দীর্ঘ সাতাশ বছর পর আবার আলো-আঁধারির মঞ্চে ফিরছেন অভিনেতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

শিবপ্রসাদ-নীল।
শেষ আপডেট: 30 October 2025 18:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ সাতাশ বছর পর আবার আলো-আঁধারির মঞ্চে ফিরছেন অভিনেতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সিনেমার আলোয় যিনি আজ এক উজ্জ্বল নাম, সেই মানুষটিই আবার পা রাখছেন নাট্যদুনিয়ার মঞ্চে— শুধুমাত্র এক বন্ধুর ডাক আর এক কিংবদন্তি নাট্যকারের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে।
এই নভেম্বরেই শুরু হতে চলেছে চেতনা নাট্যোৎসব। উপলক্ষ— বাদল সরকারের জন্মশতবর্ষ। সেই উৎসবে চেতনার মঞ্চে ফিরছে তাঁরই অমর সৃষ্টি ‘ভুল রাস্তা’। আর সেই নাটকেই, বন্ধুর আহ্বানে, ফের মঞ্চে উঠছেন শিবপ্রসাদ। আহ্বান এসেছে অভিনেতা ও পরিচালক সুজন মুখোপাধ্যায়ের (যিনি ‘নীল’ নামেই পরিচিত) কাছ থেকে— শিবপ্রসাদের বহু বছরের সহপাঠী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলির সঙ্গী। একসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রামা ক্লাবের প্রাণ ছিলেন দু’জনেই। তখন থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁদের মঞ্চযাত্রা— রাস্তায়, নন্দন চত্বরে, অ্যাকাডেমির আলোয়, এমনকি বালুরঘাটে চেতনার পতাকাতলে।
সময় কেটে গেছে অনেক। সুজন থেকে গিয়েছেন মঞ্চে, আর শিবপ্রসাদ তৈরি করেছেন একের পর এক স্মরণীয় সিনেমা। তবু বন্ধুত্বের সেতু ভাঙেনি। সেই সেতু দিয়েই আবার ফিরছে এক পুরনো অধ্যায়।
সামাজিক মাধ্যমে শিবপ্রসাদ নিজেই জানিয়েছেন তাঁর অনুভূতি—“একটু মন দিবেন, কান দিবেন, কানে শুনে মনে লিবেন।১৯৮৮ সালে দেশ পত্রিকায় প্রথম পড়েছিলাম বাদল সরকারের ‘ভুল রাস্তা’। পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রামা ক্লাবে নীলের নির্দেশনায় আমরা এই নাটকটি মঞ্চস্থ করি। সেই থেকে এই যাত্রা ছড়িয়ে পড়ে রাস্তায়, নন্দনে, একাডেমিতে, এমনকি বালুরঘাটেও। শেষবার এই নাটকে অভিনয় করেছিলাম প্রায় ২৭ বছর আগে। আগামী ২২ নভেম্বর, চেতনার জন্মদিনে, একাডেমির মঞ্চে আবার ফিরছে ‘ভুল রাস্তা’।”
একই সঙ্গে শিবপ্রসাদ স্মরণ করেছেন তাঁর একান্ত অভিজ্ঞতাও— বাদল সরকারের কাছ থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই নাটকের কপিরাইট সংগ্রহ করেছিলেন তিনিই। আর আজ, সেই নাটকেই আবার ফিরছেন তিনি। “যখন নীল বলল আমি যেন মঞ্চে ফিরি, প্রথমে সত্যি একটু ভয়ই পেয়েছিলাম,” জানিয়েছেন শিবপ্রসাদ। “ভাবছিলাম— এত বছর পর পারব তো? কিন্তু বাদলবাবুর জন্মশতবার্ষিকীতে ‘ভুল রাস্তা’ আবার মঞ্চে তোলা— এর চেয়ে উপযুক্ত কারণ আর কী হতে পারে?”
চেতনার ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে, বাদল সরকারের জন্মশতবর্ষে, এবং দুই পুরনো বন্ধুর পুনর্মিলনে এই নাটক যেন এক অন্যরকম আবেগের উৎসব। সময় বদলেছে, আলো বদলেছে, কিন্তু মঞ্চের গন্ধ কি সত্যিই মুছে যায় কোনওদিন?
শিবপ্রসাদের ফিরে আসা যেন সেই উত্তর খুঁজে আনছে— পুরনো দিনের প্রতিধ্বনি, বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি আর মঞ্চের অমোঘ টান নিয়ে।