দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলচ্চিত্র-সঙ্গীতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এস পি ভেঙ্কটেশ শুধুই একজন সুরকার ছিলেন না—তিনি ছিলেন মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সদস্যও বটে।

শেষ আপডেট: 3 February 2026 15:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালয়ালম সঙ্গীতজগতের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান। প্রয়াত প্রখ্যাত সুরকার এস পি ভেঙ্কটেশ। মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। খবর অনুযায়ী, বুধবার চেন্নাইয়ের আলাপাক্কামে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তবে তাঁর মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলচ্চিত্র-সঙ্গীতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এস পি ভেঙ্কটেশ শুধুই একজন সুরকার ছিলেন না—তিনি ছিলেন মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সদস্যও বটে। এমন এক সময়ে তাঁর উত্থান, যখন মালয়ালম সিনেমার গান ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর নতুন পথ খুঁজছিল। সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তাঁর সুরই হয়ে উঠেছিল মাইলস্টোন।
ষাটের দশকের শেষ দিকে তাঁর সঙ্গীতযাত্রার শুরু। তখন তিনি তামিল, তেলুগু ও কন্নড় ছবির অর্কেস্ট্রায় কাজ করতেন, নীরবে তৈরি করছিলেন নিজের ভিত। বহু বছরের সেই পরিশ্রমের ফল মেলে ১৯৮১ সালে, তেলুগু ছবি ‘প্রেম যুদ্ধা’–র মাধ্যমে ইন্ডিপেনডেন্ট সুরকার হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে প্রকৃত পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা আসে মালয়ালম ছবির হাত ধরেই। আশির দশক ও নব্বইয়ের দশকে তিনি হয়ে ওঠেন অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় সুরকার।
ডেনিস জোসেফ, থাম্পি কান্ননথানাম, জোশির মতো পরিচালকদের সঙ্গে তাঁর কাজ মালয়ালম ছবির ইতিহাসে আজও স্মরণীয়। ‘রাজাভিন্তে মাকান’, ‘কিলুক্কম’, ‘জনি ওয়াকার’, ‘ধ্রুবম’, ‘ভালসল্যম’, ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘মিন্নারম’, ‘মান্নার মাথাই স্পিকিং’, ‘স্পাডিকম’—এই ছবিগুলির গান আজও শ্রোতাদের মনে জায়গা করে রেখেছে।
শুধু গান নয়, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরেও ছিল তাঁর অসাধারণ দক্ষতা। ‘নং ২০ মাদ্রাজ মেইল’, ‘দেবাসুরম’, ‘চন্দ্রলেখা’, ‘ভাঝুন্নোর’, ‘কাক্কাকুইয়িল’, ‘রানওয়ে’—এই ছবিগুলিতে তাঁর সুর গল্পের আবেগকে আরও গভীর করে তুলেছিল। ১৯৯৩ সালে ‘পৈত্রুকম’ ও ‘জনম’ ছবির জন্য তিনি অর্জন করেন কেরালা রাজ্য চলচ্চিত্র পুরস্কার।
মালয়ালমের বাইরেও তামিল, কন্নড়, হিন্দি ও বাংলা ছবিতে কাজ করেছেন এস পি ভেঙ্কটেশ। তবে ‘রাজাভিন্তে মাকান’ ছবিতে থাম্পি কান্ননথানামের সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দিই তাঁর কেরিয়ারের এক মোড় ঘোরানো অধ্যায় হয়ে থাকে—যে কাজ তাঁকে স্থায়ীভাবে পৌঁছে দেয় শ্রোতাদের হৃদয়ে।
আজ তিনি নেই, কিন্তু থেকে গেল তাঁর সুর, থেকে গেল এমন সব গান ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, যা যুগ পেরিয়েও শ্রোতাদের আবেগ ছুঁয়ে যায়। তাঁর সুরের মধ্যেই তিনি অমর হয়ে থাকবেন চিরকাল।