২০০৪ সালে ৩০ বছর পূর্তিতে 'শোলে' ছবিটি পুনর্মুক্তি দেওয়া হয়েছিল এবং সাড়াও পেয়েছিল দারুণ।

গ্রাফিক্স শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 30 June 2025 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পঞ্চাশ বছর আগে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তি পেয়েছিল রমেশ সিপ্পির পরিচালনায় নির্মিত সিনেমা ‘শোলে’ (Sholay)। সেই ‘জয়-বীরু’র বন্ধুত্ব, গব্বর সিংয়ের দাপট আর ঠাকুর সাহেবের নীরব প্রতিশোধ আজও রক্ত গরম করে দর্শকের। শুরুতে সমালোচনার মুখে পড়লেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ছবিই হয়ে ওঠে কালজয়ী।
আর সেই স্মরণীয় ছবির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আবারও বড় পর্দায় ফিরছে ‘শোলে’। শোলে ছবির প্রাণ জয় এবং বীরু। আর এই দুই চরিত্রের জন্য অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan) আর ধর্মেন্দ্র (Dharmendra) ছাড়া যেন অন্য কাউকে ভাবাই যায় না! কিন্তু অমিতাভ বা ধর্মেন্দ্র এই দুই কালজয়ী চরিত্রে প্রথম পছন্দ ছিলেন না।
২০০৪ সালে ৩০ বছর পূর্তিতে 'শোলে' ছবিটি পুনর্মুক্তি দেওয়া হয়েছিল এবং সাড়াও পেয়েছিল দারুণ। ২০১৪ সালেও ছবিটির থ্রি-ডি ভার্সন মুক্তির পরও অনেকে দেখেছিল। আজও এই ক্ল্যাসিক ছবির প্রতি মানুষের আগ্রহ আছে। আরও জানা যায়, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এখন ‘শোলে’র ফোরকে ভার্সন প্রস্তুত করছে। শুধু তা-ই নয়, ছবির শেষের গুরুত্বপূর্ণ একটি দৃশ্য আগে ভারতের সার্টিফিকেশন বোর্ড বাদ দিয়েছিল। সেটিও এবার যুক্ত করে পর্দায় দেখানো হবে।
অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহাকে (Satrughan Sinha) নিয়ে ‘শোলে’ বানাতে চেয়েছিলেন রমেশ সিপ্পি। শোলে' ছবিটি তাঁকে প্রথমে অফার করা হয়েছিল, কিন্তু সেই সময়ে তাঁর হাতে অনেক ছবির কাজ ছিল। ডেটের অভাবের কারণে এই ছবিটি পরে অমিতাভ বচ্চনকে অফার করা হয়েছিল।
এদিকে জয়ের রোলে অমিতাভকে নিতে রমেশ সিপ্পিকে সাজেস্ট করেন ধর্মেন্দ্র। তখন ধর্মেন্দ্র বলিউড স্টার কিন্তু তিনি নতুন অভিনেতা অমিতাভকে এই সাহায্য করেছিলেন। শুধু তাই নয়, অমিতাভ বচ্চনের শুরুর দিকের ল্যান্ডমার্ক 'দিওয়ার' ছবির হিরোর রোলও শত্রুঘ্ন সিনহাকে প্রথমে অফার করা হয়। কিন্তু হাতে অন্য ছবি থাকার কারণে দুটো ছবিই ছেড়ে দেন শত্রুঘ্ন। তিনি নিজেই পরে পরিতাপ করেছিলেন এমন দুটি কালজয়ী ছবির হিরোর রোল ছেড়ে দেবার জন্য। আসলে তখন শত্রুঘ্ন বুঝতে পারেননি দুটো ছবিই ভারতীয় ছবির ইতিহাসে ল্যান্ডমার্ক হয়ে যাবে।

অন্যদিকে ধর্মেন্দ্রকে প্রথমে ভাবা হয়েছিল গব্বরের চরিত্রে। খলনায়ক বলে ধর্মেন্দ্র সরে দাঁড়ান। কারণ তখন তিনি প্রতিষ্ঠিত বক্সআর্টিস্ট হিরো। তখন তাঁকে ঠাকুরের চরিত্রে নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু অমন বৃদ্ধ চরিত্র করতেও তিনি অসম্মত হন। তখন নিজেই বীরুর চরিত্রটি ধর্মেন্দ্র বেছে নেন। আর জয়ের চরিত্রে অমিতাভকে নিয়ে আসেন তিনি। এরপর তো জয়-বীরু ইতিহাস। চিরন্তন বন্ধুত্বের প্রতীক এই দুই দুই কালজয়ী চরিত্র।