বাংলা বিনোদনের জগতে এক নতুন সংযোজন দার্শু OTT। আর এই প্ল্যাটফর্মের প্রথম নিবেদনেই দর্শক পেল এক ভিন্ন স্বাদের মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার— সাইকো।

শেষ আপডেট: 5 September 2025 15:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা বিনোদনের জগতে এক নতুন সংযোজন দার্শু OTT। আর এই প্ল্যাটফর্মের প্রথম নিবেদনেই দর্শক পেল এক ভিন্ন স্বাদের মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার— সাইকো। রূপ প্রোডাকশন অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট-এর প্রযোজনায়, অঙ্কিত দাস ও সুরেশ তোলানির হাতে গড়া এই সিরিজ পরিচালনা করেছেন বাপ্পা, যিনি নিজের কল্পনা ও অভিজ্ঞতার মিশেলে এঁকেছেন ভয়, ভ্রম আর মানসিক অস্থিরতার অনন্য ছবি।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দু সমদর্শী (কিঞ্জল নন্দ)—বাইরে থেকে সাধারণ চাকুরিজীবী, নিভৃতচারী শিল্পী। কিন্তু তার মনের গভীরে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ অতীত—শৈশবে বাবার (প্রদীপ ভট্টাচার্য) হাতে মায়ের (তপতি মুনসী) নির্মম হত্যাকাণ্ড। সেই রাতের স্মৃতি যেন তার জীবনের অচেনা ছায়া, যা প্রতিটি ছবিতে, প্রতিটি তুলির আঁচড়ে ফিরে আসে। ক্যানভাসে রঙ মিশে যায় রক্তের দাগে, শিল্পের ভেতর লুকিয়ে থাকে স্বীকারোক্তি, আর ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়—অমরত্ব বন্দি করার শিল্প আসলে মৃত্যু দিয়ে আঁকা এক ভয়ংকর খেলা।
পরিচালক বাপ্পার ভাষায়, ‘সাইকো’ কেবল ঠান্ডা মাথার খুনির গল্প নয়—এটি মানুষের আচরণের ভঙ্গুরতা, মনের অন্ধকার ও অস্বস্তিকর দিকগুলোর অনুসন্ধান। এই যাত্রায় পরিচালকের সঙ্গ দিয়েছেন অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায় ও কিঞ্জল নন্দের মতো শিল্পীরা। প্রত্যেকেই তাঁদের চরিত্রে এনেছেন গভীর আবেগ, যা এক একটি দৃশ্যকে করেছে অনবদ্য। শুটিংয়ের সময় অনেক মুহূর্তেই তাঁদের
অভিনয় ছাপিয়ে গেছে লেখা স্ক্রিপ্টকেও, তৈরি করেছে অদ্ভুত ম্যাজিক।
বাসবদত্তার কাছে গল্পটি ছিল আবেগঘন, কনীনিকার মতে ভিজ্যুয়ালের নির্মাণ ছিল অসাধারণ, আর কিঞ্জলের কাছে এটি ছিল মানসিক অন্ধকারের গভীরে ডুব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। সিনেমাটোগ্রাফার সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, সম্পাদক অনির্বাণ মাইতি, সঙ্গীত পরিচালক প্রিয়াঙ্ক ও শুভদীপ—সবাই মিলে এই সিরিজকে দিয়েছেন ভয় আর রহস্যে মোড়া এক নতুন স্বাদ।
দর্শক ইতিমধ্যেই উচ্ছ্বাসে জানিয়েছেন তাঁদের অভিজ্ঞতা। কেউ বলছেন, গল্পটি ভয় দেখায়, আবার একই সঙ্গে ভাবায়। আর ঠিক এই দ্বৈত অনুভূতিই সাইকো-র আসল সাফল্য।