অবশেষে অপেক্ষার অবসান। পর্দায় নামল এক নতুন ভয়ের জগৎ, যেখানে সময়, পুরাণ আর অজানা অলৌকিকতার সীমানা মিলেমিশে একাকার।

ঋতুপর্ণা।
শেষ আপডেট: 5 November 2025 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে অপেক্ষার অবসান। পর্দায় নামল এক নতুন ভয়ের জগৎ, যেখানে সময়, পুরাণ আর অজানা অলৌকিকতার সীমানা মিলেমিশে একাকার। মুক্তি পেল আরবাজ খান ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সুপারন্যাচারাল থ্রিলার ‘কাল ত্রিঘোরী’-র টিজার—আর প্রথম দৃশ্য থেকেই যেন শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে আসে।
আরবাজ খানের সঙ্গে এই প্রথম ঋতুপর্ণার জুটি, কিন্তু টিজারের প্রথম ফ্রেম থেকেই বোঝা যায়, ‘কাল ত্রিঘোরী’ শুধুমাত্র একটি হরর সিনেমা নয়, এটি ‘হরিফিক’ যাত্রাপথও। পর্দার প্রতিটি ছায়া যেন ঋতুপর্ণার চোখের ভিতর প্রতিফলিত—ভয়, বিশ্বাস, আর এক অজানা শক্তির গূঢ় সংলাপ।
টিজার শুরু হয় এক রহস্যময় অন্ধকারে—এক প্রাচীন হাভেলি, টিমটিমে প্রদীপ, দেয়ালে আঁকা অচেনা প্রতীক, আর কোথাও এক কালো বিড়াল নিঃশব্দে হেঁটে যাচ্ছে। সেই মন্ত্রমুগ্ধ পরিবেশের মাঝেই উঠে আসে ঋতুপর্ণা—এক নারী, যিনি যেন জানেন অন্ধকারের ভাষাও। ঋতুপর্ণার অভিনয়ে ভীতি যেন ভয়ের গায়ে এক নিঃশব্দ হাতছানি।
পরিচালক নিতিন বৈদ্যর ‘কাল ত্রিঘোরী’ এমন এক কাহিনি, যেখানে পুরাণ, সময়, আর অলৌকিক শক্তির মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে তিনটি অভিশপ্ত রাত্রির গল্প। বিরল এক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সংযোগের সময় ফেঁসে যায় তিনটি আত্মা—ভয়, বিশ্বাস আর ভাগ্যের জটিল চক্রে। সেই ত্রয়ীর কেন্দ্রবিন্দুতেই যেন ঋতুপর্ণার চরিত্র।
এই ছবিতে আরবাজ খান ফিরছেন এক গাঢ়, রহস্যময় চরিত্রে—একদম ভিন্ন রূপে। তাঁর বিপরীতে ঋতুপর্ণা, যিনি এই গল্পে আবেগের ভারসাম্য, আভিজাত্য আর আত্মিক শক্তির প্রতীক। টিজারে তাঁর সংলাপের অভাব থাকলেও, তাঁর মুখের নীরবতা যেন হাজার শব্দে বলে যায়—“সব মিথ্যা কি সত্য নয়?”
ছবিতে রয়েছেন মহেশ মাঞ্জরেকর, আদিত্য শ্রীবাস্তব, রাজেশ শর্মা ও মুগ্ধা গদসে—যাঁরা গল্পের রহস্যময় জগৎকে আরও গভীর করেছেন। কিন্তু ঋতুপর্ণা সেই মায়াজালের মধ্যে যেন এক আলোকবিন্দু, যার মৃদু উজ্জ্বলতায় প্রতিটি অন্ধকার ফ্রেম জেগে ওঠে।
গথিক আভায় ভরা ছবির ভিজ্যুয়াল টোন, চাঁদের আলোয় নাচছে ছায়া, মন্ত্রোচ্চারণ—সব কিছুর মধ্যে ঋতুপর্ণার মুখ যেন এক স্থির প্রতীক। তাঁর উপস্থিতি ভয়কে আতঙ্ক করে তোলে।
নবীন প্রোডাকশনস এলএলপি-র ব্যানারে নির্মিত, প্রযোজক নিতিন ঘটালিয়া, শিরীষ বৈদ্য ও মনসুখ তালসানিয়ার এই চলচ্চিত্র মুক্তি পেতে চলেছে ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর—দীপাবলির পর যখন উৎসবের আলো এখনও ম্লান হয়নি, তখনই সেই আলোকে ছুঁয়ে নামবে এক অচেনা অন্ধকার।