৯০ বছর বয়সে এসে অনেকেই লাঠি ধরে ফেলেন। অশক্ত-অক্ষম হয়ে পড়েন। কিন্তু, সেলিম খানের জীবনযাত্রা যেন সৌরজগতের মতো কঠিন নিয়মে চলে।

বলিউডের ‘ভাইজান’ সলমন খানের বাবা।
শেষ আপডেট: 24 November 2025 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘শোলে’র চিত্রনাট্যকার সেলিম-জাভেদ জুটির কিংবদন্তি লেখক সেলিম খানের আজ, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ৯০-তম জন্মদিন। যিনি বলিউডের ‘ভাইজান’ সলমন খানের বাবা। বাবার উদ্দেশে তাঁর মেয়ে অর্পিতা খান শর্মা এক মন ছুঁয়ে যাওয়া পোস্ট করেছেন। সঙ্গে দিয়েছেন একটি পারিবারিক মিলনের ছবি। যেখানে তাঁর স্বামী আয়ুষ শর্মা, বাবা সেলিম খান, মা (প্রথম স্ত্রী) সালমা খান এবং অর্পিতার সন্তানদের ছবি রয়েছে।
৯০ বছর বয়সে এসে অনেকেই লাঠি ধরে ফেলেন। অশক্ত-অক্ষম হয়ে পড়েন। কিন্তু, সেলিম খানের জীবনযাত্রা যেন সৌরজগতের মতো কঠিন নিয়মে চলে। এতটুকুও এধার-ওধার হওয়ার নয়। এখনও উৎসাহ-উদ্দীপনায় এবং জীবন উপভোগ করায় কোনও ক্ষান্তি নেই। সলমন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বাবা দুবেলা পেটপুরে খাওয়াদাওয়া করেন। তার মধ্যে থাকে পরোটা, ভাত, মাংস এবং মিষ্টি। তা সত্ত্বেও নিয়মানুবর্তিতার জন্য তিনি এতটাই সুস্থ। বান্দ্রা ব্যান্ডস্ট্যান্ডে রোজ সকালে হাঁটা এবং ব্যায়াম তাঁর নিয়মিত রুটিনে রয়েছে।
সেলিম খানের সঙ্গে প্রখ্যাত গীতিকার, কবি ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতারের বন্ধুত্ব অটুট। দুজনে মিলে হিন্দি ছবির চিত্রনাট্য, সংলাপ ও কাহিনির ডিএনএ বদলে দিয়েছিলেন। সাতের দশকে তাঁদের মস্তিষ্কের ফসলে একে একে সোনা ফলিয়েছে বলিউডের সিনেমা জগৎ। সীতা অউর গীতা, জঞ্জির, দিওয়ার, শোলে, ত্রিশূল, ক্রান্তি এবং ডন সিরিজের ছবি আজও দর্শক মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ১৯৬০ সালের শেষাশেষি সেলিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় জাভেদ আখতারের। জাভেদ আখতারও তখন বম্বেতে টিকে থাকার লড়াই করছেন। দুজনে ঠিক করেন জুটি বেঁধে চিত্রনাট্য লিখবেন। তাঁদের এই লেখার অনবদ্যতা চোখে পড়ে জিপি সিপ্পি প্রযোজক সংস্থার। আন্দাজ সিনেমা তৈরির সময় তাঁরা দেখা করেন রাজেশ খান্নার সঙ্গে। রাজেশ খান্না তাঁদের হাতি মেরে সাথী সিনেমার স্ক্রিপ্ট নতুন করে লেখার বরাত দেন। এখান থেকে শুরু হয়ে যায়- সেলিম-জাভেদ যুগের। এই জুটির জয়যাত্রা চলে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত। তারপর তাঁরা আলাদা কাজ শুরু করে দেন।
প্রথম স্ত্রী সালমা খানের সঙ্গে বিয়ের পরেও সেলিম খান বিয়ে করেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী তথা হিন্দি ছবিতে ভারতীয় ও পশ্চিমী শৈলীর নৃত্যাভিনেত্রী হেলেনকে। তাঁদের চার সন্তান রয়েছে। তিনি যখন হেলেনকে বিয়ে করেন তখন তাঁর আগের স্ত্রীর ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে গিয়েছেন। হেলেনকে বিয়ের সময় তাঁর মনে সন্দেহ ছিল, তারা কী করে বাবার দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নেবে। সেলিম খান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বাধা এসেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সবকিছুই বদলে যায়। এখন সলমন খান, সোহেইল খান, আরবাজ খান এবং আলবিরা-রা হেলেনকে মেনে নিয়েছেন।
হেলেন ও সালমাও একে অপরকে মানিয়ে নিয়েছেন। হেলেনের সঙ্গে সেলিম খানের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৬৩ সালে কাবলি খান ছবির সময়। হেলেন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, কাবলি খানে আমি নায়িকা ছিলাম এবং উনি ছিলেন খলনায়কের চরিত্রে। আমি ভাবতেই পারি না, সেলিমসাব ভিলেন হতে পারেন। ছবির সেটে আমাদের তেমন কথাবার্তাও হতো না।
এরও অনেক বছর পর তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেন ‘ডন’ সিনেমার সেটে। ‘ইয়ে মেরা দিল প্যায়ার কা দিওয়ানা’ গানেই হেলেনে মুগ্ধ হয়ে সেলিম। তারপর থেকেই দুজনের নতুন চিত্রনাট্য লিখতে শুরু করেন সেলিম ও হেলেন। হেলেনই বলেছিলেন, যদি প্রথম দেখা বলা যায়, তাহলে ডন-এর সময়ই তা হয়েছিল। সন্ধ্যায় শ্যুটিং শেষে তাঁরা বেরিয়ে পড়তেন। সেলিম বলেছেন, সন্ধ্যায় আমরা পান করতাম। তারপর হেলেন চলে যেত। প্রেমে পড়া নিয়ে সেলিম প্রশ্নকর্তাকে বলেছিলেন, প্যায়ার তো আপনে অগর কিয়া হোগা তো পাতা লাগেগা।
সেলিম আবদুল রশিদ খানের জন্ম ১৯৩৫ সালে, ইন্দোরের এক প্রভাবশালী পরিবারে। ইন্ডিয়ান ইম্পেরিয়াল পুলিশে ডিআইজি ছিলেন তাঁর বাবা আবদুর রশিদ খান। পরিবারের অনেকেই চাকরি করতেন সেনাবাহিনীতে। সেলিম খানের পূর্বপুরুষরা আলাকোজাই পাশতুন। আফগানিস্তান থেকে ১৮০০ শতকের মাঝামাঝি তাঁরা ভারতে চলে আসেন। সেলিম খানের পড়াশোনা ইন্দোরের সেন্ট রাফেলস স্কুল ও হোলকার কলেজে। তাঁর চেহারার জন্য বন্ধুরা তাঁকে ফিল্মে নামার পরামর্শ দিত। প্রথম ছবি আলাদিন-লায়লায় তিনি একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় দিয়ে কাজ শুরু করেন। তারপর ১৯৬০ সালে বারাত, পুলিশ ডিটেকটিভ, রামু দাদা, প্রফেসর, কাবলি খান, বচপন, দারা সিং, আন্ধি অউর তুফান, রাকা, তিসরি মঞ্জিল, দিওয়ানা, ছায়লা বাবু এবং লহুঁ পুকারেগা ছবিতে অভিনয় করেন। তা সত্ত্বেও অভিনতা হিসেবে তেমন নামডাক না করতে পারায় তিনি চিত্রনাট্য লেখার কাজ শুরু করেন।