Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
গুগল এখন অতীত, AI দেখে ওষুধ খাচ্ছেন মানুষ! বেশিরভাগ রোগ চিনতে না পেরে জটিলতা বাড়াচ্ছে চ্যাটবট 'ডাহা মিথ্যে তথ্য দিয়েছে রাজ্য', সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি পিছতেই ক্ষুব্ধ ভাস্কর ঘোষBasic Life Support: চলন্ত ট্রেনে ত্রাতা সহযাত্রীই! সিপিআরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন মহিলামহিলা বিল পেশ হলে রাজ্য অচলের ডাক স্ট্যালিনের, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে কেন ষড়যন্ত্র বলছে ডিএমকে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ! উদ্দীপ্ত এমিরেটসের কতটা ফায়দা নিতে পারবে আর্সেনাল? দ্রুত রোগা হওয়ার ইনজেকশন শেষ করে দিচ্ছে লিভার-কিডনি? ভুয়ো ওষুধ নিয়ে সতর্ক করলেন চিকিৎসকরাপ্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামছে ৪০ হাজার রাজ্য পুলিশ, কোন জেলায় কত‘ভয় নেই, আমিও কারও বাবা...’ সব পুরুষ সমান নয় - বার্তা নিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় ছুটে চলেছে এই অটোহরর নয়, এক ব্যক্তিগত ক্ষতের গল্প—‘দ্য মামি’ নিয়ে মুখ খুললেন পরিচালকনববর্ষে স্মৃতির পাতায় ফিরলেন সাবিত্রী, বললেন—“আগে এত উদযাপন ছিল না”

‘অরিজিনালিটি’ হারাচ্ছে বাংলা গান—দক্ষিণীর ছায়াতেই আজ টলিউড?

একটা সময় ছিল, যখন বলিউডে ঠাঁই পেত বাংলা গান। অনুকরণ হোক বা অনুপ্রেরণা—হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরেই গড়া হয়েছিল একাধিক কিংবদন্তি হিন্দি সুপারহিট।

‘অরিজিনালিটি’ হারাচ্ছে বাংলা গান—দক্ষিণীর ছায়াতেই আজ টলিউড?

দেব-বিজয়

শুভঙ্কর চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: 1 September 2025 14:19

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা সময় ছিল, যখন বলিউডে ঠাঁই পেত বাংলা গান। অনুকরণ হোক বা অনুপ্রেরণা—হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরেই গড়া হয়েছিল একাধিক কিংবদন্তি হিন্দি সুপারহিট। বাংলা সংগীতের আকাশে তাঁর ছিল এক অমোঘ আসন, রবীন্দ্রসঙ্গীতেও তাঁর পদচিহ্ন স্পষ্ট। অথচ, হিন্দি সিনেমাই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল বৃহত্তর দর্শকের কাছে। আজও তাঁর সুরের খ্যাতি বহন করে চলে সেই আনন্দ-বেদনার সুগন্ধ, যা সহজেই স্পর্শ করে মনকে। অধিকাংশই হয়তো জানেন না, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বহু হিন্দি গানই আসলে বাংলা গানের পুনর্নির্মাণ বা সামান্য পরিবর্তিত সংস্করণ। যেমন, মীনা কুমারীর ট্র্যাজেডি কুইন ইমেজকে অমর করেছিল ‘না যাও সাঁইয়া ছুড়াকে বইয়া’। গীতা দত্তের গলায় জমিদার রহমনের কাছে ছোটিবৌয়ের মিনতি আজও যেন বেদনাকে জাগিয়ে তোলে। অথচ গানটির মূল উৎস ছিল হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গাওয়া ‘ওলির কথা শুনে বকুল হাসে’।

অন্যদিকে, ‘পিকু’ সিনেমায় অমিতাভ-দীপিকার ঠাট্টার মুহূর্তে শোনা গিয়েছিল ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’। আসলে এ গান ছিল উত্তম-সুচিত্রার চিরন্তন প্রেমের প্রতীক। হিন্দি সংস্করণে বিশ্বজিৎ-আশা পারেখ গাছের তলায় নেচেছিলেন বটে, কিন্তু বাংলার রোমান্সেই ছিল তার আসল ম্যাজিক। বর্ষার দুপুরে মনে পড়ে যায় ‘সাওন মে বরখা সাতায়’। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে এই গানের বাংলা রূপ গেয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। তাঁর গলায় ছিল এক অনন্য আবেগ, যা গানের আবেদনকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
ওয়াহিদা রহমানের অস্থির মনের পরিচয় পাওয়া যায় ‘ও বেকারার দিল’-এ, লতার কণ্ঠে। অথচ এই সুরের বীজ ছিল হেমন্তের আগের গান ‘ও নদীরে’। হৃদয়ের ব্যথা আর নদীর অবিরাম যাত্রা—এই এক রূপকেই তিনি বুনেছিলেন সুরে।

