ক্রিকেটার স্মৃতি মন্ধানা আর সুরকার পলাশ মুচ্ছল (Smriti Mandhana Palaash Muchhal wedding) —বলিউড আর ভারতীয় ক্রিকেটের এই বহুচর্চিত প্রেমকাহিনি শেষ পর্যন্ত সাত পাকে বাঁধা পড়বে তো?

সব মিলিয়ে জল্পনার আগুন
শেষ আপডেট: 26 November 2025 00:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রিকেটার স্মৃতি মন্ধানা আর সুরকার পলাশ মুচ্ছল (Smriti Mandhana Palaash Muchhal wedding) —বলিউড আর ভারতীয় ক্রিকেটের এই বহুচর্চিত প্রেমকাহিনি শেষ পর্যন্ত সাত পাকে বাঁধা পড়বে তো? রবিবার সন্ধের আগেই সব কিছু ঠিকঠাক ছিল। সঙ্গীত, হলদি, মেহেন্দি—সাঙ্গ হয়েছে সব। সাঙ্গলী শহরে ছিল সাজ সাজ রব। ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের প্রায় সকলেই হাজির। পলাশের পরিবার–বন্ধুরাও। ঠিক সেই সময়েই আকাশে জমল কালো মেঘ। যেন ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির ছাই মেঘের মতোই অজানা অস্থিরতা নেমে এল মন্ধানা পরিবারে।
হঠাৎ অসুস্থ স্মৃতির বাবা, থমকে গেল বিয়ে
রবিবার দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন স্মৃতির বাবা শ্রীনিবাস মন্ধানা। বুকে ব্যথা, হৃদরোগের মতো উপসর্গ দেখা যায়। তড়িঘড়ি অ্যাম্বুল্যান্স ডেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সাঙ্গলীর সর্বহিত হাসপাতালে। স্মৃতির ম্যানেজার তুহিন মিশ্র জানান, “স্মৃতি বাবার সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তিনি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কোনও অনুষ্ঠান হবে না।” এভাবেই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয় বহু প্রতীক্ষিত স্মৃতি–পলাশের বিয়ে।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়—পলাশও হাসপাতালে!
রবিবার সন্ধেয় আরও বড় চমক যেন অপেক্ষা করেছিল। বিয়ে পিছিয়ে যেতেই সাঙ্গলী থেকে মুম্বইয়ে ফেরেন পলাশ। তার পর পলাশ মুচ্ছল নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রচণ্ড মানসিক চাপ, ক্লান্তি—এমনকি তিনি চার ঘণ্টা ধরে কেঁদেছেন—এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর মা অমিতা মুচ্ছল। তিনি বলেন, “স্মৃতির বাবার সঙ্গে পলাশের সম্পর্ক অবিশ্বাস্য রকম গভীর। বাবা অসুস্থ হতেই পলাশই প্রথম সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে হওয়া উচিত নয় এখনই।” গোরেগাঁওয়ের হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। স্যালাইন, ইসিজি—সব পরীক্ষাই স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু পলাশের পরিবার জানায় মানসিক চাপ প্রচণ্ড, তাতেই অসুস্থ বোধ করছে ছেলে।
পালক মুচ্ছলের বিবৃতি: গোপনীয়তার অনুরোধ
সোমবার সকালে পলাশের বোন গায়িকা পালক মুচ্ছল ইনস্টাগ্রামে লেখেন—“স্মৃতির বাবার অসুস্থতার কারণে বিয়ে আপাতত স্থগিত। পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষা করুন।”
স্মৃতি সব ছবি ডিলিট করলেন—বড় গুঞ্জন শুরু
সোমবার সন্ধের পর পরিস্থিতি আরও জটিল ও সন্দেহজনক হয়। স্মৃতি তাঁর ইনস্টাগ্রাম থেকে এনগেজমেন্ট, হলদি, সঙ্গীত—সব ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলেন। শুধু স্মৃতি নয়, জেমিমা রদ্রিগেজসহ সতীর্থরাও ডিলিট করেছেন প্রি-ওয়েডিং ভিডিও। এতেই জল্পনা বেড়েছে বহুগুণ।
– তাহলে কি শুধুই অসুস্থতা?
– না কি সম্পর্কেই কোনও ফাটল?
– বিয়ে কি সত্যিই হবে?
কু-নজর? সোশ্যাল মিডিয়া তত্ত্ব
নেকেই বলছেন—“এটা কু-নজরের ফল! এত ছবি, এত ভিডিও আগে পোস্ট করলে এমনই হয়।” এই ব্যাখ্যায় ভেসে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া।
অন্যদিকে আরও ভয়াবহ গুঞ্জন—চ্যাট লিক, সম্পর্কের ভাঙন?
অনলাইনে ছড়িয়েছে কিছু অস্তিত্বহীন বা যাচাই-বাছাইহীন স্ক্রিনশট—যেখানে দাবি করা হচ্ছে, পলাশ নাকি এক ‘মেরি ডিকোস্টা’ নামের মহিলার সঙ্গে কথোপকথনে ঘনিষ্ঠ আচরণ করেছেন। এমনকি সমুদ্রের ধার দিয়ে হাঁটা, স্পা, সুইমিংয়ে—এমন আমন্ত্রণের কথাও দেখা যাচ্ছে কথোপকথনে। এসবের সত্যতা দ্য ওয়াল যাচাই করেনি। তবে এটা ঠিক যে, পরপর পোস্ট ডিলিট হওয়ায় সন্দেহ জোরদার হচ্ছে মাত্র।

পলাশের পুরনো বান্ধবী
আরও এক প্রস্ত গুঞ্জন ছড়িয়েছে পলাশের অতীত প্রেমিকা বীরভা শাহকে নিয়েও। পুরনো প্রপোজাল ভিডিও, ছবি—সবই আবার ভাইরাল।

দুই পরিবার এখন নীরব, কিন্তু জল্পনা চরমে
এই মুহূর্তে—স্মৃতির বাবা সাঙ্গলীর হাসপাতালে রয়েছে। পলাশ রয়েছেন মুম্বইয়ে। দুই পরিবারের কেউই নতুন কোনও ঘোষণা করেননি। বিয়ের পরবর্তী তারিখও অনিশ্চিত।
চার হাত এক হবে তো?
একদিকে দু’জনেরই মানসিক–শারীরিক চাপ, অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার বিস্ফোরক গুঞ্জন। চারদিকে প্রশ্ন—এই অশান্তির মেঘ কাটিয়ে কি স্মৃতি মন্ধানা আর পলাশ মুচ্ছল আবার বিয়ের প্রস্তুতিতে ফিরতে পারবেন? ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির ছাই যেমন হঠাৎ আকাশ ঢেকে ফেলেছিল, তেমনই আকস্মিক অন্ধকার নেমে এসেছে এই সেলিব্রিটি দম্পতির ভবিষ্যৎ ঘিরে। অনেকেই বলছেন—মেঘ কেটে গিয়ে রোদ উঠুক, আবার শুরু হোক বিয়ের সুর। কিন্তু সেই দিনটা আদৌ আসবে তো?