একটা গান, একটা মঞ্চ, আর তারপরই কটূক্তির। সেই শব্দগুলো যেন আচমকাই বদলে দিল দৃশ্যের ভাষা। টলিপাড়ার পরিচিত মুখ সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায় মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে গাইছিলেন—“আমি বাংলায় গান গাই…”।

শেষ আপডেট: 16 February 2026 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা গান, একটা মঞ্চ, আর তারপরই কটূক্তির। সেই শব্দগুলো যেন আচমকাই বদলে দিল দৃশ্যের ভাষা। টলিপাড়ার পরিচিত মুখ সুদীপ্তা বন্দ্যোপাধ্যায় মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে গাইছিলেন—“আমি বাংলায় গান গাই…”। কিন্তু হঠাৎই থেমে গেল সুর। কেউ চায় না, বাংলা ভাষা সেই মঞ্চে উচ্চারিত হোক। প্রথমে চুপ করে নেমে এলেন তিনি। মুখে কোনও প্রতিবাদ নেই, চোখে শুধু জমে থাকা অপমানের ভার। (Sudipta Banerjee, Trinamool Congress, Mamata Banerjee)
তারপর হঠাৎই বদলে গেল দৃশ্য। হঠাৎ বদলে গেল তাঁর ভেতরের মানুষটাও। তাঁর গলায় প্রতিবাদ। দৃঢ় গলায় বললেন, “তোর যে বাবা এসব শেখাচ্ছেন, তাঁর দাদুর নাম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তোর বাবাকে জিজ্ঞেস করবি… রাজা রামমোহন রায় কে ছিলেন?” তাঁর কণ্ঠে তখন শুধু সংলাপ নয়, এক আত্মপরিচয়ের ঘোষণা।
এই দৃশ্য কোনও সিনেমার অংশ নয়। এটি একটি রাজনৈতিক প্রচার ভিডিও, যা রবিবার প্রকাশ্যে আসতেই ঝড় তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওর শেষে ভেসে ওঠে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মুখ। নেপথ্যে শোনা যায় এক চ্যালেঞ্জের মতো উচ্চারণ—“বাংলায় জিতে দেখা।” আর সেই মুহূর্ত থেকেই প্রশ্নটা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে—তাহলে কি এবার সত্যিই রাজনীতির মঞ্চে নামতে চলেছেন সুদীপ্তা?
এই জল্পনার বীজ অবশ্য আজকের নয়। বহুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, তিনি তৃণমূল কংগ্রেস-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে পারেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি, আর রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এক পরিবারের সদস্য হওয়া—সব মিলিয়ে সেই সম্ভাবনা যেন ক্রমশ বাস্তবের কাছাকাছি চলে আসছিল।
সুদীপ্তার ব্যক্তিগত জীবনও এই আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর শাশুড়ি স্মিতা বক্সী, যিনি দু’বারের বিধায়ক। শ্বশুর সঞ্জয় বক্সী এবং স্বামী সৌম্য বক্সী—দু’জনেই তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ফলে রাজনীতির আবহ তাঁর কাছে নতুন নয়, বরং অনেকটাই পরিচিত এক পরিসর।
ভিডিয়োতে যে পরিস্থিতি দেখানো হয়েছে, তা বাস্তবের সঙ্গেও মিলে যায়। অতীতে একইভাবে বাংলায় গান গাওয়ার জন্য অপমানিত হতে হয়েছিল দুই জনপ্রিয় শিল্পী ইমন চক্রবর্তী এবং লগ্নজিতা চক্রবর্তী-কে। সেই স্মৃতিও যেন ফিরে এল এই ভিডিয়োতে।
তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আইডল। বরাবরই তিনি তাঁকে অনুসরণ করেন। সামনে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। যদি প্রার্থীপদ আসে? তাঁর জবাব, “দিদি যোগ্য মনে করলে অবশ্যই সেই দায়িত্ব নেওয়ার কথা ভাবব। সবটাই ওঁর উপর নির্ভর করছে।”
তবে একটি বিষয় তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—অভিনয় ছাড়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। শিল্প আর রাজনীতি—এই দুই ভুবনকে একসঙ্গে সামলানো সম্ভব কি না, তার উত্তর সময়ই দেবে।
এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। তিনি কি সত্যিই সেই পথে হাঁটবেন? নাকি এই প্রতিবাদ শুধুই এক প্রতীক হয়ে থাকবে? উত্তরটা লুকিয়ে আছে আগামী দিনের পর্দার আড়ালে।