আর ভুলে থাকা যায় কী ‘ইয়ে নয়ন ডরে ডরে’? এর আদি জন্ম ‘এই রাত তোমার আমার’, দীপ জ্বেলে যাই ছবিতে। পরে সেটিই রূপ নিল হিন্দি ছবি খামোশি-তে। দুই গানেই হেমন্তের কণ্ঠ ছিল অবিস্মরণীয়, তবে বাংলা গানের সিটি বাজানো শুরুর সুর আজও আলাদা মাদকতা জাগায়

শুধুই কি হেমন্তবাবু! আরডি বর্মনও বাঙালি শ্রোতাদের জন্য বানিয়েছিলেন পুজোর গান, যা থেকেই জন্ম নিয়েছিল বহু হিন্দি চার্টবাস্টার। যেমন ১৯৬৭-তে কিশোর কুমারের কণ্ঠে ‘এক দিন পাখি উড়ে যাবে’, যা পরে বলিউডে রূপ নেয় ‘তুম বিন জাউঁ কহাঁ’-তে। পুজোর অ্যালবামের মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল আধুনিক গানের ধারা। প্রেমের গানেই মাতত প্যান্ডেল, ভিড় জমাত যুবসমাজ। ‘মনে পড়ে রুবি রায়’ থেকে শুরু করে ‘চোখে চোখে কথা বলো’, ‘জানি না কোথায় তুমি’, ‘চোখে নামে বৃষ্টি’—সবই একদিন রূপ নিয়েছিল হিন্দি ছবির গানে। পঞ্চম আর আশা ভোঁসলের যুগলবন্দি বদলে দিয়েছিল পুজোর গানের ইতিহাস।

কিন্তু আজ? সময় বদলে গেছে। অনুপ্রেরণার ধারা আর বলিউড নয়, সরে গেছে দক্ষিণী ছবির দিকে। বোঝেনা সে বোঝেনা-র ‘না রে না’ যেন হুবহু এঙ্গেয়ুম এপ্পোধুম-এর ‘মাসামা’। একই ছবির ‘ভগবান’-এর সুরও মেলে দক্ষিণী ‘গোবিন্দা’র সঙ্গে। বিন্দাস-এর ‘আজকের এই খুশির দিনে’ একেবারে প্রতিচ্ছবি দক্ষিণী মিরচি-র ‘পান্ডাগালা’র। ভালবাসা-র ‘হালকা হালকা’-র ছায়া পড়ে বোম্মারিল্লু-র ‘আপুডো ইপুডো’-তে। দেব-পায়েল অভিনীত আই লাভ ইউ-র টাইটেল ট্র্যাকও যেন তুলে আনে নুভ্ভোস্তানান্তে নেনোদ্দান্তানা-র ‘নিলুভাড্ডাম নিন্নে’। সাম্প্রতিক উদাহরণ রঘু ডাকাত-এর ‘জয় মা কালী’। প্রায় দশ বছর আগের দক্ষিণী ছবি পুলি-র ‘জিঙ্গিলয়া’ গানকে রি-অ্যারেঞ্জ করেছেন রথীজিৎ ভট্টাচার্য, কথা লিখেছেন সুগত গুহ। অথচ অরিজিনাল সুরকার ছিলেন এস. দেবীপ্রসাদ। গান শুনলেই বোঝা যায় মিলের ছাপ।

 


হেমন্ত আর পঞ্চমের হাত ধরে একদিন হিন্দি ভুবন আলোয় ভরেছিল বাংলার সুরে। অথচ আজকের টলিউড ডুবে আছে ধার-করা দক্ষিণী ছায়ায়। তখনকার অনুপ্রেরণায় ছিল শিল্পের ঋদ্ধতা, আজকের নকল গানে নেই কোনো আত্মা। তবুও কোথাও না কোথাও, ভিড়ের ভেতরেও বাজে হেমন্তের কণ্ঠ, পঞ্চমের বাঁধনহারা সুর—স্মরণ করিয়ে দেয়, অরিজিনালিটিই শিল্পের প্রকৃত জয়গান।

