১৯৬৭ সাল উত্তমকুমার সাফল্যের বছর, আবার হারানোরও বছর। উত্তমকুমার তাঁর এই জাতীয় পুরস্কার জয়কে ১৯৬৭ সালে উপভোগ করতে পারেননি।

গ্রাফিক্স শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 2 August 2025 23:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭১তম জাতীয় পুরস্কার ঘোষনায় শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেলেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। 'জওয়ান' ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেলেন তিনি। শাহরুখ নিজেই বলেছেন ১৯৯২ সাল থেকে কেরিয়ার শুরু করে ৩৩ বছর কাটল, তারপর জাতীয় পুরস্কার পেলেন। অথচ 'জওয়ান' ছবির তুলনায় আগেই আরও অনেক ছবিতে উৎকৃষ্ট মানের অভিনয় করেছেন শাহরুখ। 'স্বদেশ, 'বীরজারা', 'দিল সে', 'দেবদাস' এর মতো ছবিও করেছিলেন তিনি। শাহরুখ খান জাতীয় পুরস্কার পেলেন যখন তিনি বছরে দু একটা ছবি করেন। কিন্তু উত্তমকুমার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন তাঁর কেরিয়ারের মধ্যগগনে। যখন বছরে একাধিক সুপারহিট ছবি করছেন তিনি।
শুধু তাই নয়, উত্তমকুমার ছিলেন প্রথম জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেতা। সারা ভারতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হন উত্তমকুমার। ফিরে দেখা যাক, ৫৮ বছর আগেকার ঘটনা।

সালটা ১৯৬৭। ভারত সরকার ঠিক করল জাতীয় পুরস্কার দেওয়া শুরু করা হবে। তবে নাম তখন জাতীয় পুরস্কার ছিল না। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পেতেন ভরত পুরস্কার ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পেতেন উর্বশী পুরস্কার। প্রথম এ দুটি পুরস্কার পান বম্বের নার্গিস আর বাংলার উত্তমকুমার।
একটি নয়, দুটি ছবির জন্য একসঙ্গে ভরত পুরস্কার পান মহানায়ক। সত্যজিৎ রায়ের 'চিড়িয়াখানা' ও সুনীল বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী'। ১৯৬৭ সালেই দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছিল।
উত্তমকুমারের জাতীয় পুরস্কার পাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে দ্য ওয়ালের পক্ষ থেকে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বললেন 'আসলে 'চিড়িয়াখানা' সত্যজিৎ রায়ের ছবি ছিল বলেই এটি জাতীয় পুরস্কারে নির্বাচিত হয়। কিন্তু তখন সত্যজিৎ রায় নিজেও বলেছিলেন তাঁর সিগনেচার মার্ক এই ছবিতে নেই। পরিচালকের নামেও আড়ালে তাঁর সহকারীরা যুক্ত। জুরিদের বিচারেও 'চিড়িয়াখানা' ছিল সত্যজিতের দুর্বলতম ছবি। সে জন্য উত্তমকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে আরও যথাযোগ্য সম্মান দিতে তাঁরা সে বছরের রিলিজ 'অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী' ছবিটিকেও যোগ করেন। দুটো ছবির থেকে একসঙ্গে ভরত পুরস্কার পান উত্তমকুমার। মনে পড়ছে এই পুরস্কার নিয়ে উত্তম কাকা কলকাতা ফেরার পর গ্র্যান্ড হোটেলে পার্টি দেওয়া হয়েছিল।'

এরপরই ভানুপুত্রকে জিজ্ঞেস করলাম, উত্তমের জাতীয় পুরস্কার জয়ের পার্টিতে তাঁর রমা, সুচিত্রা সেন এসেছিলেন? গৌতম বাবু বললেন 'না। উনি নিজের ব্যাপার ছাড়া কোনও কিছুতেই যেতেন না। আমার বাবা সহ অনেক অভিনেতাই গিয়েছিলেন।'
১৯৬৭ সাল উত্তমকুমার সাফল্যের বছর, আবার হারানোরও বছর। উত্তমকুমার তাঁর এই জাতীয় পুরস্কার জয়কে ১৯৬৭ সালে উপভোগ করতে পারেননি। কলকাতায় সে বছর তাঁর একাধিক ছবি রিলিজ করছে। তখনই উত্তমের প্রথম হিন্দি ছবি 'ছোট সি মুলাকাত' মুক্তি পায় এবং সুপার ফ্লপ করে এই ছবি। এই ছবি প্রযোজনা করেছিলেন উত্তম নিজেই। তাঁর বিপরীতে বৈজয়ন্তীমালা নায়িকা। তিনিও চড়া পারিশ্রমিক নেন উত্তমের থেকে। এই ছবির হতাশাজনক ফল উত্তমকুমার মেনে নিতে পারেননি। ১৯৬৭ সালেই প্রথম হার্ট অ্যাটাক হয় উত্তমের। একদিকে টাকার লোকসান অন্যদিকে শরীরে হৃদরোগের আক্রমণ। সব নিয়ে বেসামাল হয়ে পড়েন তিনি। উত্তমকুমারকে তখন সেবা করে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন সুপ্রিয়া দেবী। যে সেবা সুপ্রিয়া উত্তমকে দিয়েছিলেন, সেজন্যই ১৯৮০ সাল অবধি এক চূড়ান্ত সফল নায়ককে আমরা পেয়েছিলাম। ১৯৭৫ সালে হিন্দি ছবি 'অমানুষ' করে বম্বেতে সুপারহিট নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন উত্তমকুমার।

বাঙালিদের কাছে চিরকালের গর্বের এই সংবাদ যে উত্তমকুমার সেই বাঙালি অভিনেতা যিনি প্রথম বারের জাতীয় পুরস্কার পান। এখানেই ম্যাটিনী আইডলের ম্যাজিক।