মঞ্চ, শ্রোতার করতালি আর সুর—এসবের থেকে খানিক সরে এসে সঙ্গীতশিল্পী শোভন গঙ্গোপাধ্যায়কে দেখা গেল একেবারে অন্যভাবে। নেই স্পটলাইট, নেই মাইক্রোফোন।

শেষ আপডেট: 14 January 2026 18:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঞ্চ, শ্রোতার করতালি আর সুর—এসবের থেকে খানিক সরে এসে সঙ্গীতশিল্পী শোভন গঙ্গোপাধ্যায়কে দেখা গেল একেবারে অন্যভাবে। নেই স্পটলাইট, নেই মাইক্রোফোন।
ঘরের মেঝে, খবরের কাগজ পাতা, হাতে কুরুনি আর চোখেমুখে আনন্দ। তাঁর সুরের মাধুর্যে যাঁরা বারবার মুগ্ধ হন, তাঁরা হয়তো জানতেনই না—এই শিল্পীর আরেকটা সত্তা আছে, যে সত্তা উৎসবের দিনে সংসারের কাজে ডুবে যেতে জানে।
সম্প্রতি সেই অচেনা অথচ ভীষণ আপন মুহূর্তের সাক্ষী হলেন অনুরাগীরা। স্ত্রী সোহিনী সরকার নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভাগ করে নিলেন এক ঘরোয়া দৃশ্য। মেঝেতে বসে শোভন—চুল এলোমেলো, গায়ে সাদামাটা টি-শার্ট, পরনে হাফ প্যান্ট। সামনে খবরের কাগজ পাতা, হাতে কুরুনি। নারকেল কোরাচ্ছেন তিনি। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, পৌষ সংক্রান্তির পিঠে-পুলি বানানোর তোড়জোড় চলছে পুরোদমে। নেপথ্যে ভেসে আসছে ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘তুম কেয়া মিলে’। ঘরের ভিতর সেই সুর আর কাজের ছন্দ মিলেমিশে তৈরি করেছে প্রেমের আবহ।
সোহিনীর রান্নার গুণ নিয়ে শোভনের প্রশংসা নতুন কিছু নয়। তিনি বহুবার খোলাখুলিই বলেছেন, স্ত্রীর হাতের প্রায় সব রান্নাই তাঁর কাছে সমান প্রিয়। সুযোগ পেলেই তিনি গর্বের সঙ্গে জানিয়েছেন, সোহিনীর রান্নাতেই তিনি খুঁজে পান সবচেয়ে বেশি স্বস্তি আর ভালবাসার স্বাদ। কিন্তু এবার যেন গল্পটা উল্টো দিকে ঘুরে গেল। পিঠে-পুলি বানিয়ে খাওয়ানোর দায়িত্ব নিজেই তুলে নিলেন শোভন। নারকেল কোরার কাজ শুরু করে দিলেন নিজের হাতে। স্বামীর এই আন্তরিক উদ্যোগে সোহিনীর যে মন ভরে গিয়েছে, তা তাঁর শেয়ার করা মুহূর্তেই স্পষ্ট।
২০২৩ সালে ভালবাসার শুরু। যদিও প্রথমদিকে সেই সম্পর্ক ছিল আড়াল করা। একসঙ্গে বেড়াতে গেলেও তাঁরা সচেতনভাবেই এক ফ্রেমে ধরা দেননি। তবু আলাদা আলাদা ছবির পটভূমি বলছিল অন্য কথা—একই বরফে মোড়া দৃশ্য। কখনও সেখানে শোভন, কখনও সোহিনী। ছবি না বললেও ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল।
১৯৭২ সালের জনপ্রিয় ছবি ‘শোর’-এর অমর গান ‘এক প্যায়ার কা নগমা হ্যায়’ গেয়ে অনুরাগীদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুললেন তিনি। গানটা কাকে উদ্দেশ করে? ঠিক কার সামনে দাঁড়িয়ে সেই সুর? প্রশ্নের ভিড় জমতে লাগল। মাঝেমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে আবার মুছে ফেলতেন দু’জনেই। রহস্য বাড়ত, কিন্তু তাঁদের রসায়ন লুকিয়ে রাখা যেত না।
শেষ পর্যন্ত আর গোপন থাকেনি সেই ভালবাসা। ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু হল সম্পর্কের প্রকাশ্য উদযাপন। ২০২৪ সালে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বিয়ে সেরে ফেললেন সোহিনী আর শোভন। বড় আড়ম্বর নয়, আলো ঝলমলে প্রদর্শন নয়—শান্ত, ব্যক্তিগত, আপন এক সিদ্ধান্তে বাঁধা পড়ল তাঁদের জীবন।