কিন্তু সময় বদলে গেছে। অনুপ্রেরণার ধারা সরে গেছে বলিউড থেকে দক্ষিণী ছবির দিকে। বোঝেনা সে বোঝেনা-র ‘না রে না’-এর সঙ্গে এঙ্গেয়ুম এপ্পোধুম-এর ‘মাসামা’র হুবহু মিল পাওয়া যায়। একই ছবির ‘ভগবান’-এর সুরও মেলে দক্ষিণী ‘গোবিন্দা’র সঙ্গে। বিন্দাস ছবির ‘আজকের এই খুশির দিনে’ যেন দক্ষিণী মিরচি-র ‘পান্ডাগালা’-র প্রতিচ্ছবি। ভালবাসা ছবির ‘হালকা হালকা’ গানের ছায়া পড়ে বোম্মারিল্লু-র ‘আপুডো ইপুডো’-তে। দেব-পায়েল অভিনীত আই লাভ ইউ ছবির টাইটেল ট্র্যাকও একেবারে মিলে যায় দক্ষিণী নুভ্ভোস্তানান্তে নেনোদ্দান্তানা-র ‘নিলুভাড্ডাম নিন্নে’-এর সঙ্গে।

সব মিলিয়ে আজকের টলিউড গানের ভুবন ভরেছে দক্ষিণী ছায়ায়। এর সাম্প্রতিকতম উদাহরণ রঘু ডাকাত-এর গান ‘জয় মা কালী’। প্রায় দশ বছর আগের চিম্বু দেভেনের দক্ষিণী ছবি পুলি-র ‘জিঙ্গিলয়া’ গানের অনুকরণ বা বলা ভালো রি-অ্যারেঞ্জমেন্ট। অভিনয়ে ছিলেন থালাপতি  বিজয়, শ্রীদেবী, সুদীপ, শ্রুতি হাসান, হন্সিকা মোতওয়ানি। আর নতুন বাংলা গানটির সুর করেছেন রথীজিৎ ভট্টাচার্য, কথা লিখেছেন সুগত গুহ। অরিজিনাল গানটির সুরকার ছিলেন এস. দেবীপ্রসাদ। দুটি গান শুনলেই বোঝা যায়, মিল রয়েছে অনেকখানি।

 


তবে গানে দেবের রূপে এবার ধরা দিয়েছে রঘু ডাকাত। কপালে রক্ততিলক, হাতে বিশাল খড়্গ—প্রথম ঝলকেই বোঝা গিয়েছিল চরিত্রের তেজ। ‘জয় কালী’ ধ্বনিতে শিহরিত হয়েছে নেটপাড়া। এই বছরের দুর্গাপুজোয় মুক্তি পেতে চলেছে ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত রঘু ডাকাত, আর তার প্রথম গানেই তৈরি হয়েছে উন্মাদনা।

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—বাংলা গান কি তবে পিছিয়ে পড়ছে? দেব বারবার বলেছেন ‘অরিজিনালিটি’র কথা, অথচ গানে তার ছাপ মিলছে না। যে বাংলার মহীরুহ সুরকারদের সুরে এককালে ভিজত বলিউড, ২০২৫-এ দাঁড়িয়ে সেই টলিউড কেন দক্ষিণীর প্রতিলিপি হয়ে যাচ্ছে?

এই প্রসঙ্গে সুরকার রথীজিৎ ভট্টাচার্যের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে জানান, তিনি ‘জিঙ্গিলয়া’ গানটি শোনেননি। পরে তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ করা হয় গানটি। শুনে তিনি বলেন, ‘‘সুরে কোথাও মিল আমি পাচ্ছি না। একটা হর্নের শব্দ আছে, সেটার জন্য মনে হতে পারে। আমি কিন্তু এই গান শুনিনি।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘বাংলার লোকসঙ্গীত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ফোকের সঙ্গে ডাকাত রঘুর উপস্থিতি আছে, তাই আগ্রাসী করতে হয়েছে। বাঁশিতে হয় না, তাই ব্যবহার করেছি ট্রাইবাল ফ্লুট। ঈশানের গলাতেও সেই অ্যাগ্রেশনটাই এনেছি।’’

তবু আক্ষেপ থেকেই যায়। একসময় যেখান থেকে সারা দেশ অনুপ্রাণিত হত বাংলা গানে, আজকের বাংলা গান সেখানে খুঁজে ফিরছে দক্ষিণী ছায়ার ভরসা। হয়তো একদিন আবার শেকড়ে ফিরে আসবে বাংলা গান, আরেকবার নিজের সুরেই ছাপিয়ে যাবে অন্যকে।


```