‘দরকার হলে আরও ৫ বার জেলে পাঠান!’ ৯ কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় দিল্লি হাইকোর্টে আবেগঘন আবেদন রাজপাল যাদবের।

রাজপাল যাদব
শেষ আপডেট: 3 April 2026 18:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯ কোটি টাকার দেনা এবং চেক বাউন্স মামলাকে কেন্দ্র করে বড় আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav)। তিহার জেলে প্রেরিত হওয়ার পর থেকেই এই মামলাকে ঘিরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ২ এপ্রিল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court) চেক বাউন্স মামলার (Cheque Bounce Case) রায় সংরক্ষিত রেখেছে। শুনানির সময় আদালতে আবেগঘন আবেদনও জানান অভিনেতা।
মামলার শুনানি করেন বিচারপতি স্বরনা কান্তা শর্মা। বকেয়া টাকা পরিশোধের বিষয়ে রাজপাল যাদবের বারবার অবস্থান পরিবর্তনে তিনি স্পষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, অঙ্গীকারপত্রে এক ধরনের কথা বলা হলেও পরে অন্য কথা বলা হচ্ছে, ফলে পরিষ্কার উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থান বদল নিয়ে আদালত কড়া মনোভাব গ্রহণ করে।
অভিযোগকারী সংস্থার পক্ষে আইনজীবী অবনীত সিং সিক্কা আদালতে জানান, অভিনেতা ইতিমধ্যেই তাঁর সাজা মেনে নিয়েছেন, তাই এখন আর দায় এড়ানোর কোনও সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে দায়ের করা পুনর্বিবেচনা আবেদনে ১৮৯৪ দিনের অস্বাভাবিক বিলম্ব ছিল এবং সেই বিলম্বের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য, সাজা ভোগ করলেই আর্থিক দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও বকেয়া টাকা পরিশোধ না হওয়ায় অভিযোগকারী বাধ্য হয়েই নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
শুনানির সময় আদালত দুই পক্ষকে সমঝোতার পথে আনতে একাধিকবার চেষ্টা করে। অভিযোগকারী সংস্থা পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে ৬ কোটি টাকা নিতে রাজি হয়। কিন্তু রাজপাল যাদব এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। ভার্চুয়ালি উপস্থিত হয়ে তিনি আদালতকে জানান, ইতিমধ্যেই তিনি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। পাঁচটি ফ্ল্যাট বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন এবং এর জন্য বড় অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। আবেগাপ্লুত হয়ে আদালতে তিনি বলেন, “দয়া করে আমাকে আরও পাঁচবার জেলে পাঠান।”