সঙ্গীত যার জীবনের নিশ্বাস, সে যে জায়গাতেই থাকুক না কেন, সুর যেন নিজেই এসে খুঁজে নেয় তাকে। কখনও ঘরের কোণে, কখনও স্টেজে, আবার কখনও একেবারে অচেনা জায়গায়ও মিলেমিশে যায় সেই সুরের মূর্ছনা।

রাঘব।
শেষ আপডেট: 30 October 2025 16:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সঙ্গীত যার জীবনের নিশ্বাস, সে যে জায়গাতেই থাকুক না কেন, সুর যেন নিজেই এসে খুঁজে নেয় তাকে। কখনও ঘরের কোণে, কখনও স্টেজে, আবার কখনও একেবারে অচেনা জায়গায়ও মিলেমিশে যায় সেই সুরের মূর্ছনা। এমনই এক দৃশ্য এবার দেখা গেল সোশ্যাল মিডিয়ায়—পোস্ট করেছেন গায়ক রাঘব চট্টোপাধ্যায়, যাঁর নামেই আজ বাংলা সঙ্গীত জগতে এক আলাদা মাধুর্য মিশে আছে।
যিনি মুহূর্তে যে কোনও গানকে নিজের কণ্ঠে জীবন্ত করে তুলতে পারেন, সেই রাঘব। বাংলা ছবির গানে যেমন তাঁর দাপট, তেমনই অসংখ্য জনপ্রিয় অ্যালবামের স্রষ্টা তিনি। এবছরের দুর্গাপুজোয়ও দুই কন্যার সঙ্গে প্রকাশ করেছিলেন এক নতুন অ্যালবাম, যা শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এক পোস্ট। পোস্ট করেছেন গায়ক রাঘব চট্টোপাধ্যায়—বাংলা সঙ্গীত জগতের এক পরিচিত, প্রিয় মুখ। বাংলা ছবির গানে যেমন তাঁর দাপট, তেমনই অসংখ্য জনপ্রিয় অ্যালবামের স্রষ্টা তিনি। এবছরের দুর্গাপুজোয়ও দুই কন্যার সঙ্গে প্রকাশ করেছিলেন এক নতুন অ্যালবাম, যা শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। আর এবার তিনি ভাইরাল হলেন এক ভিন্ন সুরে। না, কোনও নতুন মিউজিক ভিডিও নয়—একটি সেলুনের চেয়ারে বসেই যেন রেওয়াজ শুরু করে দিলেন শিল্পী!
ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, রাঘব চুল কাটাচ্ছেন। ট্রিমারের মৃদু শব্দে ভরে উঠছে ঘর। কিন্তু সুরের মানুষ তো সুরই শুনবেন! সেই ট্রিমারের আওয়াজই যেন তাঁর কানে বাজল তানপুরার মতো। মুহূর্তেই রেওয়াজে মেতে উঠলেন রাঘব। ট্রিমারের ‘ঘরঘর’ শব্দে মিলিয়ে দিলেন নিজের গলার সুর—আর সেই অনবদ্য মুহূর্ত বন্দি করলেন তাঁর সহকারী।
ভিডিয়োটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পৌঁছতেই দর্শকদের মন ভরল আনন্দে। নেটিজেনরা লিখলেন, “এই তো প্রকৃত শিল্পী!”—কারণ এমন সুরের মূর্ছনা, এমন তীক্ষ্ণ অনুভব কেবলই এক অভিজ্ঞ গায়কের পক্ষেই সম্ভব।
রাঘবের এই রেওয়াজের ভিডিও যেমন ভাইরাল হয়েছে, তেমনই কিছুদিন আগেই ভাইরাল হয়েছিল তাঁর আরেকটি পোস্ট—নৈহাটির এক অন্ধ ভিখারি দম্পতির গান গাওয়ার ভিডিয়ো। রাস্তায় বসে তাঁরা রাঘবেরই মা কালীর গান গেয়ে ভিক্ষা করছিলেন। সেই দৃশ্য দেখে থেমে যান শিল্পী। মুঠোফোনে মুহূর্তটি ধরে রাখেন এবং সমাজ মাধ্যমে ভাগ করে নেন সবার সঙ্গে।
পরে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে রাঘব জানতে পারেন—অতীব কষ্টের চাপে, জীবনের তাড়নায় রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন ওই দম্পতি। রাঘব তখন ভিডিওর মাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে তাঁরা যেন কোনও প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যে কোনও সমস্যায় তিনি তাঁদের পাশে থাকবেন—এই আশ্বাসই দিয়ে গিয়েছিলেন গায়ক।
শিল্পের আসল সৌন্দর্য এখানেই। একদিকে সেলুনের ট্রিমারে খুঁজে পান সুরের মূর্ছনা, অন্যদিকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে খুঁজে পান মানুষের মর্ম। দু’টোরই মেলবন্ধনে রাঘব যেন প্রমাণ করে দেন—সঙ্গীত শুধু গলার নয়, হৃদয়েরও ভাষা।