বিশাল তারকাখচিত বিয়ের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত ছিলেন ছ'হাজার মানুষ। ঋষির বিয়েতেই আবার মুখোমুখি হন নার্গিস ও রাজ কাপুর।

ঋষি-নীতুর বিয়ে
শেষ আপডেট: 10 July 2025 13:08
নীতু সিং একদম শিশু বয়স থেকে ছবিতে অভিনয় শুরু করেন। তখন তাঁর নাম ছিল বেবি সনিয়া। 'সুরজ', 'দশ লাখ', 'ওয়ারিশ', 'ঘর ঘর কি কাহানি', ছয়-সাতের দশকে শুরু অব্দি বেবি সনিয়া নামে অভিনয় করেন নীতু। 'রিক্সওয়ালা' ছবিতে রণধীর কাপুরের বিপরীতে নায়িকার চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন নীতু। তবে প্রথম সাফল্য এল 'ইয়াদো কি বরাত' ছবি দিয়ে।
যখন নীতু চোদ্দো, তখন ঋষি স্টার। তবু চোদ্দোর নীতু প্রেমে পড়েন ঋষি কাপুরের। এও শোনা যায়, ববি ছবির জন্য নীতুও অডিশন দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বরাত খোলেনি বলে ডিম্পল সুযোগ পান। পরে ডিম্পল খান্না হয়ে যান কারণ বেশ ছোটবেলাতেই ডিম্পল রাজেশ খান্নার ঘরণী হয়ে যান এবং সিনেমা ছেড়ে দেন। অন্যদিকে নীতু সুযোগ পান ঋষির পরের ছবিগুলোতে নায়িকা রূপে। ব্যস এভাবেই বলিউডে দাঁড়িয়ে যায় ঋষি-নীতু জুটি। এই জুটির একের পর এক ছবি সুপারহিটও হয়: অমর আকবর অ্যান্টনি, খেল খেল মে, কাভি কাভি। সুপারহিট হয় গানগুলোও।

সেই সঙ্গে তখনকার সমস্ত সিনে পত্রিকায় ঋষি-নীতু প্রেম নিয়ে জোর জল্পনা। ১৯৮০ সালে সব জল্পনা সত্যি করে ঋষি-নীতুর বিয়ে হয়। বিশাল তারকাখচিত বিয়ের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত ছিলেন ছ'হাজার মানুষ। ঋষির বিয়েতেই আবার মুখোমুখি হন আবার নার্গিস ও রাজ কাপুর। মাঝে তাঁদের সাক্ষাৎ ছিল না।
খাবারের পাহাড় আর সুরার ফোয়ারায় অতিথিরা মাত হয়ে যান। শেরোয়ানি পরে ঋষিকে ঠিক পাঞ্জাবি বরের মতোই লাগছিল। নীতু নাকি বিয়ের দিন সকালে খানিক ক্ষণের জন্য জ্ঞান হারান। বিয়ের ধকলে নীতুকে বেশ অসুস্থও দেখাচ্ছিল অনুষ্ঠানে। উপোস করে মূর্ছা গিয়েছিলেন নীতু।

রণধীরের স্ত্রী ববিতার পরে আরও এক চিত্রনায়িকা গৃহবধূ হয়ে এলেন কাপুর পরিবারে। নীতুর বিয়েতে কনে সাজানোর দায়িত্বে ছিলেন তাঁর প্রিয় বান্ধবী রেখা। তখন নীতু নায়িকা হিসেবে খ্যাতির মধ্যগগনে। কিন্তু অজানা এক কারণে নীতু বিয়ের পরেই ছেড়ে দিলেন ফিল্ম জগত। যখন তাঁকে পরে জিজ্ঞেস করা হয়, "আপনি যখন কাপুর পরিবারে শ্বশুরবাড়ি গেলেন, কী মনে হত আপনার? একসঙ্গে রাজ কাপুর, শাম্মী কাপুর, শশী কাপুর, রণধীর কাপুর, ঋষি কাপুরকে দেখে চমকে যেতেন?"
তিনি উত্তর দেন "আমিও ফেলনা নই, আমিও আ্যওয়ার্ড উইনার অভিনেত্রী।" কিন্তু ছবির জগত ছাড়া নিয়ে কাপুর পরিবারকে কখনও দোষ দেননি নীতু। সব সময় বলেছেন, নিজের ইচ্ছেয় ছেড়েছেন তিনি ফিল্মজগৎ। গুছিয়ে সংসার করতেই চেয়েছেন।

ছেলে রণবীর কাপুর, ঋষি কাপুরের যোগ্য উত্তরসূরী। পরিশ্রম করে রণবীর কিভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন তাঁর সাক্ষী ঋষি-নীতু দু'জনেই। ওঁদের আর এক মেয়ে ঋদ্ধিমা কাপুর সাহানি। সবই সুন্দর ছিল, থাবা বসাল ক্যানসার। দু'বছরের লড়াই শেষ। বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েও শেষরক্ষা হল না। ঋষি মাঝে সুস্থ হয়ে নীতুর জন্মদিন পালন করেছিলেন প্যারিস গিয়ে। সেই লাভস্টোরির ইতি টানা হল ঋষির মৃত্যুতে।
ঋষি-নীতু দুজনেই বলতেন, রোমান্স মানে দিনে একশো বার আই লাভ ইউ বলা নয়, রোমান্স মানে ক্যান্ডেল লাইট ডিনার নয়, মূল্যবান উপহার নয়, রোমান্স মানে একে অপরকে বুঝতে পারা, সে তাঁর কষ্ট না বললেও, ভরসা, নির্ভরতা, মাধুর্য বাঁচিয়ে রাখা দীর্ঘ দাম্পত্যে দুঃখ কষ্টের মধ্যেও। এটাই হল আসল 'কাপল গোলস'।

নীতু সিং যেন সেটাই করে গেলেন এত গুলো বছর। ভালবাসার জন্য শুধু স্বামীকে নয় সমগ্র কাপুর পরিবারকে জড়িয়ে থাকলেন নীতু। ঋষি কাপুর ক্যানসারের যুদ্ধে জীবনের সমাপ্তি টানলেও, ঋষি-নীতু প্রেম শাশ্বত অমর হয়ে থাকবে। এ ছিল তাঁদের একটা সেলিব্রেশন। যা চিরদিনের, চিরন্তন।