বলিউডে এমন অভিনেত্রী খুব কমই আছেন, যিনি যুগের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে বদলে নিতে পেরেছেন আবার নিজস্ব শর্তে টিকে থেকেছেন। তব্বু, আসল নাম তাবাসসুম ফাতিমা হাশমি।

তব্বু
শেষ আপডেট: 28 June 2025 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডে এমন অভিনেত্রী খুব কমই আছেন, যিনি যুগের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে বদলে নিতে পেরেছেন আবার নিজস্ব শর্তে টিকে থেকেছেন। তব্বু, আসল নাম তাবাসসুম ফাতিমা হাশমি।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিঃশব্দে, অথচ গভীর ছাপ রেখে চলেছেন হিন্দি এবং দক্ষিণী সিনেমা জগতে। প্রতিটি চরিত্রের মধ্য দিয়ে তিনি যেন নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন নারীত্ব, সাহস আর সংবেদনশীলতা। তবে তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে অদ্ভুত এবং আকর্ষণীয় দিক হল একই নায়কের—নন্দমুরি বালাকৃষ্ণার—মা, স্ত্রী এবং প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয়, তিনটি ভিন্ন সিনেমায়।
২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চেন্নাকেশব রেড্ডি’ ছবিতে তিনি একসঙ্গে বালাকৃষ্ণার মা ও স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। ওই ছবিতে বালাকৃষ্ণা দ্বৈত চরিত্রে ছিলেন—একজন পিতা, অন্যজন পুত্র। একই ছবিতে দুই প্রজন্মের বিপরীতে কাজ করে তব্বু দেখিয়েছেন কীভাবে ভারতীয় সিনেমা প্রায়শই বয়সের ফারাক ভুলে গিয়ে গল্প বলে।
এরপর ২০০৮-এর ‘পাণ্ডুরাঙ্গাদু’ ছবিতে আবার তিনি এলেন সেই একই নায়কের প্রেমিকা রূপে। এই তিনটি চরিত্র একই অভিনেতার বিপরীতে করা নিঃসন্দেহে এক বিরল সিনেম্যাটিক ঘটনা, আর তব্বুর জন্য তা ছিল অভিনয়ের এক অদ্বিতীয় পরীক্ষা।

মাত্র ১১ বছর বয়সে ‘বাজার’ (১৯৮২) ছবিতে ছোট্ট একটি চরিত্রে পথচলা শুরু। এরপর ১৯৯১ সালে ভেঙ্কটেশের বিপরীতে ‘কুলি নম্বর ১’ তাঁর দক্ষিণী ব্রেক। হিন্দি ছবিতে অভিষেক হওয়ার কথা ছিল ‘প্রেম’-এর মাধ্যমে, কিন্তু নানা কারণে ছবিটি বিলম্বিত হয়। তাই ১৯৯৪-এ ‘পেহলা পেহলা পেয়ার’ প্রথম মুক্তি পায়। একই বছরে ‘বিজয়পথ’ ছবিতে অজয় দেবগণের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করে শুরু হয় তাঁদের দীর্ঘ দিনের অনস্ক্রিন কেমিস্ট্রি!

তব্বু মানেই যেন চরিত্রের স্তরবিন্যাস। তিনি কখনো হয়েছেন ‘মাচিস’-এর বিদ্রোহিনী ভিরান, কখনো ‘চাঁদনি বার’-এর সমাজে কোণঠাসা বার ডান্সার মুমতাজ, আবার কখনো ‘অন্ধাধুন’-এর সিমি—একজন ঠান্ডা মাথার অথচ সিজনড অপরাধী। তাঁর প্রতিটি চরিত্রই ভেঙেছে বলিউডের বাঁধাধরা নারীচরিত্রের ছাঁচ, আর সেই কারণেই তিনি বারবার প্রশংসিত হয়েছেন—দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায়।
ব্যক্তিগত জীবনের আলোচনাতেও তিনি বারবার উঠে এসেছেন। ৫৩ বছর বয়সেও তিনি অবিবাহিত, যা নিয়ে মিডিয়ার কৌতূহলের শেষ নেই। কিন্তু তব্বু এই বিষয়ে বরাবরই নির্মোহ। নিজের সম্পর্কে বলেন, “আমি একা থাকাটা পছন্দ করি। হয়ত এই কারণেই এখনো বিয়ে করিনি।” তাঁর ব্যক্তিত্বের এই স্বাধীনতাপ্রিয় দিকটাই তাঁকে আরও অনন্য করে তোলে।

ওটিটি যুগেও তব্বু যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক। ‘দৃশ্যম’, ‘কুটে’, ‘খুফিয়া’, ‘আওর দে’—প্রতিটি ছবিতেই তিনি প্রমাণ করেছেন যে পর্দার জাদু বয়স মানে না। আন্তর্জাতিকভাবে তিনি আলোচনায় আসেন ‘লাইফ অফ পাই’ ও ‘দ্য নেমসেক’-এর মাধ্যমে, আর সম্প্রতি HBO-র আলোচিত সিরিজ Dune: Prophecy-তে ‘সিস্টার ফ্রান্সেস্কা’-র চরিত্রে তাঁর সাহসী ও অভিজাত উপস্থিতি আরও একবার বিশ্বকে জানিয়ে দিল—এই নায়িকা এখনো থামেননি, থামবেনও না।
তব্বু একজন শিল্পী যিনি কেবল চরিত্র নয়, নিজের শর্তে নিজের সময়কে চিত্রিত করেছেন। মা, প্রেমিকা, স্ত্রী, গুপ্তচর, খলনায়িকা—যে যেভাবেই মনে রাখুক, তাঁকে ভুলে থাকা অসম্ভব। তিনি শুধু অভিনয় করেন না, তিনি চরিত্র হয়ে ওঠেন। আর ঠিক এই কারণেই, তিনি থাকেন সময়েরও উপরে।