বলিউড মানেই ঝলমলে আলো, তারকাখচিত মঞ্চ, আর পর্দার আড়ালে হাজারো বিতর্ক। শাহরুখপুত্র আরিয়ান খানের প্রথম পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘The B***s of bollywood’ ঘিরেও সেই বিতর্ক যেন তুঙ্গে।

শেষ আপডেট: 25 September 2025 16:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড মানেই ঝলমলে আলো, তারকাখচিত মঞ্চ, আর পর্দার আড়ালে হাজারো বিতর্ক। শাহরুখপুত্র আরিয়ান খানের প্রথম পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘The B***s of bollywood’ ঘিরেও সেই বিতর্ক যেন তুঙ্গে।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া এই সিরিজ়কে কেন্দ্র করে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন আইআরএস, প্রাক্তন এনসিবি আধিকারিক সমীর ওয়াংখেড়ে। তাঁর অভিযোগ— সিরিজের একটি চরিত্র আসলে তাঁকে ব্যঙ্গ করার জন্যই তৈরি, যা নাকি তাঁর ভাবমূর্তিকে আঘাত করেছে। আর সেই কারণেই শাহরুখপুত্র আরিয়ান এবং রেড চিলিজ এন্টারটেনমেন্টের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে ২ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেছেন তিনি।
২০২১ সালের সেই স্মৃতি এখনও তাজা। ক্রুজ পার্টি থেকে মাদকযোগের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন আরিয়ান। তখনই এই তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সমীর ওয়াংখেড়ে। জেলে কাটাতে হয়েছিল কিছুদিন। পরে অবশ্য আদালত থেকে অব্যাহতি মেলে শাহরুখপুত্রের। কিন্তু সেই অধ্যায় যেন নতুন করে ফিরে এল ওয়েব সিরিজের পর্দায়। এক এনসিবি আধিকারিকের চরিত্র, যাঁর চেহারার সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে সমীর ওয়াংখেড়ের। নেটিজেনরা বলছেন, ইচ্ছাকৃত ভাবেই সেই চরিত্রে খোঁচা দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন আধিকারিককে।
সমীরের বক্তব্য আরও কঠোর। তাঁর দাবি, এই সিরিজ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিদ্বেষপরায়ণ এবং মানহানিকর। শুধু তাঁকেই নয়, বরং মাদকবিরোধী সংস্থা তথা আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে ওয়েব সিরিজটি। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে বলেও দাবি তাঁর। আরও অভিযোগ, এই সিরিজে এক দৃশ্যে দেখা যায়— ‘সত্যমেব জয়তে’ উচ্চারণ করার পর অশ্লীল ইঙ্গিত (মধ্যমা উঁচু করে) করা হচ্ছে। সমীরের মতে, এটি জাতীয় সম্মানের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ, যা প্রতিরোধ আইনের আওতায় ফৌজদারি শাস্তিযোগ্য। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, সিরিজ়ের বিষয়বস্তু তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধি (বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা)-র বিভিন্ন ধারাকেও লঙ্ঘন করেছে।
এই কারণেই দিল্লি হাইকোর্টে তিনি মামলা ঠুকেছেন। আবেদনে দাবি করেছেন, সিরিজের স্ট্রিমিং ও বিতরণ অবিলম্বে বন্ধ করা হোক, এবং আদালত ঘোষণা করুক— এটি মানহানিকর। এছাড়া যে ২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ তিনি চেয়েছেন, সেটি যেন সরাসরি দান করা হয় টাটা মেমোরিয়াল ক্যান্সার হাসপাতালে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার জন্য।
উল্লেখ্য, এই ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন ববি দেওল, লক্ষ্য, রাঘব জুয়াল, অন্যা সিংহ, সঙ্গে রয়েছে বহু তারকার বিশেষ উপস্থিতি। কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রে এখন শুধু বিতর্কই।
এখানেই শেষ নয়। সমীর ওয়াংখেড়ে নিজেও বিতর্কের বাইরে নন। ২০২৩ সালের মে মাসে সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। অভিযোগ ছিল, শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ানকে ছাড়িয়ে নেওয়ার শর্তে ২৫ কোটি টাকা ঘুষ চাইছিলেন তিনি। যদিও সমীর সেই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন— এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়। তাঁর যুক্তি, শাহরুখ খানের সঙ্গে বিনিময় হওয়া তাঁর টেক্সট মেসেজ প্রমাণ করে, তাঁদের কথোপকথনে কখনও চাপ বা আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিতই ছিল না।
সব মিলিয়ে, বাস্তব আর পর্দার গল্প যেন গুলিয়ে যাচ্ছে। আদালতের ঘেরাটোপে শুরু হয়েছে নতুন লড়াই। সমীর ওয়াংখেড়ের অভিযোগের জবাব কীভাবে দেবে আরিয়ান ও শাহরুখ, তা দেখার অপেক্ষা।
তবু এক অদ্ভুত বোধ থেকে যায়। ঝলমলে পর্দার আড়ালে, তারকাদের আলোয় ভরা জীবনের মধ্যে লুকিয়ে থাকে কত না অন্ধকার, কত না ক্ষত। কেউ ভুলে যেতে চায়, কেউ আবার মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, সময়ই বলে দেবে— কার গল্প থেকে যাবে মানুষের মনে, আর কার কাহিনি মিলিয়ে যাবে নিঃশব্দে।