রণবীর সিং চল্লিশে পা দিলেন। আর ভক্তদের উপহার দিলেন নতুন ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর প্রথম ঝলক। ঝলক যতটা জমাটি, আলোচনাও ততটাই বিস্ফোরক।

রণবীর সিং
শেষ আপডেট: 7 July 2025 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রণবীর সিং চল্লিশে পা দিলেন। আর ভক্তদের উপহার দিলেন নতুন ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর প্রথম ঝলক। ঝলক যতটা জমাটি, আলোচনাও ততটাই বিস্ফোরক। কারণ ছবিতে রণবীরের বিপরীতে যাঁকে দেখা যাবে, তিনি সারা অর্জুন—মাত্র ২০ বছর বয়সি এক তরুণী, যাঁকে এখনও অনেকেই মনে রাখেন শিশুশিল্পী হিসেবে ‘দেইভা থিরুমাগাল’-এ তাঁর অভিনয়ের জন্য। আর এখানেই শুরু বিতর্ক।
ইন্টারনেটের প্রতিক্রিয়া ছিল ক্ষিপ্র এবং তীক্ষ্ণ। কেউ লিখলেন, ‘৪০ বছর বয়সি পুরুষ আর ১৮ বছরের মেয়ের প্রেম—এটা ২০২৪, বলিউড কি এখনও আটকে ১৯৮৪-তে?’ কেউ আবার ছবি কেটে পোস্ট করলেন—রণবীর আর সারাকে পাশাপাশি বসিয়ে লিখলেন, ‘এটা কাস্টিং নয়, এটা মানসিক অসুস্থতা।’

এরকম প্রতিক্রিয়া নতুন নয়। পুরুষ তারকারা যখন তাঁদের বয়সকে অস্বীকার করে অনায়াসে নিজের মেয়ের বয়সি অভিনেত্রীদের সঙ্গে প্রেমে মেতেছেন পর্দায়, তখনই প্রশ্ন উঠেছে—এটা কি দর্শকদের বোকা বানানোর চেষ্টা নয়? সলমন খান আর রশ্মিকা মন্দান্না, কমল হাসান আর ৪২ বছরের অভিনেত্রী, শাহরুখ আর ২১ বছরের দীপিকা, অক্ষয় কুমার আর ৩০ বছরেরও ছোট নায়িকারা—এই তালিকা দীর্ঘ, বিরক্তিকর এবং আশঙ্কাজনকও বটে।
অন্যদিকে নারীদের বয়স বাড়লেই তাঁরা পর্দার পিছনে চলে যান, অথবা মায়ের চরিত্রে আবদ্ধ হন। কেউ কেউ ফিরতে চাইলে বলা হয় ‘অফবিট’, ‘ডেস্পারেট’, বা 'অবিশ্বাস্য'!

ঐশ্বর্য রাই যখন ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’-এ রণবীরের সঙ্গে রোমান্স করলেন, তাঁকে মা, স্ত্রী, এমনকি ‘বয়স্ক নারী’ হওয়ার পরেও আবেদনময়ী হওয়ার চেষ্টা করছে’ বলেও কটাক্ষ করা হয়। করিনা কাপুর, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, রানি মুখার্জিরাও এমনই বক্তব্যের শিকার। এমনকি মাত্র ২ বছরের ফারাকেও দর্শকরা ভুরু কুঁচকে তাকান, যদি নারীর বয়স বেশি হয়।

তবে, এই দ্বিচারিতা আর চাপা নেই। সোশ্যাল মিডিয়া এখন আর নীরব নয়। কেউ লিখেছেন, ‘৪০ বছরের পুরুষ প্রেমে পড়ে, ৪০ বছরের নারী লিস্ট থেকে বাদ পড়ে।’ কেউ আবার বলেছেন, ‘যে দিন ৭০ বছরের নায়িকা ৪০ বছরের নায়কের সঙ্গে রোমান্স করবেন, সেদিন বলুন এটা ‘ম্যাজিক’। তার আগে নয়।’

বলা হচ্ছে, ‘ধুরন্ধর’-এ সারার চরিত্র আসলে প্রেমিকা নয়, এক মহিলা জঙ্গি, যাকে রণবীর ফাঁদে ফেলেন। যদি তাই হয়, তবে প্রেম-উপলক্ষে নয়, গল্পের দাবি মেনেই কাস্টিং হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—এই চরিত্রর জন্য কি আর কেউ কি উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারত না, যাঁর অভিজ্ঞতা বেশি, বা যিনি চরিত্রের গুরুত্ব বহন করার মতো ম্যাচিউর? নাকি তরুণী মুখ মানেই ‘ভ্যালু অ্যাডিশন’?
এই ছবিতে সারা অর্জুনের জন্য এটি বড় সুযোগ—বলিউডে নিজেকে প্রমাণ করার প্রথম পদক্ষেপ। তবু এই অর্জন যদি এমন এক কাঠামোর ভিতর দিয়ে আসে, যেখানে নারী অভিনয়শিল্পীদের মূল্য নির্ধারিত হয় তাঁর যৌবনের ভিত্তিতে, তখন তা ভবিষ্যতের পক্ষেও আশঙ্কার বার্তা বহন করে।

‘ধুরন্ধর’ মুক্তি পেতে চলেছে ডিসেম্বরে। ট্রেলর যতটা উত্তেজনা ছড়াচ্ছে, ততটাই উঠছে প্রশ্ন বলিউডের পুরনো অভ্যাস নিয়ে। বয়স যদি শুধু সংখ্যা হয়, তাহলে তা নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। না হলে সিনেমা শুধু রূপকথা হয়ে থাকবে না, বরং পুরুষ-প্রাধান্যের অসুস্থ ফ্যান্টাসিও বুনে যাবে। সময় এসেছে বলিউডের খানিক বড় হয়ে ওঠার। শুধুই তারকা কিংবা কনটেন্টের নিরিখে নয়, চিন্তাভাবনাতেও।