দক্ষিণী সিনেমার আকাশে অনেকদিন ধরেই যেন এক নীরব প্রেমকাহিনি ঘুরে বেড়াচ্ছিল—চোখে পড়ে, কিন্তু ধরা দেয় না। রশ্মিকা মন্দনা আর বিজয় দেবেরকোন্ডা।

শেষ আপডেট: 30 December 2025 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণী সিনেমার আকাশে অনেকদিন ধরেই যেন এক নীরব প্রেমকাহিনি ঘুরে বেড়াচ্ছিল—চোখে পড়ে, কিন্তু ধরা দেয় না। রশ্মিকা মন্দনা আর বিজয় দেবেরকোন্ডা। তাঁদের নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হলেই ভক্তদের কৌতূহল, গুঞ্জন, উত্তেজনা। চলতি বছরের অক্টোবরে সেই আগুনে আরও ঘি পড়ে, যখন বাগদানের খবর ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। যদিও সেই সময়ও, আজকের মতোই, দু’জনের কেউই প্রকাশ্যে কোনও স্বীকৃতি দেননি। নীরবতাই যেন তাঁদের সম্পর্কের সবচেয়ে জোরালো ভাষা।
রশ্মিকার আঙুলে একাধিকবার ধরা পড়েছে ঝকঝকে আংটি—ক্যামেরার চোখে, ভক্তদের নজরে। কিন্তু প্রশ্নের উত্তরে এসেছে কেবল হাসি, অথবা নিরুত্তরতা। কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি নয়, কোনও ঘোষণা নয়। তবু সেই নীরবতার মধ্যেই জমে উঠেছে বিশ্বাস—এই সম্পর্ক শুধুই গুঞ্জন নয়, এর ভিতর রয়েছে গভীর কোনও প্রতিশ্রুতি।
এবার সেই প্রতিশ্রুতিই কি বাস্তবের রূপ নিতে চলেছে? ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, খুব শিগগিরই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন এই দুই তারকা। খবর বলছে, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি তাঁদের চার হাত এক হবে, সাতপাকে বাঁধা পড়বেন তাঁরা। ফেব্রুয়ারি—ভালোবাসার মাস, ভ্যালেন্টাইনের আবেশে মোড়া সময়। সেই মাসেই যদি জীবনের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত, তাহলে তা যেন প্রেমের জন্যই এক নিখুঁত মুহূর্ত।
এই বিশেষ দিনের জন্য নাকি বেছে নেওয়া হয়েছে রাজকীয় এক পরিবেশ। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে, রাজস্থানের উদয়পুরে, এক ঐতিহ্যবাহী প্যালেসেই বসবে বিয়ের আসর। জাঁকজমক নয়, আলোঝলমলে জনসমুদ্র নয়—বরং খুবই ঘরোয়া, অন্তরঙ্গ আয়োজন। যেমনটা তাঁদের বাগদানের ক্ষেত্রেও শোনা গিয়েছিল। পরিবার আর অল্প কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে নিয়ে, নিভৃতেই নাকি এই পরিণয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার ইচ্ছে তাঁদের।
তবে উৎসবের রেশ সেখানেই থামছে না। বিয়ের পর হায়দরাবাদে আয়োজন করা হবে এক বড়সড় রিসেপশনের। সেই প্রীতিভোজে হাজির থাকবেন বিনোদন দুনিয়ার বন্ধু, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী—যাঁরা বছরের পর বছর ধরে তাঁদের কাজ, সাফল্য আর ব্যক্তিগত মুহূর্তের সাক্ষী।
মজার বিষয় হল, এতসব জল্পনা-কল্পনার মাঝেও, রশ্মিকা ও বিজয় আজও তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে একটিও স্পষ্ট বাক্য বলেননি। অথচ কিছু দৃশ্য এমন হয়, যা হাজার কথার চেয়েও বেশি বলে দেয়। কিছুদিন আগে রশ্মিকার ছবি ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’-এর সাফল্য উদযাপনের এক পার্টিতে, বিজয়কে রশ্মিকার হাতে চুমু খেতে দেখা যায়। সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হতেই ভাইরাল হয়ে যায় নেটদুনিয়ায়—আর নীরব প্রেমের গল্পে যেন আরও একটি আবেগঘন অধ্যায় যোগ হয়।
বয়সের হিসেবেও তাঁদের মধ্যে রয়েছে সাত বছরের ব্যবধান। রশ্মিকার বয়স এখন ২৯, বিজয়ের ৩৬। বয়স এখানে কোনও বাধা নয়, বরং অভিজ্ঞতা আর পরিণতির মেলবন্ধন। রশ্মিকার জীবনে অবশ্য প্রেম আর প্রতিশ্রুতির গল্প নতুন নয়। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে তাঁর বাগদান হয়েছিল অভিনেতা রক্ষিত শেট্টির সঙ্গে। কিন্তু সেই সম্পর্কের পরিণতি হয়নি। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ভেঙে যায় সেই বাগদান, আর বিচ্ছেদের কারণ আজও অজানাই থেকে গেছে।
হয়তো সেই অতীতের অভিজ্ঞতাই আজ রশ্মিকাকে আরও সংযত, আরও নীরব করেছে। আর বিজয়ের সঙ্গে এই সম্পর্ক তাই আলোয় নয়, ছায়াতেই বেড়ে উঠেছে—ধীরে, গভীরে, নিশ্চুপে।
এখন প্রশ্ন একটাই—এই নীরবতার গল্প কি অবশেষে রাজকীয় বিয়ের মণ্ডপে এসে থামবে? ফেব্রুয়ারির হালকা শীত, উদয়পুরের প্রাসাদ, আর দুই তারকার অদেখা প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে যদি সত্যিই সেই দিন আসে, তবে তা শুধু একটি বিয়ে নয়, দীর্ঘদিনের এক চুপচাপ ভালোবাসার পূর্ণতা হবে। নীরবতা যে কখনও কখনও সবচেয়ে সুন্দর স্বীকারোক্তি, রশ্মিকা আর বিজয়ের গল্প হয়তো সেটাই প্রমাণ করতে চলেছে।