সংসার। স্বামী। সন্তান। পেশা। জীবনের এই চাররকম বিষয়কে সমানতালে সামলে চলতে পারা মহিলার উদাহরণ চারপাশে কম নেই। এভাবে সবটা সামাল দিয়ে চলাটাও সহজ নয়। তার উপর যদি পাঁচ নম্বর এসে যোগ হয়! যার নাম ‘প্রাক্তন’।

শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 17 August 2025 20:07
কবি শঙ্খ ঘোষ লিখেছিলেন, হাতের উপর হাত রাখা খুব সহজ নয়..।
সংসার। স্বামী। সন্তান। পেশা। জীবনের এই চাররকম বিষয়কে সমানতালে সামলে চলতে পারা মহিলার উদাহরণ চারপাশে কম নেই। এভাবে সবটা সামাল দিয়ে চলাটাও সহজ নয়। তার উপর যদি পাঁচ নম্বর এসে যোগ হয়! যার নাম ‘প্রাক্তন’। যার সঙ্গে পেশাগত সম্পর্কে ফিরতে হবে শুধু তা নয়, অনস্ক্রিন রোমান্সও এমনভাবে তুলে ধরতে হবে যা কানায় কানায় পরিপূর্ণ! কম চাপের? সহজ কথা?
সেজন্য কতটা পেশাদারিত্ব ও ঠান্ডা মাথার প্রয়োজন হয়, সম্প্রতি যেন দু’চোখ ভরে দেখছে সিনেপ্রেমী বাঙালি। সেই তিনি শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় (Subhashree Ganguly)। সৌজন্যে, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবি ‘ধূমকেতু’ (Dhumketu)।
এ ‘ধূমকেতু’ তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আছড়ে পড়েনি। এই ধূমকেতুর আলো দেখতে, দীর্ঘ ন’বছর ধরে অপেক্ষা করেছেন সকলে। কত ছবিই তো এমন তৈরি হয়, মুক্তির আলো দেখে না, বছরের পর বছর পড়ে থাকে, হয়তো হারিয়েও যায়। সে সব ছবি নিয়েই কি এমন অপেক্ষার কথা শোনা যায়? বড় একটা না।
কিন্তু ধূমকেতু সেসবের থেকে অনেকটা আলাদা। কারণ যাঁদের নিয়ে এই ছবি, অর্থাৎ দেব ও শুভশ্রী (Dev Subhashree), একসময়ে তাঁদের রসায়নে মুগ্ধ হয়েছিল দর্শক। শুধু পর্দার নয়, বাস্তবেও জুটি বেঁধেছিলেন তাঁরা। তাঁদের ঘিরে গড়ে উঠেছিল অনুরাগীদের অসংখ্য স্মৃতি, বোনা হয়েছিল গল্প। বাস্তবে সেসব স্মৃতি-গল্পের জাল ছিঁড়েখুঁড়ে দু’জনের পথ আলাদা হয়ে গেলেও, জুটির আবেগ যেন চাপা থেকেই গিয়েছিল জনমনে।
তাই ৯টা বছর পার করে এ ছবির যখন নবজন্মের কথা উঠল, সেই আবেগের অনুরণন আর চাপা থাকেনি। যে পর্দা বন্ধনহীন দুই গ্রন্থিকে বেঁধে দিয়েছিল, সেই পর্দাই যেন ফিরিয়ে আনল পুরনো সময়। রিলের পাশাপাশি রিয়েলেও।
পর্দার বাইরে দু’জনের পেশাগত ব্যস্ততা, নতুন প্রোজেক্ট এবং সময়ের দূরত্ব— সব ঘুচিয়ে যখন ধূমকেতুর ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে অনুরাগীদের ‘দে-শু’ আবার এক হলেন, তখন মনে হওয়াটা স্বাভাবিক, কী করে 'সেই' দেবের সঙ্গে জড়তাহীন, ছিমছাম থেকে গেলেন শুভশ্রী?
