আঙ্গুর সিনেমার সময় খেকেই দুজনে কাছাকাছি আসেন এবং গুঞ্জন ছড়ায় যে, দুজনে প্রেম করছেন লুকিয়েচুরিয়ে।

সঞ্জীব কুমার ও সুলক্ষ্মণা পণ্ডিতের প্রেম নিয়ে বলিউড সরগরম হয়ে উঠেছিল।
শেষ আপডেট: 7 November 2025 12:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবীণ অভিনেত্রী সুলক্ষ্মণা পণ্ডিতের জীবনাবসান হয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। তাঁর দাদা এককালের বিখ্যাত সুরকার ভ্রাতৃদ্বয় যতীন-ললিত জুটির ললিত পণ্ডিত জানিয়েছেন, বোনের শেষকৃত্য হবে আজ, শুক্রবার। বেশ কয়েকটি ছবিতে সম্ভাবনাময় অভিনয়ের পর আচমকাই সিনেমা জগৎ থেকে একেবারে সরে দাঁড়ান সুলক্ষ্মণা পণ্ডিত। লোকমুখে প্রচারিত সঞ্জীব কুমারের মৃত্যুর পর একেবারে ভেঙে পড়েন সুলক্ষ্মণা। তারপরেই তিনি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
‘আঙ্গুর’ সিনেমার পর সঞ্জীব কুমার ও সুলক্ষ্মণা পণ্ডিতের প্রেম নিয়ে বলিউড সরগরম হয়ে উঠেছিল। সবে সবে হেমা মালিনীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন সঞ্জীব কুমার। ফলে তাঁরও মনের অবস্থা ভাল ছিল না। আঙ্গুর সিনেমার সময় খেকেই দুজনে কাছাকাছি আসেন এবং গুঞ্জন ছড়ায় যে, দুজনে প্রেম করছেন লুকিয়েচুরিয়ে।
সঞ্জীব কুমারের জীবনী লেখক হানিফ জাভেরির বই অ্যান অ্যাক্টর্স অ্যাকট দ্য অথরাইজড বায়োগ্রাফি অফ সঞ্জীব কুমার থেকে জানা যায়, নায়ক কিন্তু সুলক্ষ্মণা পণ্ডিতের সঙ্গে কোনও সম্পর্কে জড়াননি। উপরন্তু, সুলক্ষ্মণার দিক থেকে একতরফা প্রেম ছিল। তিনি বলেছেন, সঞ্জীবের সঙ্গে প্রথমে নূতন এবং হেমা মালিনীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু তারপর আর কিছু ঘটেনি। সুলক্ষ্মণা একতরফা ভালবাসতেন নায়ককে।
সুলক্ষ্মণা পণ্ডিত চেয়েছিলেন সঞ্জীব কুমারকে বিয়ে করতে। কিন্তু, সঞ্জীব তাতে রাজি ছিলেন না। একটি সাক্ষাৎকারে জীবনীকার বলেন, সুলক্ষ্মণা একবার ওঁকে মন্দিরে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে বলেন, মেরি মাঙ্গ মে সিন্দুর ভর দো। কিন্তু সঞ্জীব রাজি হননি। কারণ সঞ্জীব তখনই জানতেন, তিনি আর বেশিদিন বাঁচবেন না। তাই তিনি অন্য একটি মেয়ের জীবন নষ্ট করতে চাননি।
১৯৮৫ সালে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে যখন সঞ্জীব কুমারের মৃত্যু হয়, তখন সেই খবর শুনে একেবারে ভেঙে পড়েন সুলক্ষ্মণা পণ্ডিত। এর ঠিক পরেই তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়। এই দুঃখে শোকে সিনেমার ক্যামেরার সামনে থেকে সরে দাঁড়ান সুলক্ষ্মণা। নিজেই একবার বলেছিলেন, একটির পর একটি মৃত্যু আমাকে ভেঙে দিয়েছিল। মানসিকভাবে আমি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি। দীর্ঘদিনেও সেই শোক মন থেকে মুছে ফেলতে পারিনি। সঞ্জীব কুমার তাঁর সিঁথিতে সিঁদুর না দেওয়ায় সুলক্ষ্মণা পণ্ডিতও আর কোনওদিন বিয়ে করেননি।