প্রথম অভিনয় করার অফার পেয়েছিলাম দু দশক আগেই স্বয়ং পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের কাছ থেকে। 'শুভ মহরৎ' ছবিতে ঋতুদা আমাকে বড় চরিত্রে অভিনয় করার অফার দিয়েছিলেন।

গ্রাফিক্স দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 25 September 2025 19:47
'কালী নামে দাও রে বেড়া
ফসলে তছরূপ হবে না
সে যে মুক্তকেশীর শক্ত বেড়া
তার কাছেতে যম ঘেঁষে না
মন রে কৃষিকাজ জানো না।'
অরিজিং সিংএর কণ্ঠে এই গান নতুন প্রজন্মের কাছে রীতিমতো ভাইরাল এ যুগে। তবে এই গান বহু আগেই শ্যামাসঙ্গীত লেজেন্ড পান্নালাল ভট্টাচার্য ও ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যর কণ্ঠে কালজয়ী। এই গানের আসল স্রষ্টা হলেন কালীসাধক রামপ্রসাদ সেন। সাধক কবির নামেই রামপ্রসাদী গানের জন্ম।
যে রামপ্রসাদ সেনের ভূমিকায় এবার অভিনয় করলেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী মনোময় ভট্টাচার্য। এই পুজোয় মুক্তি পাওয়া শুভ্রজিৎ মিত্রর 'দেবী চৌধুরানী' ছবিতে রামপ্রসাদ সেনের চরিত্রে অভিনয় করে মনোময় কতখানি সমৃদ্ধ তা জানালেন এই প্রথম দ্য ওয়ালে।

মনোময় অভিনয় করার অফার কী এই প্রথম এল আপনার কাছে?
না। প্রথম অভিনয় করার অফার পেয়েছিলাম দু দশক আগেই স্বয়ং পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের কাছ থেকে। 'শুভ মহরৎ' ছবিতে ঋতুদা আমাকে বড় চরিত্রে অভিনয় করার অফার দিয়েছিলেন। কিন্তু আমার প্যাশন চিরকাল গানের প্রতি। অভিনয় করবার ইচ্ছে খুব একটা ছিল না কোনওদিন। তাই ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবি ফিরিয়ে দিই। তবে ঋতুদার 'শুভ মহরৎ' ছবিতে আমি প্লেব্যাক করেছিলাম। আমার গাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত 'জীবনমরণের সীমানা ছাড়ায়ে, বন্ধু হে আমার, রয়েছ দাঁড়ায়ে' আজও মানুষ মনে রেখেছেন।

ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবিতে অভিনয় করার জন্য সবাই মুখিয়ে থাকে, কিন্তু আপনি ছেড়ে দিলেন। তাহলে শুভ্রজিৎ মিত্রর ছবিতে অভিনয় করলেন কেন?
ঋতুদার 'শুভ মহরৎ' ছবিতে আমার রোলটা অনেক বড় ছিল। অনেকদিন শুটিং শিডিউল ছিল। প্রথমত আমি তো পেশাদার অভিনেতা নই। আর দ্বিতীয়ত পেশাদার গায়ক হয়ে অতদিন শুটিং করাও সময় ছিল না। শুভ্রজিৎ মিত্রর ছবিতে কাজ করার জন্য যে প্রথমে আমি রাজি ছিলাম তা নয়। শুভ্রজিতের আমার শ্যামাসঙ্গীত কোথাও শুনে খুব ভাল লেগেছিল। শুভ্রজিৎ বলেছিল 'রামপ্রসাদ সেনের পটচিত্রের সঙ্গে আমার চেহারার খুব মিল আছে।' আমি খুব দ্বন্দ্বে ছিলাম করব কী করব না। শেষ অবধি রাজি হই। রামপ্রসাদের চরিত্র কিছুক্ষণের জন্য হলেও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ। আর দুটি রামপ্রসাদী সঙ্গীত আমি নিজের কণ্ঠেই গেয়েছি। গানের সঙ্গে অভিনয় করতে খুব একটা অসুবিধে হয়নি।

'দেবী চৌধুরানী' ছবিতে রামপ্রসাদের ভূমিকায় অভিনয় করার অভিজ্ঞতা?
ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে আমাদের শুটিং হয়। ভবানী পাঠক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও দেবী চৌধুরানী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিনয় করা ভাল একটা অভিজ্ঞতা। বুম্বাদা আমায় অভিনয় করতে ভীষণ সহযোগিতা করেছেন। মেকআপ নিয়ে বলব, আমার তো দাড়ি আছেই তারওপর ফলস দাড়ি, আরও মাথায় চুল সঙ্গে লাল বস্ত্রে সাধক রামপ্রসাদ হয়ে ওঠা একটা লাইফটাইম অভিজ্ঞতা।
কোন দুটো গান গেয়েছেন আপনি ছবিতে?
আমি নিজের লিপেই ছবিতে দুটি রামপ্রসাদী গান গেয়েছি 'দে মা তবিলদারি' আর 'মন রে কৃষিকাজ জানো না'। একসঙ্গে গান আর অভিনয় বেশ ভাল অভিজ্ঞতা আমার কাছে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দেবী চৌধুরানী'র উপন্যাস আমার ছোটবেলা থেকেই প্রিয়। তারপর সিনেমাও দেখেছি। এবার এখন আবার সেই কাহিনি নিয়ে ছবিতে আমি যে এমন একটি ঐতিহাসিক চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেলাম তা স্মরণীয় কাজ হয়ে থাকবে। তবে দর্শক তো শেষ কথা। এতদিন শ্রোতারা আমার গান শুনেছেন, দেখেছেন। এবার অভিনেতা মনোময়কে এমন একটি ঐতিহাসিক চরিত্রে তাঁরা কী ভাবে নেন সেটার অপেক্ষায় আছি।