ইম্পা অফিসে স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকের আগে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একাধিক তারকার উপস্থিতিতে বিশেষ একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

শেষ আপডেট: 28 January 2026 17:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইম্পা অফিসে স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকের আগে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একাধিক তারকার উপস্থিতিতে বিশেষ একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee), জিৎ, দেব, বনি সেনগুপ্তসহ অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের আগেই ‘পদ্মশ্রী’ প্রাপক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে উত্তরীয়, পুষ্পস্তবক, মিষ্টি ও বস্ত্র দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে জিৎ ও প্রসেনজিতের সৌজন্যমূলক আলিঙ্গন নজর কাড়ে।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়জীবন শুরু হয় শিশুশিল্পী হিসেবে। ১৯৬৮ সালে বাবা বিশ্বজিৎ পরিচালিত ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ ছবিতে প্রথম ক্যামেরার সামনে আসেন তিনি। ১৯৮৩ সালে ‘দুটি পাতা’ ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ এবং ১৯৮৭ সালের ‘অমর সঙ্গী’ তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। প্রায় পাঁচ দশক ধরে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত।
সংবর্ধনা গ্রহণ করে প্রসেনজিৎ বলেন, এই সম্মান তাঁর একার নয়। পরিচালক, প্রযোজক, সহ-অভিনেতা ও টেকনিশিয়ানদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই তাঁর এই পথচলা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, আজীবন বাংলা সিনেমাকে কেন্দ্র করেই তিনি কাজ করেছেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলা ছবি নিয়ে আলোচনা হওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবেই দেখেন।
স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও দেব। বৈঠকের বাইরে দেব জানান, তাঁর আসন্ন ছবিগুলির মুক্তির সময়সূচি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৈঠকের অভ্যন্তরীণ আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি আর কোনও মন্তব্য করেননি।
ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের পদ্ম পুরস্কারের প্রাথমিক তালিকা। পদ্ম পুরস্কার তিনটি বিভাগে দেওয়া হয়—পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণ ও পদ্মশ্রী। এ বছর মোট ১৩১ জনকে এই সম্মান দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ৫ জন পদ্মবিভূষণ, ১৩ জন পদ্মভূষণ এবং ১১৩ জন পদ্মশ্রী প্রাপক।
ধর্মেন্দ্র ও কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভি এস অচ্যুতানন্দন মরণোত্তর পদ্মবিভূষণে সম্মানিত হয়েছেন। পদ্মভূষণ পাচ্ছেন অলকা ইয়াগনিক ও দক্ষিণী অভিনেতা মামুট্টি। বিজ্ঞাপন জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব পীযূষ পান্ডেকেও মরণোত্তর পদ্মভূষণে সম্মান জানানো হয়েছে। জাতীয় স্তরের এই ঘোষণার মধ্যেই ইম্পা অফিসে হওয়া প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত হয়ে থাকল।