সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই দেখা যাচ্ছে এক নতুন হিড়িক। টাইমলাইন খুললেই চোখে পড়ছে, এক ক্যাপশন ‘স্বপ্ন সত্যি হল’। আর ছবিতে ফেবু ব্যবহারকারীর পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন স্বয়ং শাহরুখ খান!

AI ছবিতে পাশে শাহরুখ?
শেষ আপডেট: 5 September 2025 18:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই দেখা যাচ্ছে এক নতুন হিড়িক। টাইমলাইন খুললেই চোখে পড়ছে, এক ক্যাপশন ‘স্বপ্ন সত্যি হল’। আর ছবিতে ফেবু ব্যবহারকারীর পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন স্বয়ং শাহরুখ খান! আবার দেখা যাচ্ছে কোনও এক ঝলমলে সেলফি! ক্যাপশনে, ‘বিয়েবাড়িতে দেখা হয়েই গেল’। আবারও পাশে কিং খান। আরেকটি ছবিতে দেখা গেল আরেক অবাক কান্ড, এক চাষী ভাইয়ের সঙ্গে লাঙল হাতে দাঁড়িয়ে ‘রাহুল’ (নাম তো সুনাহি হোগা)।
দুম করে এমন ছবি যখন স্ক্রোলিংয়ের মাঝে হঠাৎ ভেসে ওঠে, বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই। কিন্তু একটু খুঁটিয়ে দেখলেই বোঝা যায়, ছবিতে শাহরুখ নেই—আসলে এ সবই এআই জেনারেটেড। আর এই চমকেই মেতে উঠেছে সোশ্যাল দুনিয়া। কেউ অবাক হচ্ছে, কেউ আবার মজা করে লাইক-শেয়ার কুড়োচ্ছে।
কিন্তু এখানেই উঠছে আসল প্রশ্ন—এমন পোস্ট কতটা নিরাপদ? সত্যিই কি এর জন্য ‘কেস’ খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? উত্তরটা একটু ভয়েরই—হ্যাঁ, ঝুঁকি আছে।
কারণ আইন খুব পরিষ্কারভাবে বলছে, কোনও সেলিব্রিটির নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর বা পরিচিত ভঙ্গি তাঁর অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যায় না। এটাকে বলে ‘Right of Publicity’ বা ব্যক্তিত্ব অধিকার। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কপিরাইট আইন, ট্রেডমার্ক আইন, এমনকি আইটি আইন আর ভোক্তা সুরক্ষা আইনও। অর্থাৎ এআই দিয়ে শাহরুখকে পাশে দাঁড় করিয়ে দিলে সেটা যদি ভুল পথে ব্যবহৃত হয়, বিপদ কিন্তু সত্যিই ধরা দিতে পারে।
তবে ক্ষতিপূরণের অঙ্কটা নির্দিষ্ট নয়। আদালত নির্ভর করে দেখবে—কোন উদ্দেশ্যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। যদি ব্যবসায়িক লাভের জন্য হয়, তবে ক্ষতির অঙ্ক আকাশছোঁয়া হতে পারে। যদি শুধু মজা, প্যারোডি বা ক্ষতি করার উদ্দেশ্য ছাড়া ব্যক্তিগত ব্যবহার হয়, তবে শাস্তি তুলনায় হালকা হতে পারে।
ভারতের আদালতে আগেও দেখা গেছে, অমিতাভ বচ্চন থেকে জয়াবচ্চন—তাঁদের অনুমতি ছাড়া ছবি ব্যবহার হওয়ায় ক্ষতিপূরণ দাবি উঠেছিল কোটি টাকায়। অনিল কাপুরও সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিত্ব অধিকার রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এই সব নজির দেখায়, ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ১০ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত উঠতে পারে।
আর শাহরুখ খানের ক্ষেত্রে তো ছবিটাই অন্য রকম। তিনি ভারতের সবচেয়ে দামী ব্র্যান্ড, যিনি একেকটা বিজ্ঞাপনের জন্যই ৮–১০ কোটি টাকা নেন। তাই তাঁর এআই-জেনারেটেড ছবি যদি কোনও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনে অনুমতি ছাড়া ব্যবহার হয়, ক্ষতিপূরণের দাবি উঠতে পারে ৫ থেকে ২০ কোটি টাকাতেও। আর যদি কোনও সাধারণ ব্যবহারকারী শুধুই মজা করে পোস্ট করে দেন, তাহলে কড়া ক্ষতিপূরণ হয়তো দাবি করা হবে না, তবে সতর্কবার্তা, পোস্ট ডিলিটের নির্দেশ আর সামান্য ক্ষতিপূরণ—১ থেকে ১০ লক্ষ টাকা—অবধি দাবির সম্ভাবনা থেকে যায়।
অর্থাৎ সহজ করে বললে—বাণিজ্যিক ব্যবহার হলে দাবি হতে পারে কোটি কোটি টাকা, আর ব্যক্তিগত মজা হলেও ঝুঁকি এড়ানো যায় না।
মানুষের স্বপ্ন বাঁধ মানে না। শাহরুখ খানের সঙ্গে এক মুহূর্ত কাটানোর ইচ্ছেই এত গভীর যে এআই সেই স্বপ্নকেও রঙিন করে তুলছে। আইন আর বিপদের ভয় আছে বটে, কিন্তু তবুও ভক্তদের চোখে ছবিগুলোতে চোখ টানছে।
অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন এটাই কিং খানের আসল ম্যাজিক! তিনি থাকুন বা না-থাকুন, তাঁর উপস্থিতির স্বপ্নটাই এত প্রাণবন্ত যে প্রযুক্তিও তাঁকে বাস্তবের মতো ফুটিয়ে তুলতে চায়।