘শিকাগো মেড’, ‘নাইন ওয়ান ওয়ান’–সহ একাধিক জনপ্রিয় সিরিজে দেখা গিয়েছে তাঁকে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি প্রযোজনাও করতেন। ডক্টর পেপার, ডেইরি কুইন, চিক-ফিল-এ–র মত ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনেও তাঁর উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া।

কেলির মুখে থাকত অদ্ভুত এক প্রাণোচ্ছলতা। সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো, সকলকে ভালোবাসা দেওয়া—এই ছিল তাঁর সহজাত স্বভাব। Chapman University-র Dodge College থেকে সিনেমাটোগ্রাফিতে ডিগ্রি নিয়ে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন এক আত্মবিশ্বাসী, স্বপ্নবাজ শিল্পী হিসেবে।
কেলির রেখে যাওয়া পরিবারে রয়েছেন মা ক্রিস্টেন, বাবা লিন্ডসে ক্লেবেনো, ভাই পার্কার, বোন ক্যাথরিন, দাদু-দিদা এবং প্রেমিক লোগান ল্যানিয়ার। সবাই আজ শোকস্তব্ধ। কিন্তু এই শোকের মাঝেও তাঁদের চোখে কেলির জন্য ভালোবাসা অটুট।
কেলির জীবন যেন এক আলোকবর্তিকা—একটা ছোট্ট মেয়ের ক্যামেরা হাতে গল্প বলার স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে ওঠা, আলোয় আলোয় ছেয়ে ফেলা হাজারও পর্দা, এবং তারপর নিঃশব্দে মিলিয়ে যাওয়া সেই জ্যোতিষ্ক। কেলির চলে যাওয়া এক অপূরণীয় ক্ষতি, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া কাজ, ভালোবাসা আর অদম্য উদ্দীপনা—সবটা মিলিয়ে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।