‘ধুরন্ধর’ ছবিতে করাচির লিয়ারি হিসেবে দেখা রহমান ডাকাতের বাড়ি আসলে এদেশে। পাকিস্তান নয়, ভারতের এই লোকেশন চাইলে ঘুরে দেখতেই পারেন আপনিও।

রহমান ডাকাতের পর্দার বাড়ি
শেষ আপডেট: 8 January 2026 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পর্দায় পাকিস্তানের করাচির লিয়ারি। বাস্তবে কিন্তু দেশ ছাড়তেই হয়নি 'ধুরন্ধরে'র ইউনিটকে। বক্স অফিসে দামামা বাজানো এই ছবির (Dhurandhar) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লোকেশন আসলে ভারতের মাটিতেই। অক্ষয় খান্না (Akshaye Khanna) অভিনীত কুখ্যাত গ্যাংস্টার রহমান ডাকাতের (Rehman Dakait) বাড়ি হিসেবে যে প্রাসাদোপম বাড়িটি দর্শক দেখেছেন, সেটি আদতে অমৃতসরের ঐতিহাসিক 'লালকোঠি' (Lal Kothi)।
৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে ভাল ফল করছে ‘ধুরন্ধর’। গল্পের টানটান গতি আর অভিনয়, দুটোই প্রশংসা কুড়িয়েছে। ছবির মূল চরিত্রে রয়েছেন রণবীর সিং (Ranveer Singh)। তিনি পর্দায় হামজা আলি মাজারি ওরফে জসকিরত সিং রাঙ্গির ভূমিকায়। তবে দর্শকদের একাংশের মতে, রণবীরের পাশাপাশি ছবির মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছেন অক্ষয় খান্না। বাস্তবের পাক গ্যাংস্টার রহমান ডাকাত হিসেবে তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছে সর্বত্র।
ছবির গল্প পাকিস্তানের প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠলেও শুটিং হয়েছে ভারতের বিভিন্ন জায়গায়। পাঞ্জাব (Punjab) ও চণ্ডীগড়ে (Chandigarh) ক্যামেরাবন্দি হয়েছে একাধিক দৃশ্য। তার মধ্যেই সবচেয়ে আলোচিত লোকেশন লালকোঠি। করাচির লিয়ারিতে অবস্থিত ডাকাতের বিলাসবহুল বাড়ি হিসেবে দেখানো হয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটিকে। ভিন্টেজ স্থাপত্য আর ইতিহাসের ছাপ ছবির আবহে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

লালকোঠির তত্ত্বাবধায়ক দীপক যাদব (Deepak Yadav) জানিয়েছেন, ‘ধুরন্ধরে’র শুটিং হয়েছিল দু’দিন ধরে। সেই সময় অক্ষয় খান্না, রণবীর সিং, সৌম্য ট্যান্ডন (Saumya Tandon)-সহ ছবির একাধিক শিল্পী উপস্থিত ছিলেন। দীপকের কথায়, লালকোঠিতে শুটিংয়ের জন্য প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। এই ভবন কোনও ব্যক্তির নয়, এটি একটি ট্রাস্ট (Trust)-এর অধীনে পরিচালিত।
শুধু ‘ধুরন্ধর’ নয়, এর আগেও বহু ছবির শুটিং হয়েছে এখানে। দীপক যাদবের দাবি, ‘সদিয়াঁ’ (Sadiyaan) হয়েছিল লালকোঠিতে, যেখানে অভিনয় করেছিলেন ঋষি কাপুর (Rishi Kapoor) ও রেখা (Rekha)। গত বছরও সঞ্জয় দত্ত (Sanjay Dutt), অক্ষয় খান্না ও রণবীর সিং এসেছিলেন শুটিংয়ে। সানি দেওল (Sunny Deol) ও তাঁর ছেলে করণ দেওল (Karan Deol)-ও একাধিকবার এসেছেন এখানে।
ছবিতে রহমান ডাকাত চরিত্রটি বাস্তবের এক কুখ্যাত পাক গ্যাংস্টারকে অনুসরণ করে তৈরি। ছবির কাহিনিতে দেখানো হয়েছে, কী ভাবে সে ২৬/১১ মুম্বই হামলার (26/11 Mumbai attacks) জঙ্গিদের অস্ত্র ও বিস্ফোরক জোগাতে সাহায্য করেছিল। শেষ পর্যন্ত পাক পুলিশ আধিকারিক চৌধুরি আসলামের নেতৃত্বে এক এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় ডাকাতের। ছবিতে সেই চরিত্রেই দেখা গিয়েছে সঞ্জয় দত্তকে।
পর্দার পাকিস্তান, ক্যামেরার ভারত, এই দ্বৈত বাস্তবতাই ‘ধুরন্ধর’-এর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।