হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট কী, কতটা জটিল? দু'বার প্রয়োজন হয়েছিল কেন? সেই লড়াইয়ে সলমন খানের পাশে থাকার কথা জানালেন রীনা রাজু।
.jpeg.webp)
সলমন খান ও রীনা রাজু।
শেষ আপডেট: 3 April 2026 15:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবন-মৃত্যুর সীমানায় দাঁড়িয়ে থাকা এক কঠিন সময়। হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের মতো জটিল অস্ত্রোপচার। এমন সময়ে মানসিক শক্তিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় ভরসা। ঠিক এমনই এক লড়াইয়ের দিনগুলোতে পাশে পেয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা সলমন খানকে (Salman Khan)। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন রীনা।
রীনা রাজু (Reena Raju)। তিনিই দেশের প্রথম ও একমাত্র অ্যাথলিট, যাঁর দু'বার সফল হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে, মোট তিন-তিনটি হৃদযন্ত্রের সহায়তায় তিনি বেঁচে আছেন!
সলমন খানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সেই রীনা। তিনি জানান, প্রথম হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের আগে তিনি অভিনেতাকে মেসেজ করেছিলেন। তখন অস্ট্রেলিয়ায় শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও সলমন শুধু জবাবই দেননি, অস্ত্রোপচারের আগের রাতে প্রায় দু’ঘণ্টা ফোনে কথা বলে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে সাহস জুগিয়েছিলেন।
হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট বা হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন হল এমন একটি অস্ত্রোপচার, যেখানে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা অকার্যকর হৃদযন্ত্রকে বদলে দেওয়া হয় একটি সুস্থ দাতার হৃদযন্ত্র দিয়ে। সাধারণত শেষ পর্যায়ের হার্ট ফেইলিওর, জন্মগত ত্রুটি বা গুরুতর কার্ডিয়াক রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
এই অস্ত্রোপচার অত্যন্ত জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ। অপারেশনের আগে রোগীকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয় উপযুক্ত ডোনারের জন্য। অপারেশনের পরও ঝুঁকি শেষ হয় না—সংক্রমণ, অঙ্গ প্রত্যাখ্যান (organ rejection), এবং দীর্ঘমেয়াদি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়েই বাঁচতে হয়। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সমর্থন রোগীর সুস্থতায় বড় ভূমিকা নেয়।
রীনার কথায়, “অনেকেই হয়তো সলমন খানকে মেসেজ করেন, আমার মতোই। কিন্তু যে কোনও কারণেই হোক, তিনি আমার মেসেজের উত্তর দিয়েছিলেন। পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই সময়টা আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। তিনি আমাকে এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছেন।”
অস্ত্রোপচারের পর প্রায় দু’বছর যোগাযোগ না থাকলেও, ফের যোগাযোগ করলে অভিনেতা তাকে মনে রেখেছিলেন বলেও জানান রীনা। পরে নিজের ‘Light a Life’ ফাউন্ডেশনের কথা জানাতে গিয়ে তিনি আবার সালমানের সঙ্গে কথা বলেন, এবং সেখানেও একই রকম উৎসাহ পান।
২০১৮ সালে দ্বিতীয় ট্রান্সপ্লান্টের পর প্রথমবার মুম্বইয়ে সলমন খানের বাড়িতে তার সঙ্গে দেখা করেন রীনা। প্রথমে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হওয়ার কথা থাকলেও, তা দীর্ঘ সময়ের আড্ডায় পরিণত হয়। গান, নাচ, গল্পে কেটে যায় পুরো রাত।
রীনা জানান, সেই সময় নানা শারীরিক সমস্যার মধ্যেও তিনি মানসিকভাবে অনেকটাই চাঙা ছিলেন। পরে সলমন তাকে নিজের ছবি 'রেস থ্রি'-এর সেটেও নিয়ে যান, যেখানে তিনি একটি পুরো দিন কাটান।
এই সম্পর্কের উষ্ণতার একটি ছোট্ট উদাহরণও তুলে ধরেছেন রীনা। তিনি বলেন, একসময় মেসেজে একটি সাইকেলের কথা বলেছিলেন। পরে দেখা হলে, সলমন ঠিক মনে করে তাঁকে ‘Being Human’ ব্র্যান্ডের একটি সাদা সাইকেল উপহার দেন।
রীনার মতে, “এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যারা সত্যিই খেয়াল রাখেন।” এখনও কোনও শারীরিক সমস্যার মধ্যে পড়লে তিনি সলমনকে মেসেজ করেন, এবং সবসময়ই স্নেহভরা জবাব পান।
রীনা আরও জানান, তাঁর মতো বহু মানুষই সলমন খানের সাহায্য পেয়েছেন, যাদের গল্প জনসমক্ষে আসে না। তাঁর মতে, অভিনেতার এই মানবিক দিকটাই তাকে আলাদা করে তোলে।