
কাঁদছেন রুক্মিণী
শেষ আপডেট: 30 December 2024 17:47
১৪০ বছরের সংগ্রাম, বহু চোখের জল, বিনিদ্র রাত আর অপমানের অবশেষে অবসান। পরাধীন ভারতে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন অভিনেতা বিনোদিনী দাসী তাঁর সেই স্বপ্নই পূর্ণ হতে চলেছে ২০২৫-এ। বিনোদিনীর ইচ্ছে ছিল উত্তর কলকাতার বিডন স্ট্রিটের স্টার থিয়েটারের নাম বদলে হবে তাঁর নামে। যদিও সে সময় সমাজ তাঁর এই প্রস্তাবে হেসেছিল, মুখের উপরেই তাঁর চরিত্র নিয়ে করেছিল কটূক্তি। তবে এ দিন সন্দেশখালির সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, হাতিবাগের স্টার থিয়েটারের নাম বদলে হবে বিনোদিনীর নামে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই চোখে জল অভিনেতা রুক্মিণী মৈত্রর। বিনোদিনীর জীবনী নিয়ে রামকমল মুখোপাধ্যায়ের ছবিতে তিনিই যে পর্দার বিনোদিনী। আগামী মাসেই সেই ছবি মুক্তি পাবে প্রেক্ষাগৃহে। তার আগে তাঁর 'প্রিয় দিদি'র সিদ্ধান্তে আনন্দে আত্মহারা তিনি। 'দ্য ওয়াল'-এর তরফে নায়িকার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "অনেকেই বলছেন কাকতালীয়, তবে কোনও কিছুই কিন্তু কাকতালীয় নয়। আসলে ভগবানের নিজস্ব একটা অধ্যায় লেখা থাকে। কখন যে কোনটা হবে তা বোধহয় আগে থেকেই ঠিক করে রাখেন তিনি। আমি যখন খবরটা শুনেছি তখন থেকে কেঁদেই যাচ্ছি। পাশে মা রয়েছেন। আমার মায়ের চোখেও জল।" বলতে বলতেই গলা ধরে এল রুক্মিণীর।
২০১৯ সালে প্রথম বার বিনোদিনীর আত্মজীবনীর চিত্রনাট্য হাতে এসে পৌঁছয় তাঁর। অভিনেত্রী যোগ করলেন, "যবে থেকে ওঁর সম্পর্কে জানতে পেরেছি বারেবারে মনে হয়েছে কত বড় অপরাধটাই না ঘটে গিয়েছে এক মহিলার সঙ্গে এই বাংলার বুকে। আজ আমরা স্টার থিয়েটার নিয়ে এত গর্ব করি সেটা তো বিনোদিনী দাসীরই অবদান। পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজ কিন্তু তাঁকে সেই সম্মান দেননি।" নতুন বছরে মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে কোথাও গিয়ে কি রুক্মিণীও পরোক্ষে জড়িত? নাম পরিবর্তনের আর্জি জানিয়েছিলেন নিজেই?
তাঁর কথায়, "অবশ্যই আমি বলেছিলাম দিদিকে। উনি যে এই কাজটা এর দ্রুত ভাবে করে দেবেন আমি ভাবতেই পারিনি। ওঁকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি এতো মেসেজ করেছি দিদিকে খবরটা পাওয়ার পর, শুধু ধন্যবাদই লিখে যাচ্ছি।" না থেমে বলেই চলেন রুক্মিণী...'ভাবুন তো ১৪০ বছর হয়ে গেল। ভারত স্বাধীন হয়ে গেল। অথচ ওই নারী নিজের স্বাধীনতার জন্য আজও লড়ে যাচ্ছেন। কীসের জন্য? তাঁর সম্মানের জন্য, তাঁর যোগ্য কৃতিত্বের জন্য। অবশেষে প্রায় ২০২৫-এর দোরগোড়ায় এসে তিনি প্রাপ্যটা পেলেন। আমি বিনোদিনীর ছবিতে অভিনয় করছি বলে নয়, নারী হিসেবে আজ আমি গর্বিত। কথা বলতে পারছি না। শুধুই কান্না পেয়ে যাচ্ছে।"
প্রসঙ্গত, হাতিবাগানের স্টার থিয়েটার কিন্তু বিনোদিনীর টাকায় গড়া নয়। সেখানে তিনি অভিনয়ও করেননি কখনও। বিনোদিনীর স্টার থিয়েটারটি ছিল বিডন স্ট্রিটে। ১৯২৮ সালে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ তৈরি হওয়ার সময় সেটি অবলুপ্ত হয়। একই সঙ্গে মুছে যায় তাঁর স্বপ্নও। আজ সেই স্বপ্নপূরণের দিন। যুদ্ধে জিতে যাওয়ার দিন। যে জয়ে সামিল রুক্মিণীও। সামিল নাট্যপ্রেমী সাধারণও।