শ্রীনন্দা বলছেন বংশগৌরব সব নয়। সেই স্টারকিডদের চিন্তা আসল। সময়ের সঙ্গে না এগোলে নাকি তাঁরা তিক্ত ও রিক্ত হয়ে পড়ছেন। কিন্তু মমতা শঙ্কর তাঁর মতে অনঢ়।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 27 July 2025 16:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমানে সবসময় শিরোনামে রয়েছেন পদ্মশ্রী মমতা শঙ্কর। নিজের রুচি, শিক্ষা, আভিজাত্য, সম্ভ্রম নিয়ে তিনি সবসময় সচেতন। কিন্তু তাঁর মানে এই নয় বংশগৌরব প্রদর্শন করতে গিয়ে তাঁর মানুষের প্রতি আন্তরিকতা কম! বর্তমান সমাজের বদলে যাওয়া সংস্কৃতি নিয়ে বারবার প্রতিবাদী কণ্ঠে সরব হয়েছেন মমতা শঙ্কর। প্রকাশ্যে চুম্বন, অবাধ যৌনতা, লাগামছাড়া নেশা থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিন সব কিছুর যথেচ্চার নিয়ে মুখ খুলেছেন মমতা। বয়স্ক বেশিরভাগ মানুষ তাঁকে সমর্থন করলেও নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কাছে মমতা হয়ে উঠেছেন নীতিপুলিশ। আজ ঘটল আর এক কান্ড। এবার পিসির বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে নাম না করে প্রতিবাদ স্টেটাস লিখলেন মমতা শঙ্করের নিজের ভাইঝি শ্রীনন্দা শঙ্কর।

আনন্দ শঙ্কর-তনুশ্রী শঙ্করের মেয়ে শ্রীনন্দা শঙ্কর তাঁর ফেসবুক পেজে জ্বালাময়ী পোস্ট করে লিখেছেন 'A general observation!
বংশগৌরব আর প্রতিভা একজন মানুষকে চেনায় না — তার চিন্তা আর বিশ্বাসই আসল। এখন আর সেই দিন নেই যখন মানুষ একজন অভিনেতাকে তার চরিত্র ভেবে নিত। তারকাদের রাগ-অভিমান এখন পুরনো হয়ে গেছে। আজকের দিনে মানুষ হিসেবে আপনি কেমন, সেটাই আসল। কিন্তু সমস্যা হল, অনেক তারকাই সময়ের সঙ্গে চলতে শেখেনি, তাই তারা বিরক্ত আর তিক্ত হয়ে পড়ে। 🙂
Legacy and talent don’t define a person — their thoughts and beliefs do. The days are gone when people used to think an actor was the same as the role they played. Star tantrums are now outdated. What truly matters today is the kind of human being you are. But the problem is, many stars haven’t learned to move with the times, so they end up bitter and frustrated. 🙂'
নেটিজেনরা শ্রীনন্দার পোস্ট পড়ে বুঝতেই পারছেন তিনি পিসি মমতা শঙ্করের বিরুদ্ধে এই কথাগুলি লিখেছেন। যাঁরা মমতা শঙ্করের বিরুদ্ধে তাঁরা সকলেই শ্রীনন্দা শঙ্করের নামে ধন্য ধন্য করছেন। শ্রীনন্দার পোস্ট থেকে আরও স্পষ্ট তাঁদের পিসি-ভাইঝির সম্পর্ক সহজ নয়। শ্রীনন্দার খোলামেলা পোশাক, সাহসী সাজগোজ বা আবেদনপূর্ণ কথাবার্তা কিছুই মমতার সঙ্গে মেলে না। যেখানে মমতা শঙ্কর বলছেন 'মেয়েদের বুকের আঁচল নিজেদের সামলে রাখা উচিত'! তখন শ্রীনন্দা নগ্ন কাঁধে বিভাজিকা শোভিতা হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ধরা দিয়েছেন বারবার।
এদিকে মমতা শঙ্কর বারবার বলেছেন ন্যাপকিনে লাল রং ঢেলে দেখানোর তিনি তীব্র বিরোধী। তাঁর মতে ছেলেদেরও তো অনেক শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার থাকে। সেগুলো কি সামনে আনা হয়? তাহলে মেয়েদের ঋতুমতী হওয়া নিয়ে কেন এত বিজ্ঞাপন হবে?
শ্রীনন্দা বলছেন বংশগৌরব সব নয়। সেই স্টারকিডদের চিন্তা আসল। সময়ের সঙ্গে না এগোলে নাকি তাঁরা তিক্ত ও রিক্ত হয়ে পড়ছেন। কিন্তু মমতা শঙ্কর তাঁর মতে অনড়।

বরং মমতা একচুল সরতে চান না তিনি তাঁর মত থেকে। মেয়েদের চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে ধূমপান, খোলামেলা পোশাক বা বিকৃত ভাষার যথেচ্চার তিনি সমর্থন করেন না। মেট্রো স্টেশনে চুম্বন নিয়েও মমতা বলেছিলেন 'আমরা কী দিনে দিনে পশুর থেকেও অধম হয়ে যাচ্ছি!' মমতার মতে তিনি তাঁর এই বার্তা সমাজকে সংস্কার করতে তিনি বারবার বলবেন। মাথার সিঁদুর, শাঁখাপলা তাঁর আসল পুজো, সাদা লাল পাড় শাড়ি তাঁর আভিজাত্য আর আন্তরিক হয়েও প্রতিবাদী হওয়া তাঁর আসল ব্যক্তিত্ব। মমতা বলেন 'বড়দের মতের সঙ্গে ছোটদের মত না মিলতেই পারে। কিন্তু বড়দের বিশেষ করে মাতৃস্থানিয়া মানুষকে এভাবে আক্রমণ করা যায় না।' যদিও ভাইঝির বিরুদ্ধে কোনদিনই মুখ খোলেননি মমতা শঙ্কর। প্রতিবারই আঁচল থেকে ঋতুস্রাব সবেতেই নাম করে পিসির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন শ্রীনন্দা।
কিন্তু মমতা শঙ্কর আর শ্রীনন্দা শঙ্কর নিয়ে ভাগ হয়ে গিয়েছে জনতা।