মিনিট দুয়েকের সাক্ষাৎ। নো টাচ-নো-ফোন পলিসি, ঢোকার মুখে বাধা, শতদ্রুর এন্ট্রি, এবং সবশেষে মেসির সঙ্গে দেখা। কী কথা হল? রাজুদা মুখ খুললেন।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 13 December 2025 20:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিনিট দুয়েকের সাক্ষাৎ। নো টাচ-নো-ফোন পলিসি, ঢোকার মুখে বাধা, শতদ্রুর এন্ট্রি, এবং সবশেষে মেসির সঙ্গে দেখা। কী কথা হল? রাজুদা মুখ খুললেন।
তাঁর বয়ানে,
দু'মাস আগে যখন জানা যায় মেসি আসছেন তখন আমাকে নিয়ে আচমকাই ট্রোল শুরু হয়। ওই কী যেন বলে, মিম-- ওই মিম। বলা হয়, মেসি এসে আমার পরোটার দোকানে দাঁড়িয়ে পরোটা খাবে! এটা দেখে শতদ্রুবাবুর (দত্ত)র খারাপ লাগে। উনি ফেসবুকে লেখেন, "একটা গরীব ঘরের ছেলে, নিজের এলেমে খেটে খাচ্ছে, পরিশ্রম করছে, এটা নিয়ে খিল্লি করছ? আমি এটাকেই বাস্তবে রূপ দেব"। এরপর ধীরে ধীরে সব মিডিয়ারা আমাকে প্রশ্ন করতে শুরু করে। কিন্তু আমি তখন কী বা বলতাম! তখনও শতদ্রুবাবুর টিম থেকে তো আমাকে কিছু জানানো হয়নি। বেফাঁস বলে দিলে কী হবে! এরপর আমার কাছে একটা কল এল। তাঁরা জানালেন, 'শতদ্রু বাবুর টিম থেকে বলছি, ১৩ তারিখের জন্য রেডি হও। আমাদের টিম তোমার কাছে যাবে।'
এর কিছু দিন পর আবার ওরা যোগাযোগ করল, জানাল দাদার (শতদ্রু) জন্মদিন আছে। একটা বাইট লাগবে। আমি দিলাম। তারপর বেশ কিছুদিন কথা নেই। কাল আবার আমার কাছে ফোন এল। কাল মানে শুক্রবার রাতে। সেই প্রতীক্ষিত ফোন। আমাকে বলা হল, আপনার আধার কার্ডের ছবি লাগবে, আর নিজের ছবি লাগবে। আমি দিলাম। আমাকে জানানো হল, আজ অর্থাৎ ১৩ তারিখ সকাল সাতটার মধ্যে বাইপাসের যে হোটেলে মেসি আছেন সেখানে আসতে হবে।
আমি তো আনন্দে ফুটছি। আমার বাড়ি বনগাঁ। ভোর সাড়ে চারটের মধ্যে সব গুছিয়ে প্ল্যাটফর্মে যাই। শীতের ভোর, কোনও ট্রেন নেই। কী করব! এক বন্ধুর গাড়ি আছে, ওকেই নিয়ে আসতে বলি। সাড়ে ছয়টার মধ্যে পৌঁছে যাই হোটেলের মুখে। কিন্তু পুলিশ আটকে দেয়। কার্ড তো আমি তখনও হাতে পাইনি। এরপর কর্তৃপক্ষকে কল করতেই তারা গেটে নিয়ে যায়! ওখানে পৌঁছেও বাধা!
অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে হোটেলে ঢোকার ছাড়পত্রে মেলে আমার। অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পাই, হাতে ব্যান্ড পরানো হয় (রাজুবাবু বেল্ট বলেছেন)। আমাকে বলা হয় ছয় নম্বর ঘরে গিয়ে বসতে। ওরা ফোন নিয়ে নেয়। কী কড়া ব্যবস্থা! পকেটে কিচ্ছু রাখা যাবে না। তার আগে বারবার বলে দেওয়া হয়, গিয়ে যেন না ছুঁই, চিৎকার করে কথা না বলি! অবশেষে আধঘণ্টা পর মেসি এলেন। সঙ্গে এলেন শতদ্রুবাবু। জিজ্ঞাসা করলেন, "এখানে পরোটাওয়ালা কে আছ"? আমি এগিয়ে আসতেই আলাপ করালেন মেসির সঙ্গে। ইংরেজিতে কী সব বলছিলেন আমার নামে মেসিকে। ভাল বুঝতে পারিনি। তবে 'স্ট্রিট ফুড, স্ট্রিট সেলার' কিছু একটা বলছিলেন মনে হল। আমার কথাই বলছিলেন। মেসি স্যর, হাত বাড়ালেন, আমি হ্যান্ডশেক করেছি। ফোন কাছে ছিল না তো, তাই ছবি তুলতে পারিনি। ব্যস, এরপরেই আমি বেরিয়ে এলাম। যুবভারতীতে যাইনি। টিকিট ছিল না। বাড়ি ফিরে খেতে হবে।
শুনলাম খুব ঝামেলা হয়েছে। সত্যিই তো আমার মতো গরীব মানুষ যাদের মাসিক আয়ই পাঁচ-দশ হাজার, তাঁরা কত কষ্ট করে টাকা জমিয়ে টিকিট কেটে মেসি স্যরকে দেখতে গিয়েছিলেন। ভালভাবে না দেখতে পেলে তাঁদের তো খারাপ লাগবেই। কিন্তু শতদ্রুবাবুর ঋণ আমি কী করে অস্বীকার করি। আমার মতো অতি সাধারণ এক পরোটাওয়ালাকে উনি মেসি স্যরের সঙ্গে দেখা করিয়েছেন! উনি ভগবান নয় তো কী? যে যাই বলুক, উনি আমার কাছে ঈশ্বর সমান।