ধূমকেতু মুক্তি পেয়েছে ১৪ অগস্ট। তার আগে ছবির সাফল্য কামনায় নৈহাটির বড়মায়ের পুজোও দিতে গিয়েছিলেন দেব-শুভশ্রী। দু'জনের পরনেই টকটকে লাল পোশাক। 'রং মিলান্তি' যাকে বলে। প্রিয় জুটিকে একবারের জন্য চোখের দেখা দেখতে মন্দিরের বাইরে তখন তুমুল ভিড়। দু'জনে সিঁড়ি বেয়ে বেরিয়ে আসছেন। শুভশ্রীর আঁচল মাটিয়ে লুটিয়ে পড়তেই, দেব আলগোছে হাতে তুলে নিলেন। এই অবধি দেখতে যতটা আরাম দেয়, তার চেয়েও বেশি করে নজর কেড়ে নেয়, দেবকে পাশে নিয়ে যখন পুজোর সিঁদুরটা নোয়ায় ছুঁয়ে নিলেন রাজঘরণী। বুঝিয়ে দিলেন, তিনি যতটা পেশাদার, ততটাই সংসারী।

এই নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অগোছালো পাট ভেঙে দেব যেমন যথেষ্ট পরিণত, শুভশ্রী হয়তো তার চেয়েও বেশি কারণ এখন দুই সন্তানের মায়ের পাশাপাশি টলিউডের লেডি সুপারস্টারও হয়ে উঠেছেন। তার মধ্যেও অত্যন্ত গ্রেসফুলি গ্রহণ করে নিয়েছেন নিজের পেশাগত বাঁককে, যে বাঁকে প্রাক্তনের সঙ্গে শুধু মুখোমুখি হওয়াই নয়, সারতে হচ্ছে একের পর এক যৌথ কর্মসূচিও। প্রকাশ্যে। হাসিমুখে। খোলামনে।
এসবের মাঝেই ধূমকেতুর মতো আছড়ে পড়েছে সেই পুরনো জুটিকে পর্দায় দেখার সুযোগ। রাজ্যজুড়ে প্রবল উন্মাদনা দেখে এ প্রশ্ন মনে আসেই, সেই ৯-১০ বছর আগেই যদি কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের এই ছবি মুক্তি পেত পরিকল্পনামাফিক, তাহলেও কি অনুরাগীরা এভাবেই ভেসে যেতেন? উত্তর খুঁজতে গেলে সেই সময়টার দিকে ফিরে যেতে হবে।
২০০৯ সাল। দেব-শুভশ্রীকে দিয়ে ‘প্রেমের কাহিনি’ লেখালেন রাজ চক্রবর্তী! সেই রাজেরই পরিচালনায় মুক্তি পেয়েছিল জুটির একের পর এক ব্লকবাস্টার। ঠিক তখন থেকেই এই জুটি থেকে যুগল হয়ে ওঠার দুইয়ে দুইয়ে চার করে ফেলা হয়েছিল। শুভশ্রীর বাড়িতেও নাকি মান্যতা পেয়েছিল দু'জনের সম্পর্ক। টলিপাড়ায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল, দেব-শুভশ্রীর বিয়ে সময়ের অপেক্ষা।
কিন্তু বাস্তব তো আর কল্পনাবিলাসী নয়। সেখানে কল্পনার অঙ্ক মেলে না। তবে এমন কিছু ঘটে যায়, যা একেবারে ‘অকল্পনীয়’! তাই যে রাজ চক্রবর্তী দেব-শুভশ্রী জুটির প্রেম কাহিনি লিখেছিলেন, তিনিই ঘরণী করলেন শুভশ্রীকে!
কী হয়েছিল না হয়েছিল সেটা এই মুহূর্তে প্রাসঙ্গিক নয়। বরং সে সব পার করে এসে আলোচনা করতেই হবে, রাজ-ঘরণী শুভশ্রী দুই সন্তান সামলে যেভাবে পেশাদার জীবন কাটাচ্ছেন, দীর্ঘ বছর ধরে মুখ দেখাদেখি বন্ধ থাকার পরেও শুভশ্রী যেভাবে তাঁর 'প্রাক্তনের' সঙ্গে ছবির প্রচার চালাচ্ছেন।
ন’বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আরও একবার বড় পর্দায় ‘প্রেম’ করবেন দেব-শুভশ্রী। কিন্তু প্রশ্ন একটা থেকেই যাচ্ছে অনুরাগীদের মনে। ধূমকেতু নয় হল, আবার কি তাঁরা ফিরবেন একসঙ্গে? দেব-শুভশ্রীর ব্যক্তিজীবনের ছন্দে অন্ত্যমিল না থাকুক, বড় পর্দার দিকে তাকিয়ে স্বপ্নধোঁয়া ওড়াবে দে-শু জুটির অনুরাগীরাই। তাছাড়া, শুভশ্রী তো বলেই রেখেছেন, তাঁরা পেশাদার। ভাল চিত্রনাট্য, ভাল চরিত্র পেলে আবার একসঙ্গে কাজ করবেন বৈকি।