লেক রোড–লেক টেরেসের এক বিখ্যাত রেকর্ডিং স্টুডিওটা আগামীকাল যেন প্রস্তুত হচ্ছে এক অন্য লড়াইয়ের ময়দান হয়ে উঠতে।

কুনাল-মিঠুন
শেষ আপডেট: 25 October 2025 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লেক রোড–লেক টেরেসের এক বিখ্যাত রেকর্ডিং স্টুডিওটা আগামীকাল যেন প্রস্তুত হচ্ছে এক অন্য লড়াইয়ের ময়দান হয়ে উঠতে। সিনেমার ডাবিংয়ের স্টুডিওয় নাকি তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক উত্তেজনার মঞ্চ! কেন এই আশঙ্কা? কারণ, বালিগঞ্জের আকাশে ইতিমধ্যেই ঘনিয়ে এসেছে এক অশুভ মেঘ— যেখানে এক ছাদের নিচে মুখোমুখি হতে চলেছেন দুই পুরনো ‘দাদা’— মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty) ও কুণাল ঘোষ (Kunal ghosh)।
বিষয়ে সরাসরি আসা যাক। প্রথম প্রজাপতি ছবির বিরাট সাফল্যের পর থেকেই দর্শকরা অধীর অপেক্ষায় প্রজাপতি টু-এর জন্য। আগের মতোই এই ছবির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অভিজিৎ সেন। মুখ্য ভূমিকায় দেখা যাবে ডিস্কো কিং মিঠুন চক্রবর্তী, দেব এবং জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুকে। প্রযোজনায় অতনু রায়চৌধুরী। লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজ, নটিং হিল, কেমডেন মার্কেট— একের পর এক আইকনিক জায়গায় শুটিং শেষ হয়েছে। এখন চলছে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ। তারই গুরুত্বপূর্ণ পর্ব— ডাবিং। আর সেই ডাবিং করতেই আগামীকাল স্টুডিওয় পা রাখতে চলেছেন মিঠুন চক্রবর্তী।
কিন্তু বিপত্তি অন্যখানে। একই দিনে, একই স্টুডিওতে হাজির থাকবেন আরেক ‘দাদা’— কুণাল ঘোষ। কেন? কারণ ফিরদৌসুল হাসান প্রযোজিত এবং অরিন্দম শীল পরিচালিত কর্পূর ছবির মাধ্যমে এই প্রথম বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন রাজনীতিবিদ কুণাল। ছবির প্রথম লুক প্রকাশ পেতেই নেটদুনিয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। এবার জানা গেছে, কর্পূর-এর ডাবিংও হবে ঠিক সেই একই স্টুডিওতে।
শোনা যাচ্ছে, পাশাপাশি দুটি ঘরে চলবে দুই ছবির ডাবিং সেশন। বাইরে থেকে নিরীহ মনে হলেও পরিস্থিতি নাকি আগুন ধরিয়ে দিতে পারে মুহূর্তে! কারণ, এক সময়ের মিঠুন-কুণালের মধুর সম্পর্ক এখন তিতকুটে, প্রায় সাপে-নেউলে। দু’জনের রাজনৈতিক অবস্থান দুই মেরুতে। আর সেই দুই প্রাক্তন বন্ধু যদি একই স্টুডিওর কমন লাউঞ্জে মুখোমুখি হন, তা হলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা ভেবে চিন্তিত দুই ছবির নির্মাতারা।
সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে স্টুডিওর কাঠামো। বসার জায়গা একটাই, লাঞ্চ ব্রেকেও সকলকে একসঙ্গে বসতে হয়। ফলে অবধারিতভাবে মুখোমুখি হতে পারেন তাঁরা। আর সেটাই সবচেয়ে বড় ভয়। কারণ, গত জুলাই মাসে কুণালের নাম শুনে সাংবাদিকের বুম ছুঁড়ে ফেলার মতো উদাহরণ তৈরি করেছেন মিঠুন নিজে! অন্যদিকে কুণাল ঘোষও বারবার বাকবাণে বিদ্ধ করেছেন পদ্মশিবিরের নেতাকে। রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে তাঁদের বিবৃতিযুদ্ধের সাক্ষী থেকেছে বিনোদন দুনিয়াও। এখন তো দুই পক্ষের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমাও চলছে। মিঠুনের উকিল বিকাশ সিংয়ের চিঠির জবাবে কুণালের আইনজীবী অয়ন চক্রবর্তী দিয়েছেন কড়া উত্তর। এমনকি হাইকোর্টে মামলার শুনানিও আসন্ন।
এই অবস্থায় রবিবার একই স্টুডিওর দুই ঘরে দুই নেতার উপস্থিতি— যেন সিনেমার থেকেও নাটকীয় দৃশ্য তৈরি করে ফেলতে পারে বাস্তবে! অরিন্দম শীল বিষয়টি জানতে পেরে কুণালের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু কুণাল ঘোষ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— “আমি শিডিউল বদলাব না।” অর্থাৎ তিনি ডাবিং করতে যাবেনই।
এখন প্রশ্ন একটাই— মিঠুন কি শিডিউল বদলাবেন? নাকি সত্যিই রবিবার সেই স্টুডিওর করিডরে দেখা যাবে দুই বিরোধী শিবিরের দুই দাদাকে একসঙ্গে? ফিল্মের ডাবিং ঘর কি তবে হয়ে উঠবে রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্র? উত্তর মিলবে কাল, লেক রোডের স্টুডিওর বন্ধ দরজার ওপারে...