বাবা বললেন 'দিতে তো হবে কিন্তু সুচিত্রা তো জমিদার বাড়ির বউ! ওকে কী আর দেব! শেষ অবধি 'ইভনিং ইন প্যারিস' সেন্ট নিউ মার্কেট থেকে কিনে এনে বাবা বললেন 'সুচিত্রার জন্য এইটুকু কড়ে আঙুলের মতো সেন্ট কিনতে আমার সারা মাসের আয় খরচ হয়ে গেল।'

গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 26 August 2025 17:01
'মাসিমা মালপো খামু' ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক আইকনিক সংলাপ 'সাড়ে চুয়াত্তর' ছবিতে। যতদিন বাংলা ছবি থাকবে ততদিন এই সংলাপ বেঁচে থাকবে। যাকে দেখতে ভানুর এই মালপোয়া খেতে আসা তিনি হলেন রমা, সবাই যাকে সুচিত্রা সেন নামে চেনে। কিন্তু সুচিত্রা সেনের সঙ্গে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের পারিবারিক সম্পর্ক কেমন ছিল? ব্যক্তিগত জীবনে অন্তরালপ্রিয়া সুচিত্রা কতটা সহজ ছিলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে? দু'জনের শুরুই প্রায় একসঙ্গে। দু'জনের আদি বাড়ি ওপার বাংলায়।
সুচিত্রা সেন পাবনার মেয়ে, আর ভানু ঢাকার। দু'জনেই চলে আসেন কলকাতায়। সুচিত্রা সেন চিরকাল দাদার আসনেই বসিয়ে রেখেছিলেন তাঁর ভানুদাকে।
দ্য ওয়াল আড্ডায় ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনে এসেছিলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় ও মেয়ে বাসবী বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটক।
গৌতম বাবু বললেন 'বাবা আর সুচিত্রা সেন একসঙ্গে বম্বেতে ছবি করতে গিয়েছিলেন। সুচিত্রা সেন যান 'দেবদাস' করতে আর ভানু 'বন্দিশ'। 'বন্দিশ' ছিল 'ছেলে কার' ছবির হিন্দি রিমেক। পাঁচের দশকের শুরুর দিকে তখনও কলকাতাতে ছাপা শাড়ি ওঠেনি। বম্বেতে সবে সবে ছাপা শাড়ি উঠেছিল। সেই শাড়ি মায়ের জন্য (ভানু স্ত্রী নীলিমা দেবী) জন্য কিনে এনেছিলেন সুচিত্রা সেন। মা বাবাকে বললেন 'সুচিত্রাকে তো কিছু একটা দিতে হয়!' বাবা বললেন 'দিতে তো হবে কিন্তু সুচিত্রা তো জমিদার বাড়ির বউ! ওকে কী আর দেব! শেষ অবধি 'ইভনিং ইন প্যারিস' সেন্ট নিউ মার্কেট থেকে কিনে এনে বাবা বললেন 'সুচিত্রার জন্য এইটুকু কড়ে আঙুলের মতো সেন্ট কিনতে আমার সারা মাসের আয় খরচ হয়ে গেল।'
এই সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা সেনকে ঘিরে আরও এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এল। সাতের দশকে সুচিত্রা সেনের কাছে পেশাদার রঙ্গমঞ্চে থিয়েটার করার অফার এসেছিল।
গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন 'রঞ্জিত কাঙ্কারিয়া সুচিত্রা সেনকে 'নটী বিনোদিনী' থিয়েটার করার অফার দিয়েছিল। মহাজতি সদনে বৃহ-শনি-রবি। সব কিছু পাকা। যে অঙ্কের টাকা ওঁকে প্রতি শোতে অফার করা হয় তা ছিল সব অভিনেতার থেকে বহু গুণ বেশি। ঠিক প্রেস কনফারেন্সের আগের দিন সুচিত্রা সেন বাবাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিলেন 'ভানুবাবু থিয়েটার তো আমি কোনওদিন করিনি। থিয়েটার যাওয়া কী আমার উচিত হবে?' বাবা বলেছিলেন 'দেখুন আপনি কনফিডেন্ট কিনা? যদি আপনার না পছন্দ হয় তাহলে করবেন না।'
পাশ থেকে বাসবী বললেন 'বাবা এটাও বলেছিলেন মিসেস সেনকে, রোজ কিন্তু আপনাকে মানুষ দেখতে পাবে। সেটা কী আপনি চান?'
প্রেস কনফারেন্স আর যাননি সুচিত্রা সেন। হল না তাঁর থিয়েটার করা। কিন্তু সুচিত্রার মনে সুপ্ত ইচ্ছে চিরকাল ছিল নটী বিনোদিনী চরিত্রে অভিনয় করার। সে ইচ্ছে অপূর্ণ রয়ে গেল মহানায়িকার।