রানি কাপুর দাবি করেন, তিনি সোনা গ্রুপের প্রধান শেয়ারহোল্ডার এবং AGM পিছিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংস্থার তরফে স্টক এক্সচেঞ্জে জমা পড়া বিবৃতিতে জানানো হয়, রানি কাপুর ২০১৯ সাল থেকেই এই কোম্পানির কোনও শেয়ারহোল্ডার নন।

শেষ আপডেট: 25 July 2025 19:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩০ হাজার কোটির সোনা গ্রুপের মালিকানা ঘিরে প্রবল পারিবারিক টানাপড়েন। প্রয়াত শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরের মা রানি কাপুর এবং তাঁর পরিবার এই মুহূর্তে মুখোমুখি, আর তার ছায়া পড়েছে সংস্থার ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানি সোনা বিএলডব্লিউ প্রেসিশন ফরজিংস লিমিটেড-এর উপরেও। শুক্রবার সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) ঘিরে নাটক চরমে পৌঁছয়।
রানি কাপুর দাবি করেন, তিনি সোনা গ্রুপের প্রধান শেয়ারহোল্ডার এবং AGM পিছিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংস্থার তরফে স্টক এক্সচেঞ্জে জমা পড়া বিবৃতিতে জানানো হয়, রানি কাপুর ২০১৯ সাল থেকেই এই কোম্পানির কোনও শেয়ারহোল্ডার নন।
কে সত্যি, কে নয়?
সংস্থার বক্তব্য, ২০১৯ সালের মে মাসে ‘সিগনিফিক্যান্ট বেনেফিশিয়াল ওনারশিপ’-এর যে ঘোষণা জমা পড়ে, তাতে সঞ্জয় কাপুরকে কোম্পানির একমাত্র উপভোক্তা মালিক (beneficial owner) হিসেবে দেখানো হয়েছে। সেই সূত্রেই, রানি কাপুর আর শেয়ারহোল্ডার নন বলে দাবি কোম্পানির।
AGM-এর ঠিক আগেই রানি কাপুর বোর্ডকে লেখা চিঠিতে জানান, তাঁকে জোর করে নথিতে সই করানো হয়েছিল। এমনকি, তাঁর বৌমা প্রিয়া সচদেব কাপুর অর্থাৎ সঞ্জয় কাপুরের দ্বিতীয় স্ত্রী, যাঁকে এখন সংস্থার বোর্ডে নিয়ে আসা হচ্ছে, তিনি পরিবারকে না জিজ্ঞেস করেই নিজেকে প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
রানি কাপুরের এই দাবির প্রেক্ষিতে কোম্পানি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, প্রিয়ার নাম একজন ‘নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর’ হিসেবে প্রস্তাবিত হয়েছিল এবং তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা ও অনুমোদিত হয়েছে বোর্ডের তরফে। রানির আরও অভিযোগ, তিনি ‘লকড ডোরের’ পিছনে সই করতে বাধ্য হন। তার জবাবে বোর্ড জানায়, সঞ্জয় কাপুরের মৃত্যুর পর থেকে রানি কাপুরের কাছ থেকে কোনও নথিতে সই নেওয়া হয়নি, কিংবা তাঁকে দিয়ে কোনও ডকুমেন্টে স্বাক্ষর করানো হয়নি।
সঞ্জয় কাপুরের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে গ্রুপের ভিতরে এই পারিবারিক টানাপড়েনই চিঠি আকারে সামনে আনেন রানি কাপুর। তাঁর অনুরোধ ছিল, AGM পিছিয়ে দেওয়া হোক। কোম্পানির বক্তব্য, রানির বক্তব্যকে সম্মান জানিয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। তবে যেহেতু তিনি আর শেয়ারহোল্ডার নন, তাই AGM পিছোনোর কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ তারা খুঁজে পায়নি।
রানি কাপুর স্পষ্ট জানিয়েছেন, AGM-এর অ্যাজেন্ডায় থাকা প্রস্তাবে, যেখানে বলা হয়েছিল 'কাপুর পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে' কাউকে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তিনি কোনও সম্মতি দেননি। তাঁর দাবি, 'আমার পক্ষ থেকে কেউ সোনা গ্রুপ বা তার কোনও কোম্পানির বোর্ডে আসার অনুমতি পায়নি। আমি কাউকে মনোনীত করিনি, কিংবা কোনওরকম ক্ষমতা প্রদান করিনি।'
চিঠিতে রানি কাপুর আরও দাবি করেন, কিছু শুভানুধ্যায়ী তাঁর কাছে সংস্থার ভিতরে চলা 'মারাত্মক অনিয়ম'-এর কথা জানিয়েছেন, যা তাঁকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে।
সঞ্জয় কাপুর, অটোমোবাইল ব্যবসার এক গুরুত্বপূর্ণ নাম ছিলেন। কারিশ্মার সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয় ২০১৬ সালে। পরে ২০১৭ সালে সঞ্জয় বিয়ে করেন মডেল প্রিয়া সচদেবকে। পরিবারে এই বিদ্বেষ এবং শক্তি প্রদর্শনের রাজনীতি, কার্যত এক বলিউডি পারিবারিক নাটকের চেহারা নিচ্ছে। এখন দেখার, এই বিতর্ক কোথায় গিয়ে থামে।