Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

'কে ভাল কে মন্দ', অভিনেতা সৌমিত্র খবর রাখেননি, দর্শকরা রেখেছিলেন

অভিনেতা জানতেন—নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় এক বিশেষ চ্যালেঞ্জ। তার মানবিক পূর্ণতা, তার দ্বন্দ্ব ও তীব্রতা যে কোনও শিল্পীর কাছে প্রাপ্তির। কিন্তু দর্শক-নির্মিত ভাবমূর্তি সেই সুযোগের দরজা বহু সময়েই আটকে দেয়।

'কে ভাল কে মন্দ', অভিনেতা সৌমিত্র খবর রাখেননি, দর্শকরা রেখেছিলেন

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

শুভম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: 15 November 2025 20:39

শুভম সেনগুপ্ত

‘সোনার কেল্লা’-য় ছোট্ট মুকুলের মুখে উচ্চারিত ‘দুষ্টু লোক’ শব্দবন্ধটি বাঙালির মনে আজও অমলিন। আদুরে উচ্চারণের আড়ালে সেই নিরীহ শব্দেই সত্যজিৎ রায় বুনেছিলেন বিপদের ছায়া। আসলে ‘দুষ্টু লোক’ কোনও ব্যক্তি নয়— এক মানসিকতা। আবার কোনও ব্যক্তিকে ‘দুষ্টু লোক’ ভাবাও আরেক ধরনের মানসিক ভিত। মানুষের মনই ঠিক করে দেয় কে ভাল, কে মন্দ।

এই দ্বন্দ্ব মানবজীবনের চিরন্তন সঙ্গী। শেক্সপিয়রই বলেছেন— স্বর্গ ও মর্ত্যের বহু কিছুই মানুষের ধারণার বাইরে। সুতরাং, কে ভাল বা মন্দ, তার স্থায়ী কোনও সংজ্ঞা নেই। মানুষ সময়ের সঙ্গে বদলায়, আচরণের ওঠানামা তার চরিত্রকে কখনও সুস্পষ্ট, কখনও ঝাপসা করে দেয়।

এই প্রসঙ্গে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের লিপে মনে পড়ে যেতে বাধ্য সেই চেনা-পরিচিত গান, “ভাল আর মন্দের দ্বন্দ্ব জানি না / কে ভাল কে মন্দ যে তার খবর রাখি না।” কিন্তু জনতা খবর রাখেন, মনে রাখেন। কথাগুলো 'আত্মপরিচয়'-এ লিখেছিলেন খোদ অভিনেতা।  তাঁরা চান একজন মানুষের ভাবমূর্তি—যা পর্দায় তৈরি হয়, আবার পর্দার বাইরেও ছায়া ফেলে। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ভাষায়—মানুষ আসলে “ভাঙায় গড়া”—এক ভাবমূর্তি ভাঙে, অন্যটি গড়ে।

চলচ্চিত্রের জগৎ এই ভাবমূর্তির কারখানাই যেন। দর্শকের চাহিদায় নায়ক মানেই ‘ভালো লোক’—যে মন্দ দেখে না, মন্দ করে না। অথচ নেগেটিভ চরিত্র, তার সংকট-উত্থান-পতন, মানবিক টানাপোড়েন—অভিনেতার কাছে তা-ই হয়তো সবচেয়ে আকর্ষণীয়। সেখানে থাকে উত্তরণের সম্ভাবনা, আবার অধোগতির শঙ্কাও।

বাংলা ছবির বহু নায়কই তাই সাফল্যের শীর্ষে থেকেও নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সে পথেই পা রেখেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ও। অভিনয়জীবনের একেবারে শুরুতেই তিনি পেয়েছিলেন ‘ঝিন্দের বন্দী’-তে ‘ময়ূরবাহন’-এর মতো ঝকঝকে অথচ চূড়ান্ত নেতিবাচক চরিত্র। বিস্ময় এই যে, ‘অপুর সংসার’-এর সংবেদনশীল অপুর মধ্যে থেকেই তপন সিংহ কী করে দেখেছিলেন সেই কঠিন, নির্মম চরিত্রের সম্ভাবনা!

অভিনেতা নিজে অবশ্য বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। বিপরীতে উত্তমকুমার—বাংলা ছবির উজ্জ্বলতম নায়ক—কিন্তু সে উপস্থিতি তাঁকে ভয় পাইয়ে দেয়নি; বরং এ ছিল প্রতিষ্ঠা পাবার বিরল সুযোগ। উত্তমকুমারও অকুণ্ঠে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন। দীর্ঘ দিনের এক গভীর বন্ধুত্বের শুরু হয়েছিল সে সময়ই। আজও ‘ঝিন্দের বন্দী’ বললে মানুষের মনে একই সঙ্গে ভেসে ওঠে উত্তমকুমার এবং ‘ময়ূরবাহন’—একজন বাস্তব অভিনেতা, অন্যটি অভিনীত চরিত্র।

পরে সময় বদলেছে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন, হয়ে উঠেছেন সত্যজিৎ রায়ের প্রিয় অভিনেতা। তপন সিংহ থেকে মৃণাল সেন—সবাইয়ের ছবিতে তাঁর অভিনয় চলেছে টানা। ক্রমে তিনি দর্শকের কাছে ‘ভালো মানুষ’-এর প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এমন এক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, যেখানে তাঁর চরিত্র মন্দ কিছু করতেই পারে না। যেন নায়ক মানেই নিখুঁত নৈতিকতা।

সমস্যা এখানেই। ভাবমূর্তি দর্শকের মনে এমনভাবে গেঁথে যায় যে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বহুমুখী অভিনেতাও নেগেটিভ চরিত্র করলে মানুষ অবাক হন—‘এ ভালো লোক, খারাপ কাজ করবে কী করে!’ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও সেই জট কিছুটা দেখা দিয়েছিল। ‘প্রণয়পাশা’-য় খল চরিত্রে সাফল্যের পরও বিশেষ আর এমন প্রস্তাব আসেনি।

অভিনেতা জানতেন—নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় এক বিশেষ চ্যালেঞ্জ। তার মানবিক পূর্ণতা, তার দ্বন্দ্ব ও তীব্রতা যে কোনও শিল্পীর কাছে প্রাপ্তির। কিন্তু দর্শক-নির্মিত ভাবমূর্তি সেই সুযোগের দরজা বহু সময়েই আটকে দেয়।

অবশেষে দাঁড়ায় এক গভীর সত্য—চলচ্চিত্রের নায়ক আসলে দর্শকের মনেই গড়ে ওঠে। দর্শক যাকে ‘ভালো’ ভাবতে চান, সেই ছাঁচেই তাঁকে দেখেন। আর সেই ইমেজের ভিতরেই হারিয়ে যায় মানুষের প্রকৃত ভাঙাগড়া, সত্যিকারের পরস্পরবিরোধী মানবিকতা।


```