Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ক্যান্ডিডেটস জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গুকেশের মুখোমুখি সিন্দারভ, ড্র করেও খেতাবের লড়াইয়ে বৈশালীIPL 2026: চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হেরে টেবিলের তলানিতে কেকেআর! গুরুতর বদলের ইঙ্গিত রাহানের নববর্ষের 'শুভনন্দন'-এও মুখ্যমন্ত্রীর SIR তোপ! বাংলায় পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইনপয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?১৮০ নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শোষণ! মোবাইলে মিলল ৩৫০ অশ্লীল ভিডিও, ধৃতের রয়েছে রাজনৈতিক যোগ

বসন্তের সন্ধ্যায় সাত পাকে বাঁধা দুই যুগল, লালের আবেশে ধরা দিল বাঙালি বিয়ের সাজ

বাঙলির ‘ভালবাসার দিন’ মানে শুধু গোলাপ আর কবিতার নয়, কখনও কখনও তা হয়ে ওঠে আজীবনের অঙ্গীকারের দিনও।

বসন্তের সন্ধ্যায় সাত পাকে বাঁধা দুই যুগল, লালের আবেশে ধরা দিল বাঙালি বিয়ের সাজ

অরণ্যা দত্ত

শেষ আপডেট: 24 January 2026 12:22

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঙলির ‘ভালবাসার দিন’ মানে শুধু গোলাপ আর কবিতার নয়, কখনও কখনও তা হয়ে ওঠে আজীবনের অঙ্গীকারের দিনও। এ বছর সেই ভালবাসার দিনেই দু’টি আলাদা ছাদনাতলায়, দু’টি আলাদা জীবনের গল্প এক সুতোয় বাঁধা পড়ল—আবেগ, ভালবাসা আর স্বপ্নের মেলবন্ধনে।

বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডের আলো-ছায়ায় জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। বহু চেনা ক্যামেরার ঝলক, লাইটের ঝলকানি আর শুটিং ফ্লোরের ব্যস্ততার বাইরে, একেবারে সাবেকি বাঙালি কনে হয়ে ধরা দিলেন তিনি। টুকটুকে লাল বেনারসির আঁচল ছুঁয়ে ছিল তাঁর দীর্ঘ পথচলার গল্প—হাতে আলতার রাঙা ছাপ, কপালে লাল টিপ, চোখভরা স্বপ্ন আর গয়নার ঝিলিকে সম্পূর্ণতা পেয়েছিল সেই মুহূর্ত। পাশে শৈশবের বন্ধু থেকে জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠা দেবমাল্য চক্রবর্তী (madhumita sarcar, madhumita sarcar marriage, Dedmalya chakraborty, biswabasu Biswas marriage)। কখনও লাল পাঞ্জাবিতে কনের রঙে নিজেকে মিলিয়ে নেওয়া, আবার বিয়ের লগ্নে ঘিয়ে রঙা পাঞ্জাবি, ধুতি আর টোপর পরে একেবারে বাঙালি বর।



বিয়ের অনেক আগেই মধুমিতা জানিয়েছিলেন, তাঁর স্বপ্নের দিনটি তিনি দেখতে চান একেবারে সাবেকি রূপেই। বাস্তবেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গায়ে হলুদের দিনেও ঝলমলে বাহুল্য নয়, বরং ছিমছাম রুচির ছোঁয়ায় হলুদ শাড়ি, গোলাপি ফুলের গয়না আর নামমাত্র মেকআপেই যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলেন তিনি। জীবনের ওঠাপড়ার পর, শৈশবের বন্ধুত্বের ভিতরেই খুঁজে পাওয়া ভালবাসার ঠিকানা—সেই মানুষটির হাত ধরেই ঘর বাঁধার স্বপ্নে তখন দু’চোখ ভরা।
 

 

নায়িকার জীবনে কাজ আর সংসারের সমীকরণ নিয়েও রয়েছে স্পষ্ট পরিকল্পনা। ক্যামেরার ডাকে যেমন সাড়া দেবেন, তেমনই ঘরের পর্দা, বিছানার চাদর কিংবা সংসারের খুঁটিনাটিতেও মন দিতে চান তিনি। পাশে থাকা মানুষটির সমর্থনেই আত্মবিশ্বাসী মধুমিতা—দু’জনেই ব্যস্ত, কিন্তু একে অপরের কাজ বোঝেন বলেই বিশ্বাস, কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। ধারাবাহিক, ছবি বা ওটিটি—সব কাজেই মন দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাঁর।

এই ভালবাসার গল্পের শুরু অবশ্য আগেই। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সেরে ফেলেছিলেন আংটি বদলের পর্ব। সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেওয়া সেই বিশেষ মুহূর্তে লাল স্লিভলেস গাউনে মধুমিতা, আর কালো স্যুট-শার্টে নীল টাই পরে দেবমাল্য—দু’জনের চোখেই তখন ভবিষ্যতের আভাস। ২০২৪ সালের পুজোয় সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ভ্রমণ, একান্ত মুহূর্ত আর ছোট ছোট সুখের ঝলক অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তাঁরা।

 

একই ভালবাসার দিনে, আর এক প্রান্তে বিষ্ণপুরে বসেছিল আর একটি ছাদনাতলা। অভিনেতা বিশ্বাবসু বিশ্বাস আর ঐশিকী ঘটকের জীবনের নতুন অধ্যায়ও শুরু হল লাল আর ঐতিহ্যের আবেশে। রাজকীয় সাজে বিশ্বাবসু—লাল পাঞ্জাবি, ঘিয়ে ধুতি আর সমান রঙের শাল; আর কনে ঐশিকী টুকটুকে লাল বেনারসিতে, মানানসই গয়নায়, কপালে চন্দনের ছোঁয়ায় যেন চোখ ফেরানো দায়। রাত সাড়ে দশটার লগ্নে, আবেগে মোড়া সেই মুহূর্তে চারপাশ জুড়ে ছিল বাঙালিয়ানা আর ভালবাসার উষ্ণতা।
বাঙালির বিয়ে মানেই পেটপুরে ভোজ—এই বিয়েতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পমফ্রেট তন্দুর থেকে ভেটকি পাতুরি, বাসন্তী পোলাও আর মাটন মশালা—স্বাদের পর স্বাদ। শেষে গরম গোলাপ জামুন আর বাটারস্কচ সন্দেশে মিষ্টি মুখ, যেন নতুন জীবনের মধুর সূচনা।

বিশ্বাবসুর অভিনয়জীবনের শুরু ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’-র ভূপাল চরিত্রে। পরে ‘মিঠাই’-এও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। থিয়েটার তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী। অন্য দিকে, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে থিয়েটারের পাঠ নিয়ে মঞ্চেই নিজের অভিনয়যাত্রা গড়ে তুলেছেন ঐশিকী। কাজের সূত্রেই আলাপ, সেখান থেকেই বন্ধুত্ব, আর ধীরে ধীরে প্রেম। প্রেম নিয়ে কখনওই প্রকাশ্যে কথা বলেননি বিশ্বাবসু—বিয়ের ক্ষেত্রেও ছিলেন নীরব। কিন্তু এবার আর লুকোনোর কিছু নেই। জীবনের নতুন অধ্যায়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তিনি। সমাজমাধ্যমে মাঝে মাঝেই ধরা পড়ে তাঁদের নিজেদের মুহূর্ত—কখনও রেস্তোরাঁয় আড্ডা, কখনও আলো-আঁধারিতে তোলা ঘনিষ্ঠ সেলফি। লাইমলাইটের বাইরে, নিজেদের মতো করেই ভালবাসেন তাঁরা, একে-অপরকে